বরিশাল নগরীতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নগরীর অধিকাংশ খুচরা দোকানে মিলছে না গ্যাসের সিলিন্ডার। কোথাও সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। আবার কোনো কোনো দোকানে বেশি দাম দিতে চাইলেও মিলছে না গ্যাস। একই সঙ্গে নগরীর বেশ কয়েকটি এলপিজি ফিলিং স্টেশনে সরবরাহ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্যাসচালিত থ্রি-হুইলার চালকরা।ফলে একদিকে রান্নার গ্যাসের সংকটে পড়েছেন নগরবাসী। অন্যদিকে পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় আয়-রোজগার নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন থ্রি-হুইলার চালকরা। সরবরাহ সংকটকে পুঁজি করে কোনো কোনো দোকানে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগও উঠেছে।নগরীর কাউনিয়ার বাসিন্দা মাহমুদা বেগম জানান, এলাকার একাধিক দোকানে ঘুরেও গ্যাস সিলিন্ডার পাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত বাড়তি দামে সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে। তার ভাষ্য, রান্না বন্ধ রাখা সম্ভব নয় বলেই বাধ্য হয়ে বেশি দামে গ্যাস কিনতে হয়েছে।
আরও পড়ুন, গাজীপুরে সাংবাদিকতার পরিচয়ে দাপট, পরিচয়পত্র ও ফেসবুক পোস্ট ঘিরে প্রশ্ন
প্যারারা রোডের বাসিন্দা নুরু মিয়া জানান, কয়েক দিন আগে যে সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৬৫০ টাকা মঙ্গলবার সেটিই ১ হাজার ৭৫০ টাকায় কিনতে হয়েছে। এরপরও পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। শহরতলির কিছু এলাকায় একই পরিমাণ সিলিন্ডার ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।খুচরা বিক্রেতা আবদুর রাজ্জাকের দাবি, বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে বলেই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। কোম্পানি থেকে চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার না পাওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে।সান গ্যাসের বরিশালের ডিলার মো. জুয়েল জানান, ২৬ সেপ্টেম্বর পাইকারি বাজারে সিলিন্ডারপ্রতি ৫৫ টাকা দাম বেড়েছে। তবে প্রায় এক মাস ধরে কোম্পানিগুলো ডিলারদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। এতে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন, শিক্ষিকাকে অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ, ছাত্রদল নেতার
এদিকে এলপিজিচালিত থ্রি-হুইলার চালকরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। চালকদের দাবি, বরিশাল নগরীর ১০টি এলপিজি ফিলিং স্টেশনের কোনোটিতেই চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। অর্ধেকের বেশি স্টেশনে দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাস থাকছে না।চালক আবদুর রহমান জানান, চৌমাথা ও গরিয়ারপাড় এলাকার মদিনা ফিলিং স্টেশন, রুপাতলীর ডোস্ট ফিলিং স্টেশন, কেডি ফিলিং স্টেশন এবং কাশীপুরের সুরভী ফিলিং স্টেশনে কয়েক দিন ধরে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।বরিশালে প্রায় ২ হাজার ৬০০ অনুমোদিত গ্যাসচালিত থ্রি-হুইলার রয়েছে। এসব যানবাহনের চালকদের বড় একটি অংশের জীবিকা প্রতিদিন পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়ার ওপর নির্ভরশীল।রুপাতলীর ডোস্ট ফিলিং স্টেশনের কর্মকর্তা শাওন জানান, কয়েক দিন ধরে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাস বিক্রি বন্ধ রাখতে হচ্ছে।এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইন্দ্রানী দাস জানান, এলপিজি সংকটের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। পরবর্তী কার্যদিবস থেকে এ বিষয়ে তদারকি শুরু করা হবে।
বিষয় : সিলিন্ডার বাড়তি দাম এলপিজি সংকট

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বরিশাল নগরীতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নগরীর অধিকাংশ খুচরা দোকানে মিলছে না গ্যাসের সিলিন্ডার। কোথাও সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। আবার কোনো কোনো দোকানে বেশি দাম দিতে চাইলেও মিলছে না গ্যাস। একই সঙ্গে নগরীর বেশ কয়েকটি এলপিজি ফিলিং স্টেশনে সরবরাহ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্যাসচালিত থ্রি-হুইলার চালকরা।ফলে একদিকে রান্নার গ্যাসের সংকটে পড়েছেন নগরবাসী। অন্যদিকে পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় আয়-রোজগার নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন থ্রি-হুইলার চালকরা। সরবরাহ সংকটকে পুঁজি করে কোনো কোনো দোকানে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগও উঠেছে।নগরীর কাউনিয়ার বাসিন্দা মাহমুদা বেগম জানান, এলাকার একাধিক দোকানে ঘুরেও গ্যাস সিলিন্ডার পাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত বাড়তি দামে সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে। তার ভাষ্য, রান্না বন্ধ রাখা সম্ভব নয় বলেই বাধ্য হয়ে বেশি দামে গ্যাস কিনতে হয়েছে।
আরও পড়ুন, গাজীপুরে সাংবাদিকতার পরিচয়ে দাপট, পরিচয়পত্র ও ফেসবুক পোস্ট ঘিরে প্রশ্ন
প্যারারা রোডের বাসিন্দা নুরু মিয়া জানান, কয়েক দিন আগে যে সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৬৫০ টাকা মঙ্গলবার সেটিই ১ হাজার ৭৫০ টাকায় কিনতে হয়েছে। এরপরও পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। শহরতলির কিছু এলাকায় একই পরিমাণ সিলিন্ডার ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।খুচরা বিক্রেতা আবদুর রাজ্জাকের দাবি, বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে বলেই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। কোম্পানি থেকে চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার না পাওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে।সান গ্যাসের বরিশালের ডিলার মো. জুয়েল জানান, ২৬ সেপ্টেম্বর পাইকারি বাজারে সিলিন্ডারপ্রতি ৫৫ টাকা দাম বেড়েছে। তবে প্রায় এক মাস ধরে কোম্পানিগুলো ডিলারদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। এতে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন, শিক্ষিকাকে অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ, ছাত্রদল নেতার
এদিকে এলপিজিচালিত থ্রি-হুইলার চালকরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। চালকদের দাবি, বরিশাল নগরীর ১০টি এলপিজি ফিলিং স্টেশনের কোনোটিতেই চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। অর্ধেকের বেশি স্টেশনে দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাস থাকছে না।চালক আবদুর রহমান জানান, চৌমাথা ও গরিয়ারপাড় এলাকার মদিনা ফিলিং স্টেশন, রুপাতলীর ডোস্ট ফিলিং স্টেশন, কেডি ফিলিং স্টেশন এবং কাশীপুরের সুরভী ফিলিং স্টেশনে কয়েক দিন ধরে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।বরিশালে প্রায় ২ হাজার ৬০০ অনুমোদিত গ্যাসচালিত থ্রি-হুইলার রয়েছে। এসব যানবাহনের চালকদের বড় একটি অংশের জীবিকা প্রতিদিন পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়ার ওপর নির্ভরশীল।রুপাতলীর ডোস্ট ফিলিং স্টেশনের কর্মকর্তা শাওন জানান, কয়েক দিন ধরে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাস বিক্রি বন্ধ রাখতে হচ্ছে।এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইন্দ্রানী দাস জানান, এলপিজি সংকটের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। পরবর্তী কার্যদিবস থেকে এ বিষয়ে তদারকি শুরু করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন