দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পুলিশ সুপার কাপ প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লীগ উপলক্ষে ক্লাব প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা সভা

পুলিশ সুপার কাপ প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লীগ উপলক্ষে ক্লাব প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা সভা

গাজীপুরে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে ‘প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর উদ্বোধন

গাজীপুরে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে ‘প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর উদ্বোধন

বাসন তৈয়জউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি তানভীর সিরাজ

বাসন তৈয়জউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি তানভীর সিরাজ

কসবায় কৃষকদের আস্থা ও সফলতার প্রতীক হয়ে উঠছেন কৃষি অফিসার আয়েশা আক্তার

কসবায় কৃষকদের আস্থা ও সফলতার প্রতীক হয়ে উঠছেন কৃষি অফিসার আয়েশা আক্তার

লামায় উপজলো সমবায় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে রিকশা চালক সমবায় সমিতির সংবাদ সম্মেলন

লামায় উপজলো সমবায় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে রিকশা চালক সমবায় সমিতির সংবাদ সম্মেলন

গোপালগঞ্জে জেলা পরিষদেের আয়োজনে মাসজুড়ে ডেঙ্গু মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

গোপালগঞ্জে জেলা পরিষদেের আয়োজনে মাসজুড়ে ডেঙ্গু মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

মহেশপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশ-ইন চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

মহেশপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশ-ইন চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বশার খান

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বশার খান

১৪ বছরে দৈনিক সংবাদ দিগন্ত: সত্য, জনস্বার্থ ও গণমাধ্যমের দায়বদ্ধতার পথে আরও এক ধাপ

১৪ বছরে দৈনিক সংবাদ দিগন্ত: সত্য, জনস্বার্থ ও গণমাধ্যমের দায়বদ্ধতার পথে আরও এক ধাপ
সংবাদ দিগন্ত: সত্য, জনস্বার্থ ও গণমাধ্যমের দায়বদ্ধতার পথে আরও এক ধাপ

 একটি সংবাদপত্রের জীবনযাত্রা কেবল কাগজে মুদ্রিত অক্ষরের ধারাবাহিকতা নয়; এটি একটি সময়ের দলিল, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি, সমাজের অসংগতি তুলে ধরার সাহস এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর এক অবিচ্ছিন্ন প্রয়াস। সেই অর্থে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাঠকের কাছে সংবাদ ও জনজীবনের নানা বিষয় তুলে ধরে দৈনিক সংবাদ দিগন্ত*১৪ বছরে পদার্পণ করেছে—এটি নিঃসন্দেহে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। ১৪ বছর কোনো সংবাদপত্রের জন্য শুধু একটি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সংখ্যা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অসংখ্য মানুষের শ্রম, প্রত্যাশা, ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা। সংবাদপত্রের সঙ্গে যুক্ত সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদক, প্রতিবেদক, সংবাদকর্মী, ফটোসাংবাদিক, মুদ্রণ ও পরিবেশনার সঙ্গে জড়িত কর্মী এবং সর্বোপরি পাঠক—সবাই মিলে একটি সংবাদপত্রের পথচলা তৈরি করেন। এই দীর্ঘ পথচলায় দৈনিক সংবাদ দিগন্ত-এর সম্পাদনায় এ বি এম মনিরুজ্জামান এবং নির্বাহী সম্পাদক রিপন রুদ্র-এর নেতৃত্বে পত্রিকাটি তার নিজস্ব অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। ১২ পৃষ্ঠার একটি দৈনিক হিসেবে সীমিত পরিসরের মধ্যেও সংবাদ, মতামত, বিশ্লেষণ ও জনসম্পৃক্ত বিষয় পাঠকের সামনে তুলে ধরার যে প্রচেষ্টা, তা আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হোক—১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এটাই প্রত্যাশা। সংবাদপত্র শুধু সংবাদ বহন করে না, সমাজের আয়নাও হয়ে ওঠে সংবাদপত্রের মূল শক্তি হলো বিশ্বাসযোগ্যতা। প্রযুক্তির এই দ্রুত পরিবর্তনের যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে হাজারো তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু সব তথ্য সংবাদ নয়, সব খবর সত্য নয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত প্রতিটি বক্তব্যও যাচাইযোগ্য নয়। এখানেই একটি পেশাদার সংবাদপত্রের গুরুত্ব। একজন পাঠক যখন একটি সংবাদপত্র হাতে নেন, তখন তিনি শুধু খবর পড়েন না; তিনি প্রত্যাশা করেন—এখানে প্রকাশিত তথ্য যাচাই করা, বক্তব্যের বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নেওয়া এবং জনস্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই সংবাদপত্রের প্রতি পাঠকের আস্থা অর্জন করা যেমন কঠিন, সেই আস্থা ধরে রাখা আরও কঠিন।

আরও  পড়ুন, গাজীপুরে রিসোর্ট ভাড়া নিয়ে ডিজে পার্টি, মাদকসহ গ্রেফতার ৪

 দৈনিক সংবাদ দিগন্তের আগামী দিনের পথচলায় এই বিশ্বাসযোগ্যতাই হোক সবচেয়ে বড় সম্পদ। একটি সংবাদপত্রের সাফল্য শুধু কত বেশি সংবাদ ছাপা হলো, কত বড় শিরোনাম হলো কিংবা কতজন পাঠক হলো—এসব দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। একটি সংবাদ কতটা মানুষের জীবন ও সমাজের সঙ্গে সম্পর্কিত, কতটা সত্যনিষ্ঠ, কতটা জনস্বার্থ রক্ষা করেছে এবং কোনো অবহেলিত মানুষের কথা কতটা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে—এসবই একটি সংবাদপত্রের প্রকৃত শক্তির পরিচয় বহন করে। রাজধানীর পাশাপাশি প্রান্তিক জনপদের কণ্ঠস্বর বাংলাদেশের সংবাদপত্রের অন্যতম বড় দায়িত্ব হলো রাজধানীকেন্দ্রিক সংবাদচর্চার বাইরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের মানুষের কথা তুলে ধরা। ঢাকার বাইরে যে বাংলাদেশ, সেই বাংলাদেশের জীবন অনেক বৈচিত্র্যময়। কোথাও নদীভাঙন, কোথাও জলাবদ্ধতা; কোথাও কৃষকের উৎপাদন ও বাজারব্যবস্থার সংকট, কোথাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমস্যা; কোথাও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা, কোথাও মৎস্যজীবী ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনসংগ্রাম। আবার এসব সমস্যার পাশাপাশি রয়েছে অসংখ্য ইতিবাচক গল্প—কৃষকের সাফল্য, তরুণ উদ্যোক্তার উদ্যোগ, শিক্ষার্থীর অর্জন, নারীর আত্মনির্ভরতা, সামাজিক সংগঠনের মানবিক কর্মকাণ্ড এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের অসাধারণ সৃজনশীলতা। এই বাংলাদেশকে সংবাদপত্রে যথাযথভাবে তুলে ধরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাতক্ষীরার মতো সীমান্ত ও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন ও বাস্তবতা আরও আলাদা। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, কৃষি ও মৎস্য খাতের নানা সংকট—এসব বিষয় স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। আবার সুন্দরবন, কৃষি, মৎস্য, পর্যটন, পরিবেশ এবং মানুষের সংগ্রাম ও সম্ভাবনাও এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। আমি শেখ আমিনুর হোসেন সাতক্ষীরার একজন ক্ষুদ্র সংবাদকর্মী হিসেবে মনে করি, জেলা-উপজেলা পর্যায়ের সংবাদকর্মীদের কাজ কেবল রাজধানীর সংবাদ সংগ্রহ করে পাঠানো নয়। আমাদের কাজ হলো আমাদের নিজ নিজ এলাকার মানুষের কথা বলা—যে মানুষটির কথা হয়তো বড় শহরের সংবাদকক্ষে সহজে পৌঁছায় না। একজন প্রান্তিক সংবাদকর্মী যখন কোনো কৃষকের ক্ষতির কথা তুলে ধরেন, কোনো বিদ্যালয়ের সংকটের কথা জানান, কোনো অসহায় মানুষের সমস্যাকে সংবাদে পরিণত করেন অথবা কোনো অনিয়মের তথ্য যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, তখন তিনি শুধু সংবাদ পাঠান না; তিনি সমাজের সঙ্গে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করেন। দৈনিক সংবাদ দিগন্তের আগামী দিনের সংবাদনীতিতে প্রান্তিক জনপদের এই কণ্ঠস্বর আরও শক্তিশালী হোক—এটি সময়ের দাবি। সংবাদকর্মীর কাজ কঠিন, কিন্তু দায়িত্ব আরও বড় একজন সংবাদকর্মীকে অনেক সময় খুব অল্প সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হয়—কোন তথ্যটি সংবাদ, কোনটি গুজব, কার বক্তব্য নেওয়া দরকার,

আরও পড়ুন, মাদ্রাসার ছাদে খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, দগ্ধ ৫ ছাত্রী

 কোন তথ্যটি যাচাই করা জরুরি এবং প্রকাশের আগে কোন বিষয়টি আরও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে জেলা পর্যায়ের সংবাদকর্মীদের জন্য কাজটি অনেক সময় আরও কঠিন। সীমিত সুযোগ-সুবিধা, যোগাযোগের সমস্যা, তথ্য পাওয়ার সীমাবদ্ধতা এবং কখনো কখনো নানা চাপের মধ্যেও সংবাদকর্মীদের কাজ করতে হয়। তারপরও সাংবাদিকতার মূল শক্তি হওয়া উচিত সত্য ও পেশাগত সততা। কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই করা, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া, ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে বিরত থাকা, গুজবকে সংবাদ হিসেবে পরিবেশন না করা এবং সংবাদ ও মতামতের পার্থক্য স্পষ্ট রাখা—এসব বিষয় সংবাদপত্রের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায়। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও দ্রুতগতির ডিজিটাল প্রচারের কারণে ভুল তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি বেড়েছে। ফলে সংবাদপত্রের জন্য তথ্য যাচাই বা ফ্যাক্ট-চেকি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দৈনিক সংবাদ দিগন্ত যদি আগামী দিনে নিজস্ব যাচাই-প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করতে পারে, তাহলে পাঠকের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। সাংবাদিকতা হোক জনস্বার্থের পক্ষে সাংবাদিকতার অন্যতম মৌলিক উদ্দেশ্য জনস্বার্থের বিষয়গুলো সামনে আনা। জনগণের করের অর্থে পরিচালিত কোনো প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম হলে সেটি যেমন সংবাদ হওয়া উচিত, তেমনি একজন সাধারণ নাগরিক কোনো সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হলে তার কথাও গুরুত্ব পাওয়া উচিত। তবে জনস্বার্থের সংবাদ মানেই কাউকে অভিযুক্ত করা নয়। একটি অভিযোগ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া, অভিযোগের ভিত্তি যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় নথি বা তথ্য সংগ্রহ করা সাংবাদিকতার পেশাগত দায়িত্ব। এতে সংবাদ যেমন শক্তিশালী হয়, তেমনি সংবাদপত্রও অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে। সমালোচনা অবশ্যই থাকবে। বরং সুস্থ সাংবাদিকতার জন্য গঠনমূলক সমালোচনা অপরিহার্য।

 কিন্তু সমালোচনার সঙ্গে তথ্য থাকতে হবে, যুক্তি থাকতে হবে এবং সংশোধনের সুযোগ থাকতে হবে। দৈনিক সংবাদ দিগন্তের উপসম্পাদকীয় ও মতামত পাতায় এমন গঠনমূলক বিতর্কের পরিসর আরও বিস্তৃত হওয়া দরকার। বিভিন্ন মতের মানুষের বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ থাকলে পাঠকরাও একটি বিষয়কে একাধিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ পান। সংবাদপত্রের পৃষ্ঠায় শুধু সমস্যা নয়, সমাধানের কথাও আসুক আমাদের সংবাদচর্চায় একটি প্রবণতা হলো সমস্যাকে বড় করে তুলে ধরা। সমস্যা অবশ্যই সংবাদযোগ্য। কিন্তু সমস্যা তুলে ধরার পাশাপাশি তার সম্ভাব্য সমাধান নিয়েও আলোচনা হওয়া দরকার। ধরা যাক, কোনো এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়েছে। সংবাদে শুধু জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ তুলে ধরা হলো—এটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কেন জলাবদ্ধতা হচ্ছে, পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতা কোথায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী বলছে, অন্য কোথাও কীভাবে একই সমস্যার সমাধান হয়েছে—এসব তথ্য যুক্ত হলে সংবাদটি আরও কার্যকর হয়ে ওঠে। এমন সাংবাদিকতাকে বলা যায় সমাধানমুখী সাংবাদিকতা। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন অসংখ্য বিষয় রয়েছে, যেখানে সমস্যার পাশাপাশি সম্ভাবনাও আছে। কৃষিতে নতুন প্রযুক্তি, পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় উদ্যোগ, শিক্ষায় নতুন পদ্ধতি, নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ, তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়া—এসব ইতিবাচক পরিবর্তনের গল্পও সংবাদপত্রে বেশি করে স্থান পাওয়া দরকার। একটি ভালো সংবাদ কখনো কখনো একটি সমস্যার সমাধানের পথও দেখাতে পারে।

আরও  পড়ুন, তিন দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, গাজীপুর জেলা যুবদলের নেতৃত্বে মাসুদ রানার প্রত্যাশা

 পাঠকই সংবাদপত্রের প্রকৃত শক্তি সংবাদপত্রের অফিসে সংবাদ তৈরি হয়, কিন্তু সংবাদপত্রের প্রকৃত মূল্যায়ন হয় পাঠকের কাছে। পাঠক ভুল ধরিয়ে দেন, প্রশ্ন করেন, পরামর্শ দেন এবং কখনো কখনো একটি সংবাদ প্রকাশের পর তার প্রভাব সম্পর্কে সংবাদপত্রকে অবহিত করেন। তাই পাঠকের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা যত শক্তিশালী হবে, সংবাদপত্রের ভিত্তিও তত শক্ত হবে। দৈনিক সংবাদ দিগন্তের ১৪ বছরের পথচলায় যারা নিয়মিত পাঠক হিসেবে পাশে থেকেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো যেমন জরুরি, তেমনি নতুন প্রজন্মের পাঠকদের কাছে পত্রিকাটিকে আরও সহজলভ্য করে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান প্রজন্ম দ্রুত সংবাদ জানতে চায়। তাই মুদ্রিত সংস্করণের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দ্রুত, সংক্ষিপ্ত ও যাচাই করা সংবাদ পরিবেশন, বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন, তথ্যভিত্তিক গ্রাফিক্স এবং ভিডিও কনটেন্টের দিকে আরও মনোযোগ দেওয়া যেতে পারে। তবে ডিজিটাল দ্রুততার সঙ্গে মুদ্রিত সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতার সমন্বয় করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। ১২ পৃষ্ঠার সীমিত পরিসর, কিন্তু সম্ভাবনার পরিধি অসীম দৈনিক সংবাদ দিগন্ত ১২ পৃষ্ঠার একটি দৈনিক পত্রিকা। সীমিত পৃষ্ঠার কারণে সব সংবাদকে সমানভাবে স্থান দেওয়া সম্ভব নয়। তাই সংবাদ নির্বাচন এবং সম্পাদনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভালো সংবাদপত্রে পাঠক যেন একসঙ্গে দেশের গুরুত্বপূর্ণ খবর, জেলার খবর, অর্থনীতি, শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, সংস্কৃতি, খেলাধুলা এবং মতামত—বিভিন্ন ধরনের বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন, সেই ভারসাম্য রক্ষা করা দরকার। বিশেষ করে উপসম্পাদকীয় ও সম্পাদকীয় পাতার গুরুত্ব অনেক। কারণ সংবাদ পাঠককে ঘটনা জানায়, কিন্তু বিশ্লেষণ পাঠককে ঘটনাটি বুঝতে সাহায্য করে। দেশের চলমান সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নাগরিক সমস্যাগুলো নিয়ে তথ্যভিত্তিক, যুক্তিনির্ভর এবং শালীন বিতর্কের সুযোগ তৈরি করতে পারলে সংবাদ দিগন্তের মতামত পাতা আরও সমৃদ্ধ হতে পারে।


 সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ তরুণদের হাতে আজকের তরুণরাই আগামী দিনের সাংবাদিকতা পরিচালনা করবেন। তাই সাংবাদিকতার সঙ্গে প্রযুক্তিগত দক্ষতার সমন্বয় অপরিহার্য। একজন আধুনিক সংবাদকর্মীর শুধু লিখতে জানলেই হবে না; তথ্য যাচাই, মোবাইল সাংবাদিকতা, ছবি ও ভিডিও ধারণ, ডেটা বিশ্লেষণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা সম্পর্কেও ধারণা থাকা দরকার। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিগুলোও জানতে হবে—সত্যতা, নিরপেক্ষতা, ভারসাম্য, মানবিকতা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান এবং ভুল হলে সংশোধনের মানসিকতা। দৈনিক সংবাদ দিগন্ত যদি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংবাদকর্মীদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কর্মশালা বা অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে, তাহলে পত্রিকার সংবাদমান আরও উন্নত হবে। বিশেষ করে তরুণ সংবাদকর্মীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে তারা আরও দক্ষতার সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কাজ করতে পারবেন। সংবাদকর্মী ও সংবাদপত্রের সম্পর্ক একটি সংবাদপত্রের মূল কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো মাঠপর্যায়ের সংবাদকর্মীরা। রাজধানীর সংবাদকক্ষ থেকে একটি জেলার প্রতিটি গ্রামের বাস্তবতা জানা সম্ভব নয়। সেখানেই স্থানীয় সংবাদকর্মীদের গুরুত্ব। একজন জেলা সংবাদকর্মী তার এলাকার মানুষ, প্রতিষ্ঠান, সমস্যা ও সম্ভাবনাকে কাছ থেকে দেখেন। তিনি জানেন কোন বিষয়টি স্থানীয় মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই সংবাদকর্মীদের সঙ্গে সম্পাদকীয় বিভাগের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয় যত ভালো হবে, সংবাদ তত সমৃদ্ধ হবে। তবে সংবাদকর্মীর স্বাধীনতার পাশাপাশি পেশাগত জবাবদিহিতাও থাকতে হবে। কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ, ব্যবসায়িক স্বার্থ বা স্থানীয় প্রভাব যেন সংবাদ নির্বাচনে প্রভাব না ফেলে—এ বিষয়ে সংবাদকর্মীদের সচেতন থাকা জরুরি। আমি নিজেও সাতক্ষীরার একজন ক্ষুদ্র সংবাদকর্মী হিসেবে মনে করি, আমাদের মতো প্রান্তিক পর্যায়ের সংবাদকর্মীদের পরিচয় বড় নয়, কাজটাই বড়। একটি ছোট সংবাদ যদি মানুষের উপকারে আসে, কোনো সমস্যার সমাধানের পথ তৈরি করে কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, সেটিই সংবাদকর্মীর বড় অর্জন। ১৪ বছর শেষে নতুন প্রত্যয়ের সময় ১৪ বছর পূর্তি একটি অর্জন, কিন্তু একই সঙ্গে এটি আত্মসমালোচনারও সময়। পেছনের পথচলায় কী ভালো হয়েছে, কোথায় সীমাবদ্ধতা ছিল, পাঠকের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়েছে এবং আগামী দিনে কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত—এসব নিয়ে ভাবার সময় এখন। সংবাদপত্রকে টিকে থাকতে হলে পাঠকের আস্থা, পেশাগত মান, প্রযুক্তির সঙ্গে অভিযোজন এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন। একদিকে সংবাদপত্রকে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা করতে হবে, অন্যদিকে আধুনিক সময়ের পাঠকের চাহিদাও বুঝতে হবে।

আরও  পড়ুন, বরিশালের গৌরব এসআই মেহেদি হাসান পেলেন ‘রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক’ (পিপিএম-সেবা)

 মুদ্রিত কাগজের ঐতিহ্যকে ধরে রেখে ডিজিটাল সাংবাদিকতার নতুন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। একটি সংবাদপত্র তখনই দীর্ঘস্থায়ী হয়, যখন তার সঙ্গে পাঠকের সম্পর্ক কেবল খবর পড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং পাঠক মনে করেন—এই পত্রিকাটি তার সমাজের কথা বলে, তার সমস্যার কথা বলে, তার প্রশ্নের কথা বলে এবং তার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করে। সামনে আরও দীর্ঘ পথ দৈনিক সংবাদ দিগন্তের ১৪ বছরের যাত্রা তাই শেষ কোনো অধ্যায় নয়; বরং নতুন অধ্যায়ের সূচনা। আগামী দিনের সংবাদ দিগন্ত এমন একটি পত্রিকা হয়ে উঠুক, যেখানে সত্যের সঙ্গে আপস থাকবে না; জনস্বার্থের প্রশ্নে নীরবতা থাকবে না; প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর উপেক্ষিত হবে না; তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনা যথাযথভাবে উঠে আসবে; কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, নারী, শিশু, প্রবীণ ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, সংস্কৃতি ও সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ আরও বিস্তৃত হোক। সংবাদপত্রের কাজ কাউকে খুশি করা নয়, কাউকে অযথা বিরোধিতা করাও নয়। সংবাদপত্রের মূল কাজ হলো জনগণের জানার অধিকারকে সম্মান করা এবং সত্য ও যাচাই করা তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। সেই দায়িত্ব পালনের পথ যত কঠিনই হোক, একটি সংবাদপত্রের শক্তি তার নৈতিক অবস্থান ও পাঠকের আস্থায়। ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দৈনিক সংবাদ দিগন্ত-এর সম্পাদক এ বি এম মনিরুজ্জামান, নির্বাহী সম্পাদক রিপন রুদ্র, পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত সকল সাংবাদিক, সংবাদকর্মী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং অগণিত পাঠককে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। বিশেষ করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যারা সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনের কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের প্রতিও রইল শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। ১৪ বছরের অভিজ্ঞতাকে শক্তি করে দৈনিক সংবাদ দিগন্ত আরও এগিয়ে যাক—সত্য, সততা, জনস্বার্থ ও গঠনমূলক সাংবাদিকতার পথে। সংবাদ হোক মানুষের কথা বলার মাধ্যম। সাংবাদিকতা হোক সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতিশ্রুতি। আর দৈনিক সংবাদ দিগন্ত হয়ে উঠুক সেই প্রতিশ্রুতির আরও শক্তিশালী বাহক।** ১৪ বছরে পদার্পণের এই শুভক্ষণে দৈনিক সংবাদ দিগন্তের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি, দীর্ঘায়ু ও সাফল্য কামনা করছি। লেখক: শেখ আমিনুর হোসেন, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী

বিষয় : গণমাধ্যম জনস্বার্থ সংবাদ দিগন্ত দায়বদ্ধতা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


১৪ বছরে দৈনিক সংবাদ দিগন্ত: সত্য, জনস্বার্থ ও গণমাধ্যমের দায়বদ্ধতার পথে আরও এক ধাপ

প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

 একটি সংবাদপত্রের জীবনযাত্রা কেবল কাগজে মুদ্রিত অক্ষরের ধারাবাহিকতা নয়; এটি একটি সময়ের দলিল, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি, সমাজের অসংগতি তুলে ধরার সাহস এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর এক অবিচ্ছিন্ন প্রয়াস। সেই অর্থে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাঠকের কাছে সংবাদ ও জনজীবনের নানা বিষয় তুলে ধরে দৈনিক সংবাদ দিগন্ত*১৪ বছরে পদার্পণ করেছে—এটি নিঃসন্দেহে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। ১৪ বছর কোনো সংবাদপত্রের জন্য শুধু একটি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সংখ্যা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অসংখ্য মানুষের শ্রম, প্রত্যাশা, ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা। সংবাদপত্রের সঙ্গে যুক্ত সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদক, প্রতিবেদক, সংবাদকর্মী, ফটোসাংবাদিক, মুদ্রণ ও পরিবেশনার সঙ্গে জড়িত কর্মী এবং সর্বোপরি পাঠক—সবাই মিলে একটি সংবাদপত্রের পথচলা তৈরি করেন। এই দীর্ঘ পথচলায় দৈনিক সংবাদ দিগন্ত-এর সম্পাদনায় এ বি এম মনিরুজ্জামান এবং নির্বাহী সম্পাদক রিপন রুদ্র-এর নেতৃত্বে পত্রিকাটি তার নিজস্ব অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। ১২ পৃষ্ঠার একটি দৈনিক হিসেবে সীমিত পরিসরের মধ্যেও সংবাদ, মতামত, বিশ্লেষণ ও জনসম্পৃক্ত বিষয় পাঠকের সামনে তুলে ধরার যে প্রচেষ্টা, তা আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হোক—১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এটাই প্রত্যাশা। সংবাদপত্র শুধু সংবাদ বহন করে না, সমাজের আয়নাও হয়ে ওঠে সংবাদপত্রের মূল শক্তি হলো বিশ্বাসযোগ্যতা। প্রযুক্তির এই দ্রুত পরিবর্তনের যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে হাজারো তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু সব তথ্য সংবাদ নয়, সব খবর সত্য নয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত প্রতিটি বক্তব্যও যাচাইযোগ্য নয়। এখানেই একটি পেশাদার সংবাদপত্রের গুরুত্ব। একজন পাঠক যখন একটি সংবাদপত্র হাতে নেন, তখন তিনি শুধু খবর পড়েন না; তিনি প্রত্যাশা করেন—এখানে প্রকাশিত তথ্য যাচাই করা, বক্তব্যের বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নেওয়া এবং জনস্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই সংবাদপত্রের প্রতি পাঠকের আস্থা অর্জন করা যেমন কঠিন, সেই আস্থা ধরে রাখা আরও কঠিন।

আরও  পড়ুন, গাজীপুরে রিসোর্ট ভাড়া নিয়ে ডিজে পার্টি, মাদকসহ গ্রেফতার ৪

 দৈনিক সংবাদ দিগন্তের আগামী দিনের পথচলায় এই বিশ্বাসযোগ্যতাই হোক সবচেয়ে বড় সম্পদ। একটি সংবাদপত্রের সাফল্য শুধু কত বেশি সংবাদ ছাপা হলো, কত বড় শিরোনাম হলো কিংবা কতজন পাঠক হলো—এসব দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। একটি সংবাদ কতটা মানুষের জীবন ও সমাজের সঙ্গে সম্পর্কিত, কতটা সত্যনিষ্ঠ, কতটা জনস্বার্থ রক্ষা করেছে এবং কোনো অবহেলিত মানুষের কথা কতটা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে—এসবই একটি সংবাদপত্রের প্রকৃত শক্তির পরিচয় বহন করে। রাজধানীর পাশাপাশি প্রান্তিক জনপদের কণ্ঠস্বর বাংলাদেশের সংবাদপত্রের অন্যতম বড় দায়িত্ব হলো রাজধানীকেন্দ্রিক সংবাদচর্চার বাইরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের মানুষের কথা তুলে ধরা। ঢাকার বাইরে যে বাংলাদেশ, সেই বাংলাদেশের জীবন অনেক বৈচিত্র্যময়। কোথাও নদীভাঙন, কোথাও জলাবদ্ধতা; কোথাও কৃষকের উৎপাদন ও বাজারব্যবস্থার সংকট, কোথাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমস্যা; কোথাও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা, কোথাও মৎস্যজীবী ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনসংগ্রাম। আবার এসব সমস্যার পাশাপাশি রয়েছে অসংখ্য ইতিবাচক গল্প—কৃষকের সাফল্য, তরুণ উদ্যোক্তার উদ্যোগ, শিক্ষার্থীর অর্জন, নারীর আত্মনির্ভরতা, সামাজিক সংগঠনের মানবিক কর্মকাণ্ড এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের অসাধারণ সৃজনশীলতা। এই বাংলাদেশকে সংবাদপত্রে যথাযথভাবে তুলে ধরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাতক্ষীরার মতো সীমান্ত ও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন ও বাস্তবতা আরও আলাদা। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, কৃষি ও মৎস্য খাতের নানা সংকট—এসব বিষয় স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। আবার সুন্দরবন, কৃষি, মৎস্য, পর্যটন, পরিবেশ এবং মানুষের সংগ্রাম ও সম্ভাবনাও এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। আমি শেখ আমিনুর হোসেন সাতক্ষীরার একজন ক্ষুদ্র সংবাদকর্মী হিসেবে মনে করি, জেলা-উপজেলা পর্যায়ের সংবাদকর্মীদের কাজ কেবল রাজধানীর সংবাদ সংগ্রহ করে পাঠানো নয়। আমাদের কাজ হলো আমাদের নিজ নিজ এলাকার মানুষের কথা বলা—যে মানুষটির কথা হয়তো বড় শহরের সংবাদকক্ষে সহজে পৌঁছায় না। একজন প্রান্তিক সংবাদকর্মী যখন কোনো কৃষকের ক্ষতির কথা তুলে ধরেন, কোনো বিদ্যালয়ের সংকটের কথা জানান, কোনো অসহায় মানুষের সমস্যাকে সংবাদে পরিণত করেন অথবা কোনো অনিয়মের তথ্য যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, তখন তিনি শুধু সংবাদ পাঠান না; তিনি সমাজের সঙ্গে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করেন। দৈনিক সংবাদ দিগন্তের আগামী দিনের সংবাদনীতিতে প্রান্তিক জনপদের এই কণ্ঠস্বর আরও শক্তিশালী হোক—এটি সময়ের দাবি। সংবাদকর্মীর কাজ কঠিন, কিন্তু দায়িত্ব আরও বড় একজন সংবাদকর্মীকে অনেক সময় খুব অল্প সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হয়—কোন তথ্যটি সংবাদ, কোনটি গুজব, কার বক্তব্য নেওয়া দরকার,

আরও পড়ুন, মাদ্রাসার ছাদে খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, দগ্ধ ৫ ছাত্রী

 কোন তথ্যটি যাচাই করা জরুরি এবং প্রকাশের আগে কোন বিষয়টি আরও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে জেলা পর্যায়ের সংবাদকর্মীদের জন্য কাজটি অনেক সময় আরও কঠিন। সীমিত সুযোগ-সুবিধা, যোগাযোগের সমস্যা, তথ্য পাওয়ার সীমাবদ্ধতা এবং কখনো কখনো নানা চাপের মধ্যেও সংবাদকর্মীদের কাজ করতে হয়। তারপরও সাংবাদিকতার মূল শক্তি হওয়া উচিত সত্য ও পেশাগত সততা। কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই করা, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া, ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে বিরত থাকা, গুজবকে সংবাদ হিসেবে পরিবেশন না করা এবং সংবাদ ও মতামতের পার্থক্য স্পষ্ট রাখা—এসব বিষয় সংবাদপত্রের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায়। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও দ্রুতগতির ডিজিটাল প্রচারের কারণে ভুল তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি বেড়েছে। ফলে সংবাদপত্রের জন্য তথ্য যাচাই বা ফ্যাক্ট-চেকি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দৈনিক সংবাদ দিগন্ত যদি আগামী দিনে নিজস্ব যাচাই-প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করতে পারে, তাহলে পাঠকের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। সাংবাদিকতা হোক জনস্বার্থের পক্ষে সাংবাদিকতার অন্যতম মৌলিক উদ্দেশ্য জনস্বার্থের বিষয়গুলো সামনে আনা। জনগণের করের অর্থে পরিচালিত কোনো প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম হলে সেটি যেমন সংবাদ হওয়া উচিত, তেমনি একজন সাধারণ নাগরিক কোনো সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হলে তার কথাও গুরুত্ব পাওয়া উচিত। তবে জনস্বার্থের সংবাদ মানেই কাউকে অভিযুক্ত করা নয়। একটি অভিযোগ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া, অভিযোগের ভিত্তি যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় নথি বা তথ্য সংগ্রহ করা সাংবাদিকতার পেশাগত দায়িত্ব। এতে সংবাদ যেমন শক্তিশালী হয়, তেমনি সংবাদপত্রও অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে। সমালোচনা অবশ্যই থাকবে। বরং সুস্থ সাংবাদিকতার জন্য গঠনমূলক সমালোচনা অপরিহার্য।

