বাংলাদেশে রাজস্ব খাত সংস্কারের উদ্যোগে নতুন করে গতি এসেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাড়ে ৪ শতক কোটি (৪৫০ কোটি) ডলারের নতুন ঋণ কর্মসূচির শর্ত হিসেবে এসব সংস্কার নিয়ে সরকারের আলোচনা চলছে। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক যৌথ সভার সাইডলাইন বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল রাজস্ব খাতের অগ্রগতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন। সংস্কারের অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হলো বর্তমান জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্ত করে ‘রাজস্ব নীতি’ ও ‘রাজস্ব আদায়’ নামে দুটি পৃথক বিভাগ তৈরি করা। বর্তমানে নীতি নির্ধারণ ও শুল্ক-কর আদায় দুই কাজই এনবিআর এককভাবে করে থাকে। এই কাজের পর্যালোচনার জন্য সরকার প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেছিল, যা ইতিমধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যানদের মতে,
আরোও পড়ুন,মালদ্বীপ থেকে ব্যাংকিং সেবায় গতি ফেরাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নরের চিঠি
করদাতাদের হয়রানি কমাতে এবং রাজস্ব প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনতে নীতি ও আদায় কার্যক্রম আলাদা করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া, এনবিআর বর্তমানে বিদ্যমান ১০টি ভ্যাট হারের পরিবর্তে ২০৩০ সালের মধ্যে একটি ‘একক ভ্যাট হার’ চালুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট থাকলেও ব্যবসায়ীরা তা কমিয়ে ৭.৫ শতাংশ করার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে, আইএমএফ ২০২৭ সালের মধ্যে সব ধরনের কর ছাড় তুলে দেওয়ার কথা বললেও, এনবিআর মনে করে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বার্থে একেবারে শতভাগ কর ছাড় প্রত্যাহার সম্ভব নয়। তবে রাজস্ব খাতের সার্বিক অটোমেশন ও প্রযুক্তি ব্যবহারে দুই পক্ষই একমত। অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থার শর্ত পূরণের বাইরেও দেশের রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংস্থানের জন্য এনবিআরের দ্রুত সংস্কার আবশ্যক।

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশে রাজস্ব খাত সংস্কারের উদ্যোগে নতুন করে গতি এসেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাড়ে ৪ শতক কোটি (৪৫০ কোটি) ডলারের নতুন ঋণ কর্মসূচির শর্ত হিসেবে এসব সংস্কার নিয়ে সরকারের আলোচনা চলছে। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক যৌথ সভার সাইডলাইন বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল রাজস্ব খাতের অগ্রগতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন। সংস্কারের অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হলো বর্তমান জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্ত করে ‘রাজস্ব নীতি’ ও ‘রাজস্ব আদায়’ নামে দুটি পৃথক বিভাগ তৈরি করা। বর্তমানে নীতি নির্ধারণ ও শুল্ক-কর আদায় দুই কাজই এনবিআর এককভাবে করে থাকে। এই কাজের পর্যালোচনার জন্য সরকার প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেছিল, যা ইতিমধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যানদের মতে,
আরোও পড়ুন,মালদ্বীপ থেকে ব্যাংকিং সেবায় গতি ফেরাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নরের চিঠি
করদাতাদের হয়রানি কমাতে এবং রাজস্ব প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনতে নীতি ও আদায় কার্যক্রম আলাদা করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া, এনবিআর বর্তমানে বিদ্যমান ১০টি ভ্যাট হারের পরিবর্তে ২০৩০ সালের মধ্যে একটি ‘একক ভ্যাট হার’ চালুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট থাকলেও ব্যবসায়ীরা তা কমিয়ে ৭.৫ শতাংশ করার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে, আইএমএফ ২০২৭ সালের মধ্যে সব ধরনের কর ছাড় তুলে দেওয়ার কথা বললেও, এনবিআর মনে করে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বার্থে একেবারে শতভাগ কর ছাড় প্রত্যাহার সম্ভব নয়। তবে রাজস্ব খাতের সার্বিক অটোমেশন ও প্রযুক্তি ব্যবহারে দুই পক্ষই একমত। অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থার শর্ত পূরণের বাইরেও দেশের রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংস্থানের জন্য এনবিআরের দ্রুত সংস্কার আবশ্যক।

আপনার মতামত লিখুন