জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করা বাপ্পীকে দেখতে গাজীপুরের শ্রীপুরে এসেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে উপজেলার চন্নাপাড়া এলাকায় বাপ্পীর খোঁজখবর নিতে গিয়ে তিনি বলেন, যাঁদের জীবনদান, অঙ্গহানি ও পঙ্গুত্বের বিনিময়ে দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, সেই জুলাই যোদ্ধাদের ভুলে গেলে চলবে না। তাঁদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। তাঁদের রক্ত, জীবনদান ও পঙ্গুত্বের বিনিময়ে দেশ নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ পেয়েছে। তাই যাঁদের ত্যাগের কারণে এই পরিবর্তন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা সরকারের কর্তব্য। তিনি বলেন, আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কোনোভাবেই বাধা হয়ে দাঁড়ানো উচিত নয়। চিকিৎসা নিতে গিয়ে তাঁরা যেন নতুন করে দুর্ভোগের শিকার না হন, সেদিকে সরকারকে বিশেষ নজর দিতে হবে। চিকিৎসায় অবহেলা ও গাফিলতি তাঁদের শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিক দুর্ভোগও বাড়িয়ে দিতে পারে। এ সময় এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, রাজনীতি কিংবা অন্য সব বিষয়ের ঊর্ধ্বে উঠে আহত জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি সরকারের বিশেষ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তাঁদের চিকিৎসা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, আহত যোদ্ধাদের আর্থিক সহায়তা, পুনর্বাসন, তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ছিল। এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন জরুরি। একটি রাজনৈতিক দল যতটুকু সহযোগিতা করতে পারে, রাষ্ট্রের পক্ষে তার চেয়ে অনেক বেশি করা সম্ভব।
আরও পড়ুন, ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে গঙ্গাচড়ায় জামায়াতের বিক্ষোভ সমাবেশ
সারজিস আলম আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আহত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকারের উচিত সেসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন ও তদারকি করা। বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধারা এ দেশের বীর। তাঁদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগের কারণেই বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে। আজ দেশকে ঘিরে যে নতুন স্বপ্ন ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার পেছনে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তিনি বলেন, অনেক আহত যোদ্ধা হয়তো আর কখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন না। তাঁদের জীবনের বাকি সময় যেন অসহায়ত্ব, অভাব ও অবহেলার মধ্যে কাটাতে না হয়, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও জনগণের দায়িত্ব। তাঁদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা দিতে হলে চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত বাপ্পীর মতো যোদ্ধাদের জীবনসংগ্রাম দেশের পরিবর্তনের জন্য তাঁদের আত্মত্যাগ এবং রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তাঁদের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক সহমর্মিতার বিষয় নয়, বরং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেরও অংশ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, ঢাকা বিভাগীয় উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল্লাহ হায়দার, সহসাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আলী নাসের খান, গাজীপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক আবু রায়হান মেজবাহ এবং এনসিপির শ্রীপুর উপজেলা শাখার সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম রায়হানসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
বিষয় : এনসিপি নাহিদ ইসলাম জুলাই গণ-অভ্যুত্থান

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করা বাপ্পীকে দেখতে গাজীপুরের শ্রীপুরে এসেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে উপজেলার চন্নাপাড়া এলাকায় বাপ্পীর খোঁজখবর নিতে গিয়ে তিনি বলেন, যাঁদের জীবনদান, অঙ্গহানি ও পঙ্গুত্বের বিনিময়ে দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, সেই জুলাই যোদ্ধাদের ভুলে গেলে চলবে না। তাঁদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। তাঁদের রক্ত, জীবনদান ও পঙ্গুত্বের বিনিময়ে দেশ নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ পেয়েছে। তাই যাঁদের ত্যাগের কারণে এই পরিবর্তন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা সরকারের কর্তব্য। তিনি বলেন, আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কোনোভাবেই বাধা হয়ে দাঁড়ানো উচিত নয়। চিকিৎসা নিতে গিয়ে তাঁরা যেন নতুন করে দুর্ভোগের শিকার না হন, সেদিকে সরকারকে বিশেষ নজর দিতে হবে। চিকিৎসায় অবহেলা ও গাফিলতি তাঁদের শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিক দুর্ভোগও বাড়িয়ে দিতে পারে। এ সময় এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, রাজনীতি কিংবা অন্য সব বিষয়ের ঊর্ধ্বে উঠে আহত জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি সরকারের বিশেষ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তাঁদের চিকিৎসা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, আহত যোদ্ধাদের আর্থিক সহায়তা, পুনর্বাসন, তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ছিল। এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন জরুরি। একটি রাজনৈতিক দল যতটুকু সহযোগিতা করতে পারে, রাষ্ট্রের পক্ষে তার চেয়ে অনেক বেশি করা সম্ভব।
আরও পড়ুন, ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে গঙ্গাচড়ায় জামায়াতের বিক্ষোভ সমাবেশ
সারজিস আলম আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আহত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকারের উচিত সেসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন ও তদারকি করা। বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধারা এ দেশের বীর। তাঁদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগের কারণেই বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে। আজ দেশকে ঘিরে যে নতুন স্বপ্ন ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার পেছনে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তিনি বলেন, অনেক আহত যোদ্ধা হয়তো আর কখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন না। তাঁদের জীবনের বাকি সময় যেন অসহায়ত্ব, অভাব ও অবহেলার মধ্যে কাটাতে না হয়, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও জনগণের দায়িত্ব। তাঁদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা দিতে হলে চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত বাপ্পীর মতো যোদ্ধাদের জীবনসংগ্রাম দেশের পরিবর্তনের জন্য তাঁদের আত্মত্যাগ এবং রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তাঁদের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক সহমর্মিতার বিষয় নয়, বরং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেরও অংশ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, ঢাকা বিভাগীয় উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল্লাহ হায়দার, সহসাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আলী নাসের খান, গাজীপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক আবু রায়হান মেজবাহ এবং এনসিপির শ্রীপুর উপজেলা শাখার সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম রায়হানসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

আপনার মতামত লিখুন