জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া দীর্ঘ এক স্ট্যাটাসে তিনি জুলাই আন্দোলনের পর দেশের রাজনীতি, আন্দোলনের নেতৃত্ব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনমত তৈরি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ভূমিকা নিয়ে নিজের ক্ষোভ ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য নিয়ে একই দিন একাধিক সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।স্ট্যাটাসে উমামা ফাতেমা দাবি করেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের ন্যূনতম সম্পর্ক না থাকা অনেক ব্যক্তি পরবর্তী সময়ে নেতৃত্বে উঠে এসেছেন। তিনি আন্দোলনের সময় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনকে বাদ দিয়ে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর সদস্যদের সমন্বয়ক কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও করেন।জুলাই আন্দোলনের পর রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিকাশ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, আন্দোলনের স্বতঃস্ফূর্ত চরিত্রকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন উমামা। তাঁর দাবি, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে জনমত তৈরি করতে পারে এবং তরুণদের মধ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের ‘হিরো’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন. অন্যায়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে: চরমোনাই পীর
এ ধরনের প্রচেষ্টার মাধ্যমে তরুণদের রাজনৈতিক সম্ভাবনা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে চলে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।মিয়ানমারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়েও মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কীভাবে জনমত ও সামাজিক পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে, সেটি নিয়ে বাংলাদেশেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন উমামা ফাতেমা। তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিতে এক ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে এবং এর পেছনে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ভূমিকা রয়েছে।স্ট্যাটাসের শেষ দিকে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে জামায়াতের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, দলটি নিজেদের বিরুদ্ধে থাকা ঐতিহাসিক অভিযোগের দায় আড়াল করতে দেশের রাজনীতিকে যেকোনো পর্যায়ে নিয়ে যেতে প্রস্তুত।উমামা ফাতেমা এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর সময়ও সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম ও নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। ২০২৫ সালে সংগঠন ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করেছিলেন বলে bdnews24-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বিষয় : বৈষম্যবিরোধী স্ট্যাটাস উমামা ফাতেমা

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬
জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া দীর্ঘ এক স্ট্যাটাসে তিনি জুলাই আন্দোলনের পর দেশের রাজনীতি, আন্দোলনের নেতৃত্ব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনমত তৈরি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ভূমিকা নিয়ে নিজের ক্ষোভ ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য নিয়ে একই দিন একাধিক সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।স্ট্যাটাসে উমামা ফাতেমা দাবি করেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের ন্যূনতম সম্পর্ক না থাকা অনেক ব্যক্তি পরবর্তী সময়ে নেতৃত্বে উঠে এসেছেন। তিনি আন্দোলনের সময় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনকে বাদ দিয়ে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর সদস্যদের সমন্বয়ক কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও করেন।জুলাই আন্দোলনের পর রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিকাশ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, আন্দোলনের স্বতঃস্ফূর্ত চরিত্রকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন উমামা। তাঁর দাবি, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে জনমত তৈরি করতে পারে এবং তরুণদের মধ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের ‘হিরো’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন. অন্যায়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে: চরমোনাই পীর
এ ধরনের প্রচেষ্টার মাধ্যমে তরুণদের রাজনৈতিক সম্ভাবনা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে চলে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।মিয়ানমারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়েও মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কীভাবে জনমত ও সামাজিক পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে, সেটি নিয়ে বাংলাদেশেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন উমামা ফাতেমা। তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিতে এক ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে এবং এর পেছনে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ভূমিকা রয়েছে।স্ট্যাটাসের শেষ দিকে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে জামায়াতের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, দলটি নিজেদের বিরুদ্ধে থাকা ঐতিহাসিক অভিযোগের দায় আড়াল করতে দেশের রাজনীতিকে যেকোনো পর্যায়ে নিয়ে যেতে প্রস্তুত।উমামা ফাতেমা এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর সময়ও সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম ও নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। ২০২৫ সালে সংগঠন ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করেছিলেন বলে bdnews24-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন