রাজধানী মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ৩০ জনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও বাকি ১৪ জন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। গ্রেপ্তার এড়াতে বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের বহিষ্কৃত নেতা-কর্মীদের অনেকে গা ঢাকা দিয়েছেন।পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোন-সংক্রান্ত তথ্য এবং স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের তথ্য মিলিয়ে হামলায় অংশ নেওয়া ও নির্দেশনা দেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে একাধিক স্থানে অভিযান চালানো হলেও শুক্রবার (২ অক্টোবর) নতুন করে কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।শাহ আলীর গুদারাঘাট থেকে নুর আলম গ্রেপ্তার,সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে শাহ আলীর গুদারাঘাট এলাকা থেকে নুর আলমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি শাহ আলী থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ওরফে শুটার লেলিনের অন্যতম সহযোগী বলে জানা গেছে। রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে সোহেল, জুয়েল, জিহাদ হাসান, রাব্বি, সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির অফিস সহকারী শাহাদাত হোসেন, কাজী মকবুল হোসেন, সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির সম্পাদক শাহ আলম, সমিতির সদস্য আতিকুর রহমান ও কামরুল ইসলাম, শাকিল, ভাঙচুর ও লুটপাটে অংশ নেওয়া মিন্টু ও মিলন, শাহ আলী থানা বিএনপির সদস্য সাইফুল ইসলাম খোকন, শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি আলম এবং ভেকু বহনকারী লোবেড গাড়ির চালক শহীদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলার আগে জড়ো হওয়ার তথ্য সিসিটিভিতে,গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ভাঙচুর ও লুটপাটের পর ভারী যন্ত্র দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির স্থাপনার একটি বড় অংশ গুঁড়িয়ে দেয়।
আরও পড়ুন,এনসিটি-সিসিটি ইজারা উদ্যোগ বাতিলের দাবিতে ৫ অক্টোবর বন্দরের প্রধান ফটকে অবস্থান
পরে সেখানে সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাইনবোর্ড ও ব্যানার টাঙানো হয়। তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হামলার আগে রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে শাহ আলী থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ওরফে শুটার লেলিনের কার্যালয়ের সামনে লোকজন জড়ো হন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হানিফ মিয়ার কার্যালয়ের সামনেও হামলাকারীদের জড়ো হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বি-ব্লক মাঠসংলগ্ন একটি কার্যালয়ের সামনে লোকজন জড়ো হওয়ার দৃশ্য আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া গেছে।পরে হামলা কারীদের একটি অংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্র সংলগ্ন ছিন্নমূল মার্কেটের কাছে যায়। সেখানে লাঠিসোঁটা, রামদা ও হাতুড়িসহ দেশীয় অস্ত্র সংগ্রহ করা হয় বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। হামলায় যাওয়ার আগে অনেকে মাথায় কাপড় বাঁধেন এবং মুখ ঢেকে নেন। ঘটনা স্থলের আশপাশের ফুটেজে ওই সময় একটি সাদা মাইক্রোবাস চলাচল করতেও দেখা গেছে।ঘটনাস্থলের পাশে আন-নূরী জামে মসজিদসংলগ্ন ৬/৬ নম্বর সড়কের একটি ফুটেজে হামলার সময় স্থানীয় শাহ আলী থানা শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইব্রাহিমসহ কয়েকজনকে লাঠি হাতে দেখা যায় বলে জানানো হয়েছে।হামলা ও ভাঙচুরের সময় হানিফ মিয়া, মোস্তফা জগলুল পাশা ওরফে পাপেল এবং আবুল কালাম আজাদ ওরফে শুটার লেলিন সাদা মাইক্রোবাসে ঘটনাস্থলের আশপাশে ঘুরে নির্দেশনা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।দল থেকে বহিষ্কার ১৪ নেতা-কর্মী,রাড্ডার ঘটনায় শাহ আলী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খলিল চৌধুরী, সি ব্লক ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, ৯৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্য সচিব শান্ত রহমান, অটোরিকশা শ্রমিক দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও সদস্য হুজাইফাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।এ ছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য হাফিজুর রহমান শুভ্র, দারুস সালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আক্তার হোসেন মামুন, সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান, দারুস সালাম শ্রমিক দলের আহ্বায়ক গোলাম রসুল পারভেজ, শাহ আলী থানা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন, ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সহসভাপতি সারোয়ার আলম পিয়াস, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, দারুস সালাম থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন দিপু এবং সদস্য সচিব ওমর নাঈমকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।পুলিশ বলছে, তদন্তে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার পর বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ওই ১৪ নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়। তবে দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে রাড্ডার ঘটনার কথা সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। তাঁদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আরও পড়ুন,গঙ্গাচড়ায় সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হামলার অভিযোগ
