রাজশাহীতে রাসায়নিক সারের বরাদ্দ স্বাভাবিক থাকলেও বাস্তবে কাটছে না সার-সংকট। কৃষকদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে সার কিনতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও সারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটেছে।কৃষি বিভাগ বলছে চলতি সেপ্টেম্বরে রাজশাহীতে ৫ হাজার ১৮৬ মেট্রিক টন ইউরিয়া ১ হাজার ৪৫ মেট্রিক টন টিএসপি ১ হাজার ৬২৯ মেট্রিক টন এমওপি এবং ৩ হাজার ১৫ টন ডিএপি বরাদ্দ রয়েছে। গত বছরের একই সময়ের বরাদ্দের সঙ্গে তুলনা করলে এবার পরিমাণে বড় ধরনের ঘাটতি নেই।তবে মাঠের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। আগস্টের শুরু থেকেই রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় সারের জন্য কৃষকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি পুঠিয়ার বানেশ্বরে সারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভও করেছেন কৃষকেরা।সংশ্লিষ্টদের মতে এর পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করছে। অক্টোবর থেকে রাজশাহীতে আলু চাষ শুরু হবে। আলু আবাদে তুলনামূলক বেশি সার প্রয়োজন হওয়ায় অনেক চাষি আগেভাগেই সার কিনছেন। আবার সার-সংকটের খবর ছড়িয়ে পড়ায় কেউ কেউ ভবিষ্যতের জন্য অতিরিক্ত সার মজুত করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।এ ছাড়া রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কেউ কেউ অতিরিক্ত সার নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে কিছু অসাধু ডিলার সার গোপনে মজুত রেখে বেশি দামে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন, ঠাকুরগাঁওয়ে পরিত্যক্ত ঘরে জুয়া ৪ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার
এরই মধ্যে গোদাগাড়ী ও দুর্গাপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে সার জব্দ এবং ডিলারদের জেল-জরিমানা করা হয়েছে।সারের সংকটের আরেকটি কারণ হিসেবে উঠে এসেছে মাছের পুকুরে রাসায়নিক সার ব্যবহার। রাজশাহীতে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার হেক্টর আবাদি জমির পাশাপাশি প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে রয়েছে প্রায় ৫০ হাজার পুকুর। মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরিতে ইউরিয়া ও টিএসপি সার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।রাজশাহীর মৎস্য কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরির জন্য প্রতি শতকে প্রতিদিন ১০ গ্রাম ইউরিয়া ও ১০ গ্রাম টিএসপি প্রয়োজন। সেই হিসাবে রাজশাহীর পুকুরগুলোতে প্রতি মাসে প্রায় ১ হাজার ৩৩৪ মেট্রিক টন ইউরিয়া এবং একই পরিমাণ টিএসপি প্রয়োজন হতে পারে। মৎস্য বিভাগ প্রতিবছর এ সারের চাহিদা মন্ত্রণালয়ে জানায়।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহীর উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন বলেন পুকুরের জন্য আলাদা সার বরাদ্দ নেই। ফসলি জমির জন্য বরাদ্দ করা সার থেকেই পুকুরের প্রয়োজন মেটানো হচ্ছে। তার মতে এটিও সার-সংকটের অন্যতম কারণ।এদিকে রাজশাহীতে সারের মজুত পরিস্থিতি দেখতে সম্প্রতি বিএডিসি ও বিসিআইসি সারের গুদাম পরিদর্শন করেছেন বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন রাজশাহীতে সারের কোনো সংকট নেই।তবে কৃষকের অভিযোগ এবং মাঠপর্যায়ের চিত্রের সঙ্গে এই বক্তব্যের পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে বরাদ্দ স্বাভাবিক থাকার পরও কৃষকের হাতে সার পৌঁছাতে কোথায় ঘাটতি তৈরি হচ্ছে তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
বিষয় : অবরোধ সারের সংকট সারের বরাদ্দ

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজশাহীতে রাসায়নিক সারের বরাদ্দ স্বাভাবিক থাকলেও বাস্তবে কাটছে না সার-সংকট। কৃষকদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে সার কিনতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও সারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটেছে।কৃষি বিভাগ বলছে চলতি সেপ্টেম্বরে রাজশাহীতে ৫ হাজার ১৮৬ মেট্রিক টন ইউরিয়া ১ হাজার ৪৫ মেট্রিক টন টিএসপি ১ হাজার ৬২৯ মেট্রিক টন এমওপি এবং ৩ হাজার ১৫ টন ডিএপি বরাদ্দ রয়েছে। গত বছরের একই সময়ের বরাদ্দের সঙ্গে তুলনা করলে এবার পরিমাণে বড় ধরনের ঘাটতি নেই।তবে মাঠের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। আগস্টের শুরু থেকেই রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় সারের জন্য কৃষকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি পুঠিয়ার বানেশ্বরে সারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভও করেছেন কৃষকেরা।সংশ্লিষ্টদের মতে এর পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করছে। অক্টোবর থেকে রাজশাহীতে আলু চাষ শুরু হবে। আলু আবাদে তুলনামূলক বেশি সার প্রয়োজন হওয়ায় অনেক চাষি আগেভাগেই সার কিনছেন। আবার সার-সংকটের খবর ছড়িয়ে পড়ায় কেউ কেউ ভবিষ্যতের জন্য অতিরিক্ত সার মজুত করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।এ ছাড়া রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কেউ কেউ অতিরিক্ত সার নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে কিছু অসাধু ডিলার সার গোপনে মজুত রেখে বেশি দামে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন, ঠাকুরগাঁওয়ে পরিত্যক্ত ঘরে জুয়া ৪ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার
এরই মধ্যে গোদাগাড়ী ও দুর্গাপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে সার জব্দ এবং ডিলারদের জেল-জরিমানা করা হয়েছে।সারের সংকটের আরেকটি কারণ হিসেবে উঠে এসেছে মাছের পুকুরে রাসায়নিক সার ব্যবহার। রাজশাহীতে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার হেক্টর আবাদি জমির পাশাপাশি প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে রয়েছে প্রায় ৫০ হাজার পুকুর। মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরিতে ইউরিয়া ও টিএসপি সার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।রাজশাহীর মৎস্য কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরির জন্য প্রতি শতকে প্রতিদিন ১০ গ্রাম ইউরিয়া ও ১০ গ্রাম টিএসপি প্রয়োজন। সেই হিসাবে রাজশাহীর পুকুরগুলোতে প্রতি মাসে প্রায় ১ হাজার ৩৩৪ মেট্রিক টন ইউরিয়া এবং একই পরিমাণ টিএসপি প্রয়োজন হতে পারে। মৎস্য বিভাগ প্রতিবছর এ সারের চাহিদা মন্ত্রণালয়ে জানায়।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহীর উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন বলেন পুকুরের জন্য আলাদা সার বরাদ্দ নেই। ফসলি জমির জন্য বরাদ্দ করা সার থেকেই পুকুরের প্রয়োজন মেটানো হচ্ছে। তার মতে এটিও সার-সংকটের অন্যতম কারণ।এদিকে রাজশাহীতে সারের মজুত পরিস্থিতি দেখতে সম্প্রতি বিএডিসি ও বিসিআইসি সারের গুদাম পরিদর্শন করেছেন বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন রাজশাহীতে সারের কোনো সংকট নেই।তবে কৃষকের অভিযোগ এবং মাঠপর্যায়ের চিত্রের সঙ্গে এই বক্তব্যের পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে বরাদ্দ স্বাভাবিক থাকার পরও কৃষকের হাতে সার পৌঁছাতে কোথায় ঘাটতি তৈরি হচ্ছে তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

আপনার মতামত লিখুন