দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মৌচাক ইউনিয়নে ১৫ বছরের কিশোরীর বিয়ের অভিযোগ

মৌচাক ইউনিয়নে ১৫ বছরের কিশোরীর বিয়ের অভিযোগ
১৫ বছরের কিশোরীর বিয়ের অভিযোগ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি বছরের ৮ মার্চ নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে হলফনামা সম্পাদন করে কথিতভাবে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। তবে মেয়েটি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় স্থানীয় কাজী বিয়েটি নিবন্ধন করেননি বলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে।ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছেঅপ্রাপ্তবয়স্ক একজন কিশোরীর ক্ষেত্রে নোটারি পাবলিকের হলফনামার মাধ্যমে বিয়ের মতো সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা আইনগতভাবে কী অবস্থানে পড়ে এবং এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কেউ আইন ভঙ্গ করেছেন কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কথিত বিয়েতে ছেলের নাম মোহাম্মদ হৃদয় হোসেন। তাঁর পিতা মোহাম্মদ ভুট্টু মিয়া এবং মাতা সকিনা বেগম। স্থায়ী ঠিকানা টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর থানার হাতিমারা এলাকায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি মৌচাক এলাকায় অবস্থান করছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।অন্যদিকে, কিশোরীর বয়স ১৫ বছর বলে দাবি করা হয়েছে। তার পরিচয় ও ঠিকানা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় এই প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হলো না।অভিযোগে বলা হয়েছে, ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে একটি হলফনামা/কাগজপত্র সম্পাদন করা হয়। এখন অনুসন্ধানের মূল প্রশ্ন সেই নথিতে কী ঘোষণা করা হয়েছিল, সেখানে বয়স কীভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল এবং নথিটি বিয়ের বৈধ নিবন্ধনের দলিল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না।

আর ও পড়ুন, সাতক্ষীরায় শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তায় বিআরটিএর সচেতনতামূলক কর্মশালা

এ বিষয়ে নোটারি পাবলিকের নথি, কিশোরীর জন্মনিবন্ধন সনদ, শিক্ষাগত সনদ এবং অন্যান্য বয়স-প্রমাণকারী দলিল যাচাই করা জরুরি।অভিযোগ অনুযায়ী, অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট কাজী বিয়েটি রেজিস্ট্রি করেননি। বিষয়টি সত্য হলে প্রশ্ন হচ্ছে রেজিস্ট্রি না হওয়ার পরও কীভাবে নোটারি হলফনামার মাধ্যমে কথিত বিয়ের কার্যক্রম এগিয়ে গেল?এখানেই প্রশাসনের তদন্তের প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি।বাংলাদেশের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-তে অপ্রাপ্তবয়স্কের বিবাহ এবং বাল্যবিবাহ সম্পন্ন বা এতে সহায়তার বিষয়ে বিধান রয়েছে। বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে আইনস্বীকৃত দলিল যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।মৌচাক ইউনিয়ন কালিয়াকৈর উপজেলার অন্তর্ভুক্ত। সরকারি নথিতেও কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের প্রশাসনিক অবস্থান উল্লেখ রয়েছে।স্থানীয় পর্যায়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ, পুলিশ, নারী ও শিশু বিষয়ক সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।এ ঘটনায় অভিযোগ সত্য হলে শুধু কথিত বিয়ের বৈধতা নয়, কিশোরীর নিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও কল্যাণও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।


১. কিশোরীর প্রকৃত জন্মতারিখ কী এবং জন্মনিবন্ধন সনদে বয়স কত?

২. ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ঠিক কী ধরনের হলফনামা সম্পাদন করা হয়েছিল?

৩. ওই হলফনামায় কিশোরীর বয়স কীভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল?

৪. নোটারি পাবলিক কি বয়স যাচাইকারী কোনো দলিল দেখেছিলেন?

৫. কথিত বিয়েতে কোনো কাজী উপস্থিত ছিলেন কি না?

৬. কাজী বিয়ে রেজিস্ট্রি না করে থাকলে তার কারণ কী?

৭. বিয়ের কোনো কাবিননামা তৈরি হয়েছিল কি না?

৮. কিশোরীর বাবা-মা বা অভিভাবকের সম্মতি কীভাবে নেওয়া হয়েছিল?

৯. বিয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি অপ্রাপ্তবয়স্কের বয়স সম্পর্কে জানতেন কি না?

১০. উপজেলা প্রশাসন বা পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে আগে কোনো অভিযোগ পেয়েছিল কি না?

১১. অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

১২. কিশোরীর নিরাপত্তা ও শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না?

