দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

জনবল সংকটে কসবার ৫ সরকারি দপ্তর, ব্যাহত হচ্ছে সেবা কার্যক্রম

জনবল সংকটে কসবার ৫ সরকারি দপ্তর, ব্যাহত হচ্ছে সেবা কার্যক্রম
সেবা কার্যক্রম

জনবল সংকটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভাবে এসব দপ্তরে সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। পরিবার পরিকল্পনা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল, টেলিযোগাযোগ, বন বিভাগ ও মৎস্য দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে পদ শূন্য থাকা এবং অতিরিক্ত দায়িত্বের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার কারণে সেবার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোসাম্মৎ শিরিন আক্তার দীর্ঘদিন ধরে কসবা উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে মোট ১২৬টি স্থায়ী পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৬৩ জন। ফলে প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে সেবা প্রত্যাশীদের প্রয়োজনীয় সেবা পেতে ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে পদ শূন্য কসবা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ খোরশেদ আলম অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। দপ্তরটিতে আটজন জনবলের পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছেন ৬ জন। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা গেছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন-সংশ্লিষ্ট কসবা কার্যালয়েও জনবল সংকট রয়েছে। মাত্র তিনজন কর্মী দিয়ে দপ্তরটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। উপসহকারী ব্যবস্থাপক মো. শাহ আলম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সব উপজেলার দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। একাধিক এলাকার দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সেবা কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ তৈরি হচ্ছে। 

আরও পড়ুন,গাজীপুরে যুবদলের বর্নাঢ্য র‍্যালী ও আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত

কসবা উপজেলা বন কর্মকর্তার পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। মাত্র দুজন জনবল দিয়ে দপ্তরটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জনবল সংকটের কারণে সামাজিক বনায়নসহ বন বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনায় পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলা মৎস্য অফিসেও দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত দায়িত্বে কর্মকর্তার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মাত্র দুজন জনবল দিয়ে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মৎস্যচাষি বা খামারিকে সেবা দিতে হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এতে মাছ চাষের বিষয়ে পরামর্শ, কারিগরি সহায়তা ও অন্যান্য সেবা যথাসময়ে পাওয়া নিয়ে ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এদিকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসে ও রয়েছে প্রয়োজনীয় জন বলের  সংকট। চিকিৎসক নার্স ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী সংকটে সেবা কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হলেও সেবার মান বৃদ্ধি করার জন্য সর্বদা চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য  ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা  ডা:আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া। জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এ বিষয়ে কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, জনবল সংকট থাকলেও দপ্তরগুলোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট চলতে থাকায় সরকারি সেবা কার্যক্রমের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নিয়োগ, প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মকর্তা পদায়ন এবং অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপ কমানো গেলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে। পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা, জনস্বাস্থ্য, বন সংরক্ষণ ও মৎস্য খাতের সেবার মান উন্নত করতে প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে কসবা উপজেলার সাধারণ মানুষ আরও সহজে ও সময়মতো সরকারি সেবা পাবেন বলে আশা করছেন সেবা প্রত্যাশীরা।

বিষয় : কার্যক্রম ব্যাহত দপ্তর

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬


জনবল সংকটে কসবার ৫ সরকারি দপ্তর, ব্যাহত হচ্ছে সেবা কার্যক্রম

প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

জনবল সংকটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভাবে এসব দপ্তরে সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। পরিবার পরিকল্পনা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল, টেলিযোগাযোগ, বন বিভাগ ও মৎস্য দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে পদ শূন্য থাকা এবং অতিরিক্ত দায়িত্বের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার কারণে সেবার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোসাম্মৎ শিরিন আক্তার দীর্ঘদিন ধরে কসবা উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে মোট ১২৬টি স্থায়ী পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৬৩ জন। ফলে প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে সেবা প্রত্যাশীদের প্রয়োজনীয় সেবা পেতে ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে পদ শূন্য কসবা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ খোরশেদ আলম অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। দপ্তরটিতে আটজন জনবলের পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছেন ৬ জন। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা গেছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন-সংশ্লিষ্ট কসবা কার্যালয়েও জনবল সংকট রয়েছে। মাত্র তিনজন কর্মী দিয়ে দপ্তরটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। উপসহকারী ব্যবস্থাপক মো. শাহ আলম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সব উপজেলার দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। একাধিক এলাকার দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সেবা কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ তৈরি হচ্ছে। 

আরও পড়ুন,গাজীপুরে যুবদলের বর্নাঢ্য র‍্যালী ও আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত

কসবা উপজেলা বন কর্মকর্তার পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। মাত্র দুজন জনবল দিয়ে দপ্তরটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জনবল সংকটের কারণে সামাজিক বনায়নসহ বন বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনায় পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলা মৎস্য অফিসেও দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত দায়িত্বে কর্মকর্তার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মাত্র দুজন জনবল দিয়ে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মৎস্যচাষি বা খামারিকে সেবা দিতে হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এতে মাছ চাষের বিষয়ে পরামর্শ, কারিগরি সহায়তা ও অন্যান্য সেবা যথাসময়ে পাওয়া নিয়ে ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এদিকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসে ও রয়েছে প্রয়োজনীয় জন বলের  সংকট। চিকিৎসক নার্স ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী সংকটে সেবা কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হলেও সেবার মান বৃদ্ধি করার জন্য সর্বদা চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য  ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা  ডা:আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া। জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এ বিষয়ে কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, জনবল সংকট থাকলেও দপ্তরগুলোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট চলতে থাকায় সরকারি সেবা কার্যক্রমের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নিয়োগ, প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মকর্তা পদায়ন এবং অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপ কমানো গেলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে। পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা, জনস্বাস্থ্য, বন সংরক্ষণ ও মৎস্য খাতের সেবার মান উন্নত করতে প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে কসবা উপজেলার সাধারণ মানুষ আরও সহজে ও সময়মতো সরকারি সেবা পাবেন বলে আশা করছেন সেবা প্রত্যাশীরা।



দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
জনবল সংকটে কসবার ৫ সরকারি দপ্তর, ব্যাহত হচ্ছে সেবা কার্যক্রম
0:00 0:00
1.0x