বহিষ্কৃত এসব নেতা-কর্মী ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেলের অনুসারী বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তার এড়াতে তাঁরা গা ঢাকা দিয়েছেন।সাজ্জাদুল মিরাজের অভিযোগ,ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্য সচিব সাজ্জাদুল মিরাজ বলেন, হামলায় জড়িতদের তিনি চেনেন। ঘটনা ঘটার পর তিনি থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপকমিশনারকে বিষয়টি জানিয়ে ছিলেন। তাঁর দাবি, তাঁর দেওয়া তথ্য সঠিক নয় বলে তাঁকে জানানো হয়েছিল।সাজ্জাদুল মিরাজ আরও বলেন, তৎকালীন ওসি নিজেই ট্রাকে মালামাল তুলেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন। পরদিন রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার দৃশ্য সবাই দেখতে পান বলেও তিনি জানান।মামলায় ২৫০ অজ্ঞাত আসামি,হামলার পরদিন শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের পক্ষ থেকে শাহ আলী থানায় মামলা করা হয়। মামলায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ মিয়াসহ আরও ২৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের নাম সামনে আসার পর সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পদত্যাগ করেন।৩০ জন শনাক্তের কথা জানাল পুলিশ ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার জানান, হামলার নির্দেশদাতাদের মধ্যে প্রায় ৩০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কেউই হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করছেন না। তবে প্রযুক্তির মাধ্যমে তাঁদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাকিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
বিষয় : শনাক্ত ধরাছোঁয়ার

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানী মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ৩০ জনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও বাকি ১৪ জন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। গ্রেপ্তার এড়াতে বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের বহিষ্কৃত নেতা-কর্মীদের অনেকে গা ঢাকা দিয়েছেন।পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোন-সংক্রান্ত তথ্য এবং স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের তথ্য মিলিয়ে হামলায় অংশ নেওয়া ও নির্দেশনা দেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে একাধিক স্থানে অভিযান চালানো হলেও শুক্রবার (২ অক্টোবর) নতুন করে কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।শাহ আলীর গুদারাঘাট থেকে নুর আলম গ্রেপ্তার,সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে শাহ আলীর গুদারাঘাট এলাকা থেকে নুর আলমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি শাহ আলী থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ওরফে শুটার লেলিনের অন্যতম সহযোগী বলে জানা গেছে। রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে সোহেল, জুয়েল, জিহাদ হাসান, রাব্বি, সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির অফিস সহকারী শাহাদাত হোসেন, কাজী মকবুল হোসেন, সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির সম্পাদক শাহ আলম, সমিতির সদস্য আতিকুর রহমান ও কামরুল ইসলাম, শাকিল, ভাঙচুর ও লুটপাটে অংশ নেওয়া মিন্টু ও মিলন, শাহ আলী থানা বিএনপির সদস্য সাইফুল ইসলাম খোকন, শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি আলম এবং ভেকু বহনকারী লোবেড গাড়ির চালক শহীদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলার আগে জড়ো হওয়ার তথ্য সিসিটিভিতে,গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ভাঙচুর ও লুটপাটের পর ভারী যন্ত্র দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির স্থাপনার একটি বড় অংশ গুঁড়িয়ে দেয়।
আরও পড়ুন,এনসিটি-সিসিটি ইজারা উদ্যোগ বাতিলের দাবিতে ৫ অক্টোবর বন্দরের প্রধান ফটকে অবস্থান
পরে সেখানে সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাইনবোর্ড ও ব্যানার টাঙানো হয়। তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হামলার আগে রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে শাহ আলী থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ওরফে শুটার লেলিনের কার্যালয়ের সামনে লোকজন জড়ো হন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হানিফ মিয়ার কার্যালয়ের সামনেও হামলাকারীদের জড়ো হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বি-ব্লক মাঠসংলগ্ন একটি কার্যালয়ের সামনে লোকজন জড়ো হওয়ার দৃশ্য আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া গেছে।পরে হামলা কারীদের একটি অংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্র সংলগ্ন ছিন্নমূল মার্কেটের কাছে যায়। সেখানে লাঠিসোঁটা, রামদা ও হাতুড়িসহ দেশীয় অস্ত্র সংগ্রহ করা হয় বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। হামলায় যাওয়ার আগে অনেকে মাথায় কাপড় বাঁধেন এবং মুখ ঢেকে নেন। ঘটনা স্থলের আশপাশের ফুটেজে ওই সময় একটি সাদা মাইক্রোবাস চলাচল করতেও দেখা গেছে।ঘটনাস্থলের পাশে আন-নূরী জামে মসজিদসংলগ্ন ৬/৬ নম্বর সড়কের একটি ফুটেজে হামলার সময় স্থানীয় শাহ আলী থানা শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইব্রাহিমসহ কয়েকজনকে লাঠি হাতে দেখা যায় বলে জানানো হয়েছে।হামলা ও ভাঙচুরের সময় হানিফ মিয়া, মোস্তফা জগলুল পাশা ওরফে পাপেল এবং আবুল কালাম আজাদ ওরফে শুটার লেলিন সাদা মাইক্রোবাসে ঘটনাস্থলের আশপাশে ঘুরে নির্দেশনা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।দল থেকে বহিষ্কার ১৪ নেতা-কর্মী,রাড্ডার ঘটনায় শাহ আলী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খলিল চৌধুরী, সি ব্লক ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, ৯৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্য সচিব শান্ত রহমান, অটোরিকশা শ্রমিক দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও সদস্য হুজাইফাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।এ ছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য হাফিজুর রহমান শুভ্র, দারুস সালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আক্তার হোসেন মামুন, সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান, দারুস সালাম শ্রমিক দলের আহ্বায়ক গোলাম রসুল পারভেজ, শাহ আলী থানা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন, ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সহসভাপতি সারোয়ার আলম পিয়াস, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, দারুস সালাম থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন দিপু এবং সদস্য সচিব ওমর নাঈমকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।পুলিশ বলছে, তদন্তে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার পর বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ওই ১৪ নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়। তবে দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে রাড্ডার ঘটনার কথা সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। তাঁদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আরও পড়ুন,গঙ্গাচড়ায় সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হামলার অভিযোগ
বহিষ্কৃত এসব নেতা-কর্মী ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেলের অনুসারী বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তার এড়াতে তাঁরা গা ঢাকা দিয়েছেন।সাজ্জাদুল মিরাজের অভিযোগ,ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্য সচিব সাজ্জাদুল মিরাজ বলেন, হামলায় জড়িতদের তিনি চেনেন। ঘটনা ঘটার পর তিনি থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপকমিশনারকে বিষয়টি জানিয়ে ছিলেন। তাঁর দাবি, তাঁর দেওয়া তথ্য সঠিক নয় বলে তাঁকে জানানো হয়েছিল।সাজ্জাদুল মিরাজ আরও বলেন, তৎকালীন ওসি নিজেই ট্রাকে মালামাল তুলেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন। পরদিন রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার দৃশ্য সবাই দেখতে পান বলেও তিনি জানান।মামলায় ২৫০ অজ্ঞাত আসামি,হামলার পরদিন শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের পক্ষ থেকে শাহ আলী থানায় মামলা করা হয়। মামলায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ মিয়াসহ আরও ২৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের নাম সামনে আসার পর সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পদত্যাগ করেন।৩০ জন শনাক্তের কথা জানাল পুলিশ ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার জানান, হামলার নির্দেশদাতাদের মধ্যে প্রায় ৩০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কেউই হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করছেন না। তবে প্রযুক্তির মাধ্যমে তাঁদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাকিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

আপনার মতামত লিখুন