আরও  পড়ুন, ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ

মৌচাক প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে“১৫ বছর বয়সী একটি কিশোরীর বিয়ে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছেএমন অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসন কি কোনো তদন্ত করেছে? জন্মনিবন্ধন ও অন্যান্য বয়সের দলিল যাচাই করা হয়েছে কি? বিয়ের নিবন্ধন না হয়ে থাকলে নোটারি হলফনামার আইনগত অবস্থান কী? এবং অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?”অনুসন্ধানের স্বার্থে কিশোরীর পরিচয় প্রকাশ না করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। কোনো পক্ষকে আগেভাগে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে নথিপত্র, বয়সের প্রমাণ, নোটারি দলিল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাইয়ের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত।

বিষয় : অভিযোগ মৌচাক কিশোরীর বিয়ে

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মৌচাক ইউনিয়নে ১৫ বছরের কিশোরীর বিয়ের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি বছরের ৮ মার্চ নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে হলফনামা সম্পাদন করে কথিতভাবে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। তবে মেয়েটি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় স্থানীয় কাজী বিয়েটি নিবন্ধন করেননি বলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে।ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছেঅপ্রাপ্তবয়স্ক একজন কিশোরীর ক্ষেত্রে নোটারি পাবলিকের হলফনামার মাধ্যমে বিয়ের মতো সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা আইনগতভাবে কী অবস্থানে পড়ে এবং এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কেউ আইন ভঙ্গ করেছেন কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কথিত বিয়েতে ছেলের নাম মোহাম্মদ হৃদয় হোসেন। তাঁর পিতা মোহাম্মদ ভুট্টু মিয়া এবং মাতা সকিনা বেগম। স্থায়ী ঠিকানা টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর থানার হাতিমারা এলাকায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি মৌচাক এলাকায় অবস্থান করছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।অন্যদিকে, কিশোরীর বয়স ১৫ বছর বলে দাবি করা হয়েছে। তার পরিচয় ও ঠিকানা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় এই প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হলো না।অভিযোগে বলা হয়েছে, ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে একটি হলফনামা/কাগজপত্র সম্পাদন করা হয়। এখন অনুসন্ধানের মূল প্রশ্ন সেই নথিতে কী ঘোষণা করা হয়েছিল, সেখানে বয়স কীভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল এবং নথিটি বিয়ের বৈধ নিবন্ধনের দলিল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না।

আর ও পড়ুন, সাতক্ষীরায় শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তায় বিআরটিএর সচেতনতামূলক কর্মশালা

এ বিষয়ে নোটারি পাবলিকের নথি, কিশোরীর জন্মনিবন্ধন সনদ, শিক্ষাগত সনদ এবং অন্যান্য বয়স-প্রমাণকারী দলিল যাচাই করা জরুরি।অভিযোগ অনুযায়ী, অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট কাজী বিয়েটি রেজিস্ট্রি করেননি। বিষয়টি সত্য হলে প্রশ্ন হচ্ছে রেজিস্ট্রি না হওয়ার পরও কীভাবে নোটারি হলফনামার মাধ্যমে কথিত বিয়ের কার্যক্রম এগিয়ে গেল?এখানেই প্রশাসনের তদন্তের প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি।বাংলাদেশের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-তে অপ্রাপ্তবয়স্কের বিবাহ এবং বাল্যবিবাহ সম্পন্ন বা এতে সহায়তার বিষয়ে বিধান রয়েছে। বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে আইনস্বীকৃত দলিল যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।মৌচাক ইউনিয়ন কালিয়াকৈর উপজেলার অন্তর্ভুক্ত। সরকারি নথিতেও কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের প্রশাসনিক অবস্থান উল্লেখ রয়েছে।স্থানীয় পর্যায়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ, পুলিশ, নারী ও শিশু বিষয়ক সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।এ ঘটনায় অভিযোগ সত্য হলে শুধু কথিত বিয়ের বৈধতা নয়, কিশোরীর নিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও কল্যাণও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।


১. কিশোরীর প্রকৃত জন্মতারিখ কী এবং জন্মনিবন্ধন সনদে বয়স কত?

২. ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ঠিক কী ধরনের হলফনামা সম্পাদন করা হয়েছিল?

৩. ওই হলফনামায় কিশোরীর বয়স কীভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল?

৪. নোটারি পাবলিক কি বয়স যাচাইকারী কোনো দলিল দেখেছিলেন?

৫. কথিত বিয়েতে কোনো কাজী উপস্থিত ছিলেন কি না?

৬. কাজী বিয়ে রেজিস্ট্রি না করে থাকলে তার কারণ কী?

৭. বিয়ের কোনো কাবিননামা তৈরি হয়েছিল কি না?

৮. কিশোরীর বাবা-মা বা অভিভাবকের সম্মতি কীভাবে নেওয়া হয়েছিল?

৯. বিয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি অপ্রাপ্তবয়স্কের বয়স সম্পর্কে জানতেন কি না?

১০. উপজেলা প্রশাসন বা পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে আগে কোনো অভিযোগ পেয়েছিল কি না?

১১. অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

১২. কিশোরীর নিরাপত্তা ও শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না?

আরও  পড়ুন, ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ

মৌচাক প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে“১৫ বছর বয়সী একটি কিশোরীর বিয়ে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছেএমন অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসন কি কোনো তদন্ত করেছে? জন্মনিবন্ধন ও অন্যান্য বয়সের দলিল যাচাই করা হয়েছে কি? বিয়ের নিবন্ধন না হয়ে থাকলে নোটারি হলফনামার আইনগত অবস্থান কী? এবং অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?”অনুসন্ধানের স্বার্থে কিশোরীর পরিচয় প্রকাশ না করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। কোনো পক্ষকে আগেভাগে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে নথিপত্র, বয়সের প্রমাণ, নোটারি দলিল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাইয়ের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত।



দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মৌচাক ইউনিয়নে ১৫ বছরের কিশোরীর বিয়ের অভিযোগ
0:00 0:00
1.0x