গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় একটি মাদ্রাসার ওয়াশরুম ও বারান্দার জানালা, পানির লাইনের পাইপ, ড্রেন ও সেফটি ট্যাংকি আটকে পাঁচটি দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সড়কের পাশের জায়গা বন্দোবস্ত নিয়ে নির্মিত এসব দোকানের কারণে মাদ্রাসার স্বাভাবিক পরিবেশ ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।ঘটনাটি ঘটেছে কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা বাজার এলাকায়। সরেজমিনে দেখা যায়, কুশলা নেছারিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার নতুন ভবনের পশ্চিম পাশে এবং এলজিইডির সড়কের পূর্ব পাশে অল্প জায়গার মধ্যে পাঁচটি দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে।মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, দোকানঘর নির্মাণের কারণে ওয়াশরুম ও বারান্দার জানালা, পানির লাইনের পাইপ, ড্রেন এবং সেফটি ট্যাংকির অংশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে লোডশেডিংয়ের সময় ওয়াশরুমে আলো-বাতাসের সমস্যা হচ্ছে। একই সঙ্গে পানির লাইনের পাইপ আটকে যাওয়ায় পানি তোলাও বন্ধ রয়েছে।মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বাকের হোসাইন বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। ভবন সংকটের কারণে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ভবন নির্মাণের আগে সড়কের পাশে মাদ্রাসার দুটি এবং ব্যবসায়ীদের তিনটি দোকান ছিল। ভবন নির্মাণের সময় সেগুলো অপসারণ করা হয়।
আরও পড়ুন, হিজলায় হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ১৮ বছর পর গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার
অধ্যক্ষের দাবি, ভবন নির্মাণের পর সড়ক ও ভবনের মাঝের জায়গাটি তারা জেলা প্রশাসনের জায়গা হিসেবে জানতেন। পরে হঠাৎ জানতে পারেন, পাঁচ ব্যক্তি জেলা পরিষদ থেকে ওই জায়গা বন্দোবস্ত নিয়ে দোকানঘর নির্মাণ করেছেন।এদিকে জায়গাটির মালিকানা ও বন্দোবস্ত দেওয়ার এখতিয়ার নিয়েই তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। স্থানীয়দের দাবি, জায়গাটি যদি জেলা প্রশাসনের হয়ে থাকে, তাহলে জেলা পরিষদ কীভাবে তা বন্দোবস্ত দিল? আবার জায়গাটি জেলা পরিষদের হলে এতদিন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কেন সেটিকে জেলা প্রশাসনের জায়গা হিসেবে জানত—এ প্রশ্নও উঠেছে।দোকান বরাদ্দ পাওয়া ব্যবসায়ী বুদ্ধিমত্ত বলেন, তিনি আগে থেকেই ওই এলাকায় ব্যবসা করতেন। মাদ্রাসার নতুন ভবন নির্মাণের সময় দোকান সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে জায়গাটি জেলা পরিষদের বলে জানতে পেরে নিয়ম মেনে আবেদন করে বন্দোবস্ত নিয়েছেন।কুশলা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাফিজুর রহমানও দাবি করেন, ১৬ ব্যক্তি জায়গার জন্য আবেদন করেছিলেন। সেখান থেকে পাঁচজনকে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে এবং বন্দোবস্ত পাওয়ার পরই তারা দোকান নির্মাণ করেছেন।মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, দোকান নির্মাণের ফলে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনা কার্যত আটকে গেছে। অন্যদিকে বন্দোবস্ত পাওয়া ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা জেলা পরিষদ থেকে নিয়ম মেনেই জায়গা পেয়েছেন। ফলে জমিটির প্রকৃত মালিকানা ও বন্দোবস্ত প্রক্রিয়া নিয়ে এখনই স্পষ্ট সমাধান চান স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় একটি মাদ্রাসার ওয়াশরুম ও বারান্দার জানালা, পানির লাইনের পাইপ, ড্রেন ও সেফটি ট্যাংকি আটকে পাঁচটি দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সড়কের পাশের জায়গা বন্দোবস্ত নিয়ে নির্মিত এসব দোকানের কারণে মাদ্রাসার স্বাভাবিক পরিবেশ ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।ঘটনাটি ঘটেছে কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা বাজার এলাকায়। সরেজমিনে দেখা যায়, কুশলা নেছারিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার নতুন ভবনের পশ্চিম পাশে এবং এলজিইডির সড়কের পূর্ব পাশে অল্প জায়গার মধ্যে পাঁচটি দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে।মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, দোকানঘর নির্মাণের কারণে ওয়াশরুম ও বারান্দার জানালা, পানির লাইনের পাইপ, ড্রেন এবং সেফটি ট্যাংকির অংশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে লোডশেডিংয়ের সময় ওয়াশরুমে আলো-বাতাসের সমস্যা হচ্ছে। একই সঙ্গে পানির লাইনের পাইপ আটকে যাওয়ায় পানি তোলাও বন্ধ রয়েছে।মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বাকের হোসাইন বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। ভবন সংকটের কারণে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ভবন নির্মাণের আগে সড়কের পাশে মাদ্রাসার দুটি এবং ব্যবসায়ীদের তিনটি দোকান ছিল। ভবন নির্মাণের সময় সেগুলো অপসারণ করা হয়।
আরও পড়ুন, হিজলায় হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ১৮ বছর পর গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার
অধ্যক্ষের দাবি, ভবন নির্মাণের পর সড়ক ও ভবনের মাঝের জায়গাটি তারা জেলা প্রশাসনের জায়গা হিসেবে জানতেন। পরে হঠাৎ জানতে পারেন, পাঁচ ব্যক্তি জেলা পরিষদ থেকে ওই জায়গা বন্দোবস্ত নিয়ে দোকানঘর নির্মাণ করেছেন।এদিকে জায়গাটির মালিকানা ও বন্দোবস্ত দেওয়ার এখতিয়ার নিয়েই তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। স্থানীয়দের দাবি, জায়গাটি যদি জেলা প্রশাসনের হয়ে থাকে, তাহলে জেলা পরিষদ কীভাবে তা বন্দোবস্ত দিল? আবার জায়গাটি জেলা পরিষদের হলে এতদিন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কেন সেটিকে জেলা প্রশাসনের জায়গা হিসেবে জানত—এ প্রশ্নও উঠেছে।দোকান বরাদ্দ পাওয়া ব্যবসায়ী বুদ্ধিমত্ত বলেন, তিনি আগে থেকেই ওই এলাকায় ব্যবসা করতেন। মাদ্রাসার নতুন ভবন নির্মাণের সময় দোকান সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে জায়গাটি জেলা পরিষদের বলে জানতে পেরে নিয়ম মেনে আবেদন করে বন্দোবস্ত নিয়েছেন।কুশলা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাফিজুর রহমানও দাবি করেন, ১৬ ব্যক্তি জায়গার জন্য আবেদন করেছিলেন। সেখান থেকে পাঁচজনকে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে এবং বন্দোবস্ত পাওয়ার পরই তারা দোকান নির্মাণ করেছেন।মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, দোকান নির্মাণের ফলে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনা কার্যত আটকে গেছে। অন্যদিকে বন্দোবস্ত পাওয়া ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা জেলা পরিষদ থেকে নিয়ম মেনেই জায়গা পেয়েছেন। ফলে জমিটির প্রকৃত মালিকানা ও বন্দোবস্ত প্রক্রিয়া নিয়ে এখনই স্পষ্ট সমাধান চান স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন