মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ ও ব্যাংকঋণের চাহিদা বাড়ানোর লক্ষ্যকে সামনে রেখে নতুন মুদ্রানীতি নিয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে জুলাইয়ে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ।এমন পরিস্থিতিতে একদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা, অন্যদিকে স্থবির হয়ে থাকা বেসরকারি বিনিয়োগে গতি ফেরানো এবং উৎপাদনশীল খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়ানো—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা নতুন মুদ্রানীতির অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য বলছে, জুলাইয়ে বেসরকারি খাতে ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৮ লাখ ২৩ হাজার ১০২ কোটি টাকা, যা এক বছর আগের তুলনায় ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। জুনে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ।ঋণের চাহিদা কম থাকার পেছনে বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা, ব্যবসার পরিবেশ, জ্বালানি পরিস্থিতি এবং তুলনামূলক উচ্চ সুদহারসহ বিভিন্ন কারণ কাজ করছে বলে খাতসংশ্লিষ্টদের মত। অন্যদিকে, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আমানত ও তারল্য থাকলেও উদ্যোক্তাদের ঋণ নেওয়ার
আড়ও পড়ুন,দেশভাগের পর প্রথমবার ব্রহ্মপুত্র নদপথে ভারত থেকে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক পণ্য
আগ্রহ কম থাকায় সেই অর্থের একটি বড় অংশ উৎপাদনশীল বিনিয়োগে যাচ্ছে না।ঋণপ্রবাহ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক গত ২ আগস্ট নীতি সুদহার বা রেপো রেট ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ করে। একই সঙ্গে স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটির হার ১১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতিতেও কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ সাপ্তাহিক অর্থনৈতিক সূচক অনুযায়ী, আগস্টে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমেছে, যা জুলাইয়ের ৮ দশমিক ৩২ শতাংশের চেয়ে কম। তবে মূল্যস্ফীতি এখনো ৮ শতাংশের ওপরে থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে চাপ পুরোপুরি কমেনি।বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে বর্তমানে ২০২৬ সালের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদের নতুন মুদ্রানীতি প্রকাশিত হয়েছে। এতে মূল্যস্থিতি বজায় রাখার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরানোর বিষয়টিও নীতিগত আলোচনার অংশ হয়েছে।ফলে সামনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য বড় প্রশ্ন হলো—মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার কঠোর অবস্থান বজায় রেখেও কীভাবে বেসরকারি খাতে ঋণ ও বিনিয়োগের গতি বাড়ানো যায়। অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং উৎপাদনশীল খাতে অর্থের প্রবাহ বাড়াতে এই ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিষয় : মূল্যস্ফীতি মুদ্রানীতি

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ ও ব্যাংকঋণের চাহিদা বাড়ানোর লক্ষ্যকে সামনে রেখে নতুন মুদ্রানীতি নিয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে জুলাইয়ে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ।এমন পরিস্থিতিতে একদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা, অন্যদিকে স্থবির হয়ে থাকা বেসরকারি বিনিয়োগে গতি ফেরানো এবং উৎপাদনশীল খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়ানো—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা নতুন মুদ্রানীতির অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য বলছে, জুলাইয়ে বেসরকারি খাতে ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৮ লাখ ২৩ হাজার ১০২ কোটি টাকা, যা এক বছর আগের তুলনায় ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। জুনে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ।ঋণের চাহিদা কম থাকার পেছনে বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা, ব্যবসার পরিবেশ, জ্বালানি পরিস্থিতি এবং তুলনামূলক উচ্চ সুদহারসহ বিভিন্ন কারণ কাজ করছে বলে খাতসংশ্লিষ্টদের মত। অন্যদিকে, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আমানত ও তারল্য থাকলেও উদ্যোক্তাদের ঋণ নেওয়ার
আড়ও পড়ুন,দেশভাগের পর প্রথমবার ব্রহ্মপুত্র নদপথে ভারত থেকে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক পণ্য
আগ্রহ কম থাকায় সেই অর্থের একটি বড় অংশ উৎপাদনশীল বিনিয়োগে যাচ্ছে না।ঋণপ্রবাহ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক গত ২ আগস্ট নীতি সুদহার বা রেপো রেট ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ করে। একই সঙ্গে স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটির হার ১১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতিতেও কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ সাপ্তাহিক অর্থনৈতিক সূচক অনুযায়ী, আগস্টে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমেছে, যা জুলাইয়ের ৮ দশমিক ৩২ শতাংশের চেয়ে কম। তবে মূল্যস্ফীতি এখনো ৮ শতাংশের ওপরে থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে চাপ পুরোপুরি কমেনি।বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে বর্তমানে ২০২৬ সালের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদের নতুন মুদ্রানীতি প্রকাশিত হয়েছে। এতে মূল্যস্থিতি বজায় রাখার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরানোর বিষয়টিও নীতিগত আলোচনার অংশ হয়েছে।ফলে সামনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য বড় প্রশ্ন হলো—মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার কঠোর অবস্থান বজায় রেখেও কীভাবে বেসরকারি খাতে ঋণ ও বিনিয়োগের গতি বাড়ানো যায়। অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং উৎপাদনশীল খাতে অর্থের প্রবাহ বাড়াতে এই ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন