রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও খুলনায় খুন, ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তারসহ নানা অপরাধে কিশোর-তরুণদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে কিছু গ্যাংয়ের কথিত আশ্রয়দাতা বা ‘বড়ভাই’ বদলালেও অপরাধের ধরন বদলায়নি। তবে এসব রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অস্বীকার করেছেন এবং পুলিশও প্রতিটি গ্যাংয়ের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখার কথা জানিয়েছে।খুলনায় কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নাগরিক সমাজে উদ্বেগ রয়েছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর নগরীর আহসান আহমেদ রোডে দুই নারীর ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় শিশু-কিশোরদের একটি দলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। কৌশলে ডিম ছুড়ে পথরোধ করে পরে ব্যাগ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়।এর আগে ১৯ আগস্ট লবণচরা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই তরুণ হত্যার ঘটনায় ১৪ থেকে ২০ বছর বয়সী কিশোর-তরুণদের সম্পৃক্ততা পায় পুলিশ। চুরি, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ছোট অপরাধী চক্রের মধ্যে বিরোধ থেকেই এমন সংঘর্ষের সূত্রপাত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
আরও পড়ুন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন ২৪ কর্মকর্তাকে বদলি
গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, খুলনা মহানগরীতে টিপসি বয়েজ, ডেঞ্জার বয়েজ, গোল্ডেন বয়েজ, কিং অব রূপসা ও টাইগার টিমসহ কয়েকটি কিশোর ও তরুণ গ্যাং সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব গ্রুপের বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয় পর্যায়ে আরও কয়েকটি সিনিয়র অপরাধী গ্রুপ কিশোরদের ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ অবশ্য কোনো নির্দিষ্ট গ্রুপের বিষয়ে তথ্য যাচাই ও তদন্তের কথা জানিয়েছে।কেএমপি কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ‘টাইগার টিম’ নামে কোনো বাহিনীর তথ্য পুলিশের কাছে নেই। তবে নগরীতে একাধিক অপরাধী গ্রুপ গড়ে ওঠার বিষয়টি তারা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছেন। তার মতে, কিশোর গ্যাং দমনে শুধু অভিযান নয়, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগও প্রয়োজন। অপরাধে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।কুমিল্লায় ‘রাও’ ও ‘ক্রাইম সেটআপ’সহ কয়েকটি কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এসব গ্রুপের সঙ্গে নতুন কিছু রাজনৈতিক নেতাকর্মীর যোগাযোগ তৈরি হয়েছে।সম্প্রতি কক্সবাজারে অভিযান চালিয়ে রাও গ্যাংয়ের প্রধান ইমরান হোসেন রতন ও তার সহযোগী সাইফুল ইসলাম এবং ক্রাইম সেটআপের প্রধান মো. সাব্বির ওরফে পয়েন্ট সাব্বির ও তার সহযোগী রবিউল ইসলাম নবী ওরফে কিং মেকারকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকজন কথিত ‘অভিভাবকের’ নাম উঠে এসেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
আরও পড়ুন, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২৫২ টাকা
কুমিল্লা ডিবির ওসি মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ জানান, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাং নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। ইতোমধ্যে বিপুলসংখ্যক কিশোর-তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং অন্যদের অভিভাবকদের জিম্মায় দিয়ে সতর্ক করা হচ্ছে।কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদুজ্জামান রানা বলেন, সংগঠনের কোনো নেতা কিশোর গ্যাংকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।চট্টগ্রামেও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। পুলিশের তথ্যানুযায়ী, গত কয়েক বছরে কিশোর গ্যাং-সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ও আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন অপরাধে কিশোর-তরুণদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।সিএমপির তালিকায় বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় কিশোর গ্যাংয়ের নাম রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এর মধ্যে ৫জি, ৭জি, ৭ বয়েজ, কিউট বয়েজ, এমবিএস, কেবি, এনএস, ৯৯৯, এক্স-মার্ক, ব্যাকহোল, ডট গ্যাং, বিসু, পাইথন, সেভেন স্টার ও ফাইভ স্টারের নাম আলোচনায় এসেছে।স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, স্টেশন রোড, কদমতলী, চকবাজার, সিআরবি, খুলশি, ফয়েস লেক, চান্দগাঁও, আগ্রাবাদ, হালিশহর ও পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যার পর কিশোরদের দলবদ্ধ চলাচল ও আড্ডার পাশাপাশি ছিনতাই ও মাদক বেচাকেনার ঘটনা ঘটে।
বিষয় : কিশোর গ্যাং তৎপরতা অপরাধে

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও খুলনায় খুন, ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তারসহ নানা অপরাধে কিশোর-তরুণদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে কিছু গ্যাংয়ের কথিত আশ্রয়দাতা বা ‘বড়ভাই’ বদলালেও অপরাধের ধরন বদলায়নি। তবে এসব রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অস্বীকার করেছেন এবং পুলিশও প্রতিটি গ্যাংয়ের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখার কথা জানিয়েছে।খুলনায় কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নাগরিক সমাজে উদ্বেগ রয়েছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর নগরীর আহসান আহমেদ রোডে দুই নারীর ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় শিশু-কিশোরদের একটি দলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। কৌশলে ডিম ছুড়ে পথরোধ করে পরে ব্যাগ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়।এর আগে ১৯ আগস্ট লবণচরা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই তরুণ হত্যার ঘটনায় ১৪ থেকে ২০ বছর বয়সী কিশোর-তরুণদের সম্পৃক্ততা পায় পুলিশ। চুরি, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ছোট অপরাধী চক্রের মধ্যে বিরোধ থেকেই এমন সংঘর্ষের সূত্রপাত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
আরও পড়ুন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন ২৪ কর্মকর্তাকে বদলি
গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, খুলনা মহানগরীতে টিপসি বয়েজ, ডেঞ্জার বয়েজ, গোল্ডেন বয়েজ, কিং অব রূপসা ও টাইগার টিমসহ কয়েকটি কিশোর ও তরুণ গ্যাং সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব গ্রুপের বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয় পর্যায়ে আরও কয়েকটি সিনিয়র অপরাধী গ্রুপ কিশোরদের ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ অবশ্য কোনো নির্দিষ্ট গ্রুপের বিষয়ে তথ্য যাচাই ও তদন্তের কথা জানিয়েছে।কেএমপি কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ‘টাইগার টিম’ নামে কোনো বাহিনীর তথ্য পুলিশের কাছে নেই। তবে নগরীতে একাধিক অপরাধী গ্রুপ গড়ে ওঠার বিষয়টি তারা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছেন। তার মতে, কিশোর গ্যাং দমনে শুধু অভিযান নয়, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগও প্রয়োজন। অপরাধে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।কুমিল্লায় ‘রাও’ ও ‘ক্রাইম সেটআপ’সহ কয়েকটি কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এসব গ্রুপের সঙ্গে নতুন কিছু রাজনৈতিক নেতাকর্মীর যোগাযোগ তৈরি হয়েছে।সম্প্রতি কক্সবাজারে অভিযান চালিয়ে রাও গ্যাংয়ের প্রধান ইমরান হোসেন রতন ও তার সহযোগী সাইফুল ইসলাম এবং ক্রাইম সেটআপের প্রধান মো. সাব্বির ওরফে পয়েন্ট সাব্বির ও তার সহযোগী রবিউল ইসলাম নবী ওরফে কিং মেকারকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকজন কথিত ‘অভিভাবকের’ নাম উঠে এসেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
আরও পড়ুন, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২৫২ টাকা
কুমিল্লা ডিবির ওসি মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ জানান, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাং নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। ইতোমধ্যে বিপুলসংখ্যক কিশোর-তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং অন্যদের অভিভাবকদের জিম্মায় দিয়ে সতর্ক করা হচ্ছে।কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদুজ্জামান রানা বলেন, সংগঠনের কোনো নেতা কিশোর গ্যাংকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।চট্টগ্রামেও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। পুলিশের তথ্যানুযায়ী, গত কয়েক বছরে কিশোর গ্যাং-সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ও আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন অপরাধে কিশোর-তরুণদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।সিএমপির তালিকায় বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় কিশোর গ্যাংয়ের নাম রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এর মধ্যে ৫জি, ৭জি, ৭ বয়েজ, কিউট বয়েজ, এমবিএস, কেবি, এনএস, ৯৯৯, এক্স-মার্ক, ব্যাকহোল, ডট গ্যাং, বিসু, পাইথন, সেভেন স্টার ও ফাইভ স্টারের নাম আলোচনায় এসেছে।স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, স্টেশন রোড, কদমতলী, চকবাজার, সিআরবি, খুলশি, ফয়েস লেক, চান্দগাঁও, আগ্রাবাদ, হালিশহর ও পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যার পর কিশোরদের দলবদ্ধ চলাচল ও আড্ডার পাশাপাশি ছিনতাই ও মাদক বেচাকেনার ঘটনা ঘটে।

আপনার মতামত লিখুন