ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সম্ভাবনা ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে দক্ষিণ ভারতকে কেন্দ্র করে। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও তেলুগু দেশম পার্টির (টিডিপি) প্রধান চন্দ্রবাবু নাইডু দক্ষিণের রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিলে তা জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর দরকষাকষির ক্ষমতা আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তবে এই উদ্যোগ বিজেপিবিরোধী জোট গঠনের দিকে এগোচ্ছে এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রতিবেদনে নেই। জলবণ্টন, নদী সংযুক্তিকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও রাজ্যগুলোর অর্থনৈতিক স্বার্থের মতো বিষয় দক্ষিণের রাজ্যগুলোর মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা, তামিলনাড়ু, কর্নাটক ও কেরলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলীয় সমীকরণ অবশ্য এক নয়। ফলে প্রশাসনিক সহযোগিতা থেকে রাজনৈতিক জোট গড়ে ওঠার সম্ভাবনাকে আলাদা করে দেখতে হবে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনে এনডিএর শরিকদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ওই নির্বাচনে টিডিপি ১৬টি আসন পেয়ে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করে। ফলে কেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্ক এবং অন্ধ্রপ্রদেশের উন্নয়ন-সংক্রান্ত দাবি আদায়ে নাইডুর রাজনৈতিক ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্যের আর্থিক সহায়তা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশেষ মর্যাদার দাবি এবং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের মতো বিষয়ে টিডিপির অবস্থান কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে দরকষাকষিতে প্রভাব ফেলতে পারে চন্দ্রবাবু নাইডু অতীতে বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে কংগ্রেসের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতায় গিয়েছিলেন এবং ২০১৮ সালে বিজেপিবিরোধী জোটের উদ্যোগেও ভূমিকা রেখেছিলেন।
আরো পড়ুন,আমিরাত ও সৌদিকে সতর্ক করলেন ইরানি বিশ্লেষক
পরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যায়। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে তিনি আবার বিজেপির সঙ্গে জোট করেন এবং অন্ধ্রপ্রদেশে ক্ষমতায় ফেরেন। তাই দক্ষিণের রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগকে সরাসরি কংগ্রেসের সঙ্গে নতুন জোটের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। এ ধরনের জোটের সম্ভাবনা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর আনুষ্ঠানিক আলোচনা, রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশলের ওপর।দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে অর্থনীতি, অবকাঠামো, ভাষা, আর্থিক অধিকার ও কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের মতো বিষয়ে অভিন্ন অবস্থান তৈরি হলে জাতীয় রাজনীতিতে তার প্রভাব পড়তে পারে। তবে জলবণ্টন, আঞ্চলিক স্বার্থ, নেতৃত্ব ও নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে রাজ্যগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এসব বাধা পেরিয়ে পাঁচটি রাজ্যকে একই রাজনৈতিক অবস্থানে আনা সহজ নয়। চন্দ্রবাবু নাইডুর উদ্যোগ যদি উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সহযোগিতায় সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তার প্রভাব মূলত রাজ্যগুলোর অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে পড়বে। আর ভবিষ্যতে তা বৃহত্তর রাজনৈতিক সমন্বয়ে রূপ নিলে বিজেপি ও বিরোধী দল—উভয় শিবিরকেই নতুন করে কৌশল নির্ধারণ করতে হতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে মোদী সরকারের ওপর নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে বা সরকার পতনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নিশ্চিত তথ্য নেই। নাইডুর এনডিএর সঙ্গে সম্পর্ক, দক্ষিণের দলগুলোর আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী অবস্থানই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬
ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সম্ভাবনা ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে দক্ষিণ ভারতকে কেন্দ্র করে। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও তেলুগু দেশম পার্টির (টিডিপি) প্রধান চন্দ্রবাবু নাইডু দক্ষিণের রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিলে তা জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর দরকষাকষির ক্ষমতা আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তবে এই উদ্যোগ বিজেপিবিরোধী জোট গঠনের দিকে এগোচ্ছে এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রতিবেদনে নেই। জলবণ্টন, নদী সংযুক্তিকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও রাজ্যগুলোর অর্থনৈতিক স্বার্থের মতো বিষয় দক্ষিণের রাজ্যগুলোর মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা, তামিলনাড়ু, কর্নাটক ও কেরলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলীয় সমীকরণ অবশ্য এক নয়। ফলে প্রশাসনিক সহযোগিতা থেকে রাজনৈতিক জোট গড়ে ওঠার সম্ভাবনাকে আলাদা করে দেখতে হবে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনে এনডিএর শরিকদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ওই নির্বাচনে টিডিপি ১৬টি আসন পেয়ে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করে। ফলে কেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্ক এবং অন্ধ্রপ্রদেশের উন্নয়ন-সংক্রান্ত দাবি আদায়ে নাইডুর রাজনৈতিক ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্যের আর্থিক সহায়তা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশেষ মর্যাদার দাবি এবং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের মতো বিষয়ে টিডিপির অবস্থান কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে দরকষাকষিতে প্রভাব ফেলতে পারে চন্দ্রবাবু নাইডু অতীতে বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে কংগ্রেসের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতায় গিয়েছিলেন এবং ২০১৮ সালে বিজেপিবিরোধী জোটের উদ্যোগেও ভূমিকা রেখেছিলেন।
আরো পড়ুন,আমিরাত ও সৌদিকে সতর্ক করলেন ইরানি বিশ্লেষক
পরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যায়। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে তিনি আবার বিজেপির সঙ্গে জোট করেন এবং অন্ধ্রপ্রদেশে ক্ষমতায় ফেরেন। তাই দক্ষিণের রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগকে সরাসরি কংগ্রেসের সঙ্গে নতুন জোটের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। এ ধরনের জোটের সম্ভাবনা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর আনুষ্ঠানিক আলোচনা, রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশলের ওপর।দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে অর্থনীতি, অবকাঠামো, ভাষা, আর্থিক অধিকার ও কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের মতো বিষয়ে অভিন্ন অবস্থান তৈরি হলে জাতীয় রাজনীতিতে তার প্রভাব পড়তে পারে। তবে জলবণ্টন, আঞ্চলিক স্বার্থ, নেতৃত্ব ও নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে রাজ্যগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এসব বাধা পেরিয়ে পাঁচটি রাজ্যকে একই রাজনৈতিক অবস্থানে আনা সহজ নয়। চন্দ্রবাবু নাইডুর উদ্যোগ যদি উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সহযোগিতায় সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তার প্রভাব মূলত রাজ্যগুলোর অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে পড়বে। আর ভবিষ্যতে তা বৃহত্তর রাজনৈতিক সমন্বয়ে রূপ নিলে বিজেপি ও বিরোধী দল—উভয় শিবিরকেই নতুন করে কৌশল নির্ধারণ করতে হতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে মোদী সরকারের ওপর নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে বা সরকার পতনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নিশ্চিত তথ্য নেই। নাইডুর এনডিএর সঙ্গে সম্পর্ক, দক্ষিণের দলগুলোর আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী অবস্থানই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

আপনার মতামত লিখুন