প্রায় ১৭০ বছর আগে জার্মানির একটি চুনাপাথরের খনিতে কাজ করতে গিয়ে অদ্ভুত কিছু হাড় পেয়েছিলেন শ্রমিকেরা। প্রথমে সেগুলোকে সাধারণ হাড় কিংবা গুহায় বসবাসকারী ভালুকের দেহাবশেষ মনে করেছিলেন তাঁরা। গুরুত্ব না দেওয়ায় কিছু হাড় ফেলেও দেওয়া হয়। পরে গবেষণায় জানা যায়, সেগুলো ছিল নিয়ান্ডারথাল মানুষের দেহাবশেষ। মানুষের প্রাচীন ইতিহাস ও বিবর্তন গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে এই আবিষ্কার। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৮৫৬ সালে জার্মানির নিয়ান্ডার উপত্যকার একটি গুহায় চুনাপাথর উত্তোলনের সময় হাড়গুলো পাওয়া যায়। গুহা পরিষ্কার করতে গিয়ে শ্রমিকেরা এসব হাড়ের সন্ধান পান। পরে স্থানীয় শিক্ষক ও প্রকৃতিবিদ ইয়োহান কার্ল ফুলরট সেগুলো পরীক্ষা করে মানুষের দেহাবশেষ বলে শনাক্ত করেন। ১৮৫৭ সালে ফুলরট ও বিজ্ঞানী হারমান শাফহাউজেন তাঁদের অনুসন্ধানের ফল প্রকাশ করেন। হাড়গুলো পরে ‘নিয়ান্ডারথাল ১’ নামে পরিচিতি পায়।
আরও পড়ুন,পুনেতে ১৮ তলা থেকে পড়ে মা ও ছেলের মৃত্যু
স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের তথ্য অনুযায়ী, দেহাবশেষগুলো প্রায় ৪০ হাজার বছরের পুরোনো। তবে আবিষ্কারের পরও ওই স্থান নিয়ে গবেষণা অব্যাহত থাকে। ১৯৯৭ সাল থেকে সেখানে নতুন করে খননকাজ শুরু হয়। পরে ২০০২ সালে গবেষকেরা গুহার আশপাশের মাটির স্তর ও পুরোনো নমুনা পুনরায় পরীক্ষা করেন। এতে মানুষের আরও ২৪টি হাড়ের খণ্ড পাওয়া যায়। সেগুলোর কয়েকটি ১৮৫৬ সালে আবিষ্কৃত কঙ্কালের সঙ্গে মেলানো সম্ভব হয়। গবেষণায় দেখা যায়, ওই স্থান থেকে পাওয়া হাড়গুলো অন্তত তিনজন ভিন্ন ব্যক্তির। অর্থাৎ, প্রথম আবিষ্কারে পাওয়া কঙ্কালটি একাধিক মানুষের দেহাবশেষের অংশ ছিল।খনির কাজের কারণে গুহাটির মূল কাঠামো অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেলেও পরবর্তী গবেষণায় কার্বন ডেটিং, মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ বিশ্লেষণ ও হাড়ের গঠন পরীক্ষা করে নিয়ান্ডারথালদের পরিচয় ও অতীত সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যায়। শ্রমিকদের ফেলে দেওয়া সেই হাড়ই পরবর্তী সময়ে মানুষের বিবর্তনের ইতিহাস অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে। নিয়ান্ডারথাল মানুষের অস্তিত্ব ও জীবনযাপন নিয়ে গবেষণায় এই আবিষ্কার আজও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
প্রায় ১৭০ বছর আগে জার্মানির একটি চুনাপাথরের খনিতে কাজ করতে গিয়ে অদ্ভুত কিছু হাড় পেয়েছিলেন শ্রমিকেরা। প্রথমে সেগুলোকে সাধারণ হাড় কিংবা গুহায় বসবাসকারী ভালুকের দেহাবশেষ মনে করেছিলেন তাঁরা। গুরুত্ব না দেওয়ায় কিছু হাড় ফেলেও দেওয়া হয়। পরে গবেষণায় জানা যায়, সেগুলো ছিল নিয়ান্ডারথাল মানুষের দেহাবশেষ। মানুষের প্রাচীন ইতিহাস ও বিবর্তন গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে এই আবিষ্কার। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৮৫৬ সালে জার্মানির নিয়ান্ডার উপত্যকার একটি গুহায় চুনাপাথর উত্তোলনের সময় হাড়গুলো পাওয়া যায়। গুহা পরিষ্কার করতে গিয়ে শ্রমিকেরা এসব হাড়ের সন্ধান পান। পরে স্থানীয় শিক্ষক ও প্রকৃতিবিদ ইয়োহান কার্ল ফুলরট সেগুলো পরীক্ষা করে মানুষের দেহাবশেষ বলে শনাক্ত করেন। ১৮৫৭ সালে ফুলরট ও বিজ্ঞানী হারমান শাফহাউজেন তাঁদের অনুসন্ধানের ফল প্রকাশ করেন। হাড়গুলো পরে ‘নিয়ান্ডারথাল ১’ নামে পরিচিতি পায়।
আরও পড়ুন,পুনেতে ১৮ তলা থেকে পড়ে মা ও ছেলের মৃত্যু
স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের তথ্য অনুযায়ী, দেহাবশেষগুলো প্রায় ৪০ হাজার বছরের পুরোনো। তবে আবিষ্কারের পরও ওই স্থান নিয়ে গবেষণা অব্যাহত থাকে। ১৯৯৭ সাল থেকে সেখানে নতুন করে খননকাজ শুরু হয়। পরে ২০০২ সালে গবেষকেরা গুহার আশপাশের মাটির স্তর ও পুরোনো নমুনা পুনরায় পরীক্ষা করেন। এতে মানুষের আরও ২৪টি হাড়ের খণ্ড পাওয়া যায়। সেগুলোর কয়েকটি ১৮৫৬ সালে আবিষ্কৃত কঙ্কালের সঙ্গে মেলানো সম্ভব হয়। গবেষণায় দেখা যায়, ওই স্থান থেকে পাওয়া হাড়গুলো অন্তত তিনজন ভিন্ন ব্যক্তির। অর্থাৎ, প্রথম আবিষ্কারে পাওয়া কঙ্কালটি একাধিক মানুষের দেহাবশেষের অংশ ছিল।খনির কাজের কারণে গুহাটির মূল কাঠামো অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেলেও পরবর্তী গবেষণায় কার্বন ডেটিং, মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ বিশ্লেষণ ও হাড়ের গঠন পরীক্ষা করে নিয়ান্ডারথালদের পরিচয় ও অতীত সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যায়। শ্রমিকদের ফেলে দেওয়া সেই হাড়ই পরবর্তী সময়ে মানুষের বিবর্তনের ইতিহাস অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে। নিয়ান্ডারথাল মানুষের অস্তিত্ব ও জীবনযাপন নিয়ে গবেষণায় এই আবিষ্কার আজও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

আপনার মতামত লিখুন