 কিন্তু সমালোচনার সঙ্গে তথ্য থাকতে হবে, যুক্তি থাকতে হবে এবং সংশোধনের সুযোগ থাকতে হবে। দৈনিক সংবাদ দিগন্তের উপসম্পাদকীয় ও মতামত পাতায় এমন গঠনমূলক বিতর্কের পরিসর আরও বিস্তৃত হওয়া দরকার। বিভিন্ন মতের মানুষের বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ থাকলে পাঠকরাও একটি বিষয়কে একাধিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ পান। সংবাদপত্রের পৃষ্ঠায় শুধু সমস্যা নয়, সমাধানের কথাও আসুক আমাদের সংবাদচর্চায় একটি প্রবণতা হলো সমস্যাকে বড় করে তুলে ধরা। সমস্যা অবশ্যই সংবাদযোগ্য। কিন্তু সমস্যা তুলে ধরার পাশাপাশি তার সম্ভাব্য সমাধান নিয়েও আলোচনা হওয়া দরকার। ধরা যাক, কোনো এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়েছে। সংবাদে শুধু জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ তুলে ধরা হলো—এটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কেন জলাবদ্ধতা হচ্ছে, পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতা কোথায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী বলছে, অন্য কোথাও কীভাবে একই সমস্যার সমাধান হয়েছে—এসব তথ্য যুক্ত হলে সংবাদটি আরও কার্যকর হয়ে ওঠে। এমন সাংবাদিকতাকে বলা যায় সমাধানমুখী সাংবাদিকতা। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন অসংখ্য বিষয় রয়েছে, যেখানে সমস্যার পাশাপাশি সম্ভাবনাও আছে। কৃষিতে নতুন প্রযুক্তি, পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় উদ্যোগ, শিক্ষায় নতুন পদ্ধতি, নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ, তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়া—এসব ইতিবাচক পরিবর্তনের গল্পও সংবাদপত্রে বেশি করে স্থান পাওয়া দরকার। একটি ভালো সংবাদ কখনো কখনো একটি সমস্যার সমাধানের পথও দেখাতে পারে।

আরও  পড়ুন, তিন দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, গাজীপুর জেলা যুবদলের নেতৃত্বে মাসুদ রানার প্রত্যাশা

 পাঠকই সংবাদপত্রের প্রকৃত শক্তি সংবাদপত্রের অফিসে সংবাদ তৈরি হয়, কিন্তু সংবাদপত্রের প্রকৃত মূল্যায়ন হয় পাঠকের কাছে। পাঠক ভুল ধরিয়ে দেন, প্রশ্ন করেন, পরামর্শ দেন এবং কখনো কখনো একটি সংবাদ প্রকাশের পর তার প্রভাব সম্পর্কে সংবাদপত্রকে অবহিত করেন। তাই পাঠকের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা যত শক্তিশালী হবে, সংবাদপত্রের ভিত্তিও তত শক্ত হবে। দৈনিক সংবাদ দিগন্তের ১৪ বছরের পথচলায় যারা নিয়মিত পাঠক হিসেবে পাশে থেকেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো যেমন জরুরি, তেমনি নতুন প্রজন্মের পাঠকদের কাছে পত্রিকাটিকে আরও সহজলভ্য করে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান প্রজন্ম দ্রুত সংবাদ জানতে চায়। তাই মুদ্রিত সংস্করণের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দ্রুত, সংক্ষিপ্ত ও যাচাই করা সংবাদ পরিবেশন, বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন, তথ্যভিত্তিক গ্রাফিক্স এবং ভিডিও কনটেন্টের দিকে আরও মনোযোগ দেওয়া যেতে পারে। তবে ডিজিটাল দ্রুততার সঙ্গে মুদ্রিত সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতার সমন্বয় করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। ১২ পৃষ্ঠার সীমিত পরিসর, কিন্তু সম্ভাবনার পরিধি অসীম দৈনিক সংবাদ দিগন্ত ১২ পৃষ্ঠার একটি দৈনিক পত্রিকা। সীমিত পৃষ্ঠার কারণে সব সংবাদকে সমানভাবে স্থান দেওয়া সম্ভব নয়। তাই সংবাদ নির্বাচন এবং সম্পাদনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভালো সংবাদপত্রে পাঠক যেন একসঙ্গে দেশের গুরুত্বপূর্ণ খবর, জেলার খবর, অর্থনীতি, শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, সংস্কৃতি, খেলাধুলা এবং মতামত—বিভিন্ন ধরনের বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন, সেই ভারসাম্য রক্ষা করা দরকার। বিশেষ করে উপসম্পাদকীয় ও সম্পাদকীয় পাতার গুরুত্ব অনেক। কারণ সংবাদ পাঠককে ঘটনা জানায়, কিন্তু বিশ্লেষণ পাঠককে ঘটনাটি বুঝতে সাহায্য করে। দেশের চলমান সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নাগরিক সমস্যাগুলো নিয়ে তথ্যভিত্তিক, যুক্তিনির্ভর এবং শালীন বিতর্কের সুযোগ তৈরি করতে পারলে সংবাদ দিগন্তের মতামত পাতা আরও সমৃদ্ধ হতে পারে।


 সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ তরুণদের হাতে আজকের তরুণরাই আগামী দিনের সাংবাদিকতা পরিচালনা করবেন। তাই সাংবাদিকতার সঙ্গে প্রযুক্তিগত দক্ষতার সমন্বয় অপরিহার্য। একজন আধুনিক সংবাদকর্মীর শুধু লিখতে জানলেই হবে না; তথ্য যাচাই, মোবাইল সাংবাদিকতা, ছবি ও ভিডিও ধারণ, ডেটা বিশ্লেষণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা সম্পর্কেও ধারণা থাকা দরকার। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিগুলোও জানতে হবে—সত্যতা, নিরপেক্ষতা, ভারসাম্য, মানবিকতা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান এবং ভুল হলে সংশোধনের মানসিকতা। দৈনিক সংবাদ দিগন্ত যদি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংবাদকর্মীদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কর্মশালা বা অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে, তাহলে পত্রিকার সংবাদমান আরও উন্নত হবে। বিশেষ করে তরুণ সংবাদকর্মীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে তারা আরও দক্ষতার সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কাজ করতে পারবেন। সংবাদকর্মী ও সংবাদপত্রের সম্পর্ক একটি সংবাদপত্রের মূল কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো মাঠপর্যায়ের সংবাদকর্মীরা। রাজধানীর সংবাদকক্ষ থেকে একটি জেলার প্রতিটি গ্রামের বাস্তবতা জানা সম্ভব নয়। সেখানেই স্থানীয় সংবাদকর্মীদের গুরুত্ব। একজন জেলা সংবাদকর্মী তার এলাকার মানুষ, প্রতিষ্ঠান, সমস্যা ও সম্ভাবনাকে কাছ থেকে দেখেন। তিনি জানেন কোন বিষয়টি স্থানীয় মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই সংবাদকর্মীদের সঙ্গে সম্পাদকীয় বিভাগের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয় যত ভালো হবে, সংবাদ তত সমৃদ্ধ হবে। তবে সংবাদকর্মীর স্বাধীনতার পাশাপাশি পেশাগত জবাবদিহিতাও থাকতে হবে। কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ, ব্যবসায়িক স্বার্থ বা স্থানীয় প্রভাব যেন সংবাদ নির্বাচনে প্রভাব না ফেলে—এ বিষয়ে সংবাদকর্মীদের সচেতন থাকা জরুরি। আমি নিজেও সাতক্ষীরার একজন ক্ষুদ্র সংবাদকর্মী হিসেবে মনে করি, আমাদের মতো প্রান্তিক পর্যায়ের সংবাদকর্মীদের পরিচয় বড় নয়, কাজটাই বড়। একটি ছোট সংবাদ যদি মানুষের উপকারে আসে, কোনো সমস্যার সমাধানের পথ তৈরি করে কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, সেটিই সংবাদকর্মীর বড় অর্জন। ১৪ বছর শেষে নতুন প্রত্যয়ের সময় ১৪ বছর পূর্তি একটি অর্জন, কিন্তু একই সঙ্গে এটি আত্মসমালোচনারও সময়। পেছনের পথচলায় কী ভালো হয়েছে, কোথায় সীমাবদ্ধতা ছিল, পাঠকের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়েছে এবং আগামী দিনে কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত—এসব নিয়ে ভাবার সময় এখন। সংবাদপত্রকে টিকে থাকতে হলে পাঠকের আস্থা, পেশাগত মান, প্রযুক্তির সঙ্গে অভিযোজন এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন। একদিকে সংবাদপত্রকে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা করতে হবে, অন্যদিকে আধুনিক সময়ের পাঠকের চাহিদাও বুঝতে হবে।

আরও  পড়ুন, বরিশালের গৌরব এসআই মেহেদি হাসান পেলেন ‘রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক’ (পিপিএম-সেবা)

 মুদ্রিত কাগজের ঐতিহ্যকে ধরে রেখে ডিজিটাল সাংবাদিকতার নতুন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। একটি সংবাদপত্র তখনই দীর্ঘস্থায়ী হয়, যখন তার সঙ্গে পাঠকের সম্পর্ক কেবল খবর পড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং পাঠক মনে করেন—এই পত্রিকাটি তার সমাজের কথা বলে, তার সমস্যার কথা বলে, তার প্রশ্নের কথা বলে এবং তার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করে। সামনে আরও দীর্ঘ পথ দৈনিক সংবাদ দিগন্তের ১৪ বছরের যাত্রা তাই শেষ কোনো অধ্যায় নয়; বরং নতুন অধ্যায়ের সূচনা। আগামী দিনের সংবাদ দিগন্ত এমন একটি পত্রিকা হয়ে উঠুক, যেখানে সত্যের সঙ্গে আপস থাকবে না; জনস্বার্থের প্রশ্নে নীরবতা থাকবে না; প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর উপেক্ষিত হবে না; তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনা যথাযথভাবে উঠে আসবে; কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, নারী, শিশু, প্রবীণ ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, সংস্কৃতি ও সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ আরও বিস্তৃত হোক। সংবাদপত্রের কাজ কাউকে খুশি করা নয়, কাউকে অযথা বিরোধিতা করাও নয়। সংবাদপত্রের মূল কাজ হলো জনগণের জানার অধিকারকে সম্মান করা এবং সত্য ও যাচাই করা তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। সেই দায়িত্ব পালনের পথ যত কঠিনই হোক, একটি সংবাদপত্রের শক্তি তার নৈতিক অবস্থান ও পাঠকের আস্থায়। ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দৈনিক সংবাদ দিগন্ত-এর সম্পাদক এ বি এম মনিরুজ্জামান, নির্বাহী সম্পাদক রিপন রুদ্র, পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত সকল সাংবাদিক, সংবাদকর্মী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং অগণিত পাঠককে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। বিশেষ করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যারা সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনের কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের প্রতিও রইল শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। ১৪ বছরের অভিজ্ঞতাকে শক্তি করে দৈনিক সংবাদ দিগন্ত আরও এগিয়ে যাক—সত্য, সততা, জনস্বার্থ ও গঠনমূলক সাংবাদিকতার পথে। সংবাদ হোক মানুষের কথা বলার মাধ্যম। সাংবাদিকতা হোক সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতিশ্রুতি। আর দৈনিক সংবাদ দিগন্ত হয়ে উঠুক সেই প্রতিশ্রুতির আরও শক্তিশালী বাহক।** ১৪ বছরে পদার্পণের এই শুভক্ষণে দৈনিক সংবাদ দিগন্তের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি, দীর্ঘায়ু ও সাফল্য কামনা করছি। লেখক: শেখ আমিনুর হোসেন, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
১৪ বছরে দৈনিক সংবাদ দিগন্ত: সত্য, জনস্বার্থ ও গণমাধ্যমের দায়বদ্ধতার পথে আরও এক ধাপ
0:00 0:00
1.0x