জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের দ্রোহ, প্রেম, সাম্য, মানবতা ও মুক্তির চেতনাকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে সাতক্ষীরায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সাতক্ষীরা আলিয়া কামিল মাদ্রাসার মিলনায়তনে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা সংগীত, গজল, হামদ-নাত, কবিতা আবৃত্তি, রচনা ও উপস্থিত বক্তৃতায় অংশ নেন। ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকনির্দেশনায় এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পালিত ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬’-এর অংশ হিসেবে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশের পাশাপাশি জাতীয় কবির সাহিত্য, সংগীত ও মানবিক আদর্শের সঙ্গে তাদের পরিচিত করা। আরও পড়ুন,কসবায় ১২০ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তারঅনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা আলিয়া কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মুফতী আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবুল হোসেন। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। নজরুলের ইসলামী সংগীত ও গজল, হামদ-নাত এবং কবিতা আবৃত্তির পাশাপাশি ‘নজরুল ও মানুষের মুক্তি’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতা ও উপস্থিত বক্তৃতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কবির সাহিত্যিক ও আদর্শিক দর্শন তুলে ধরেন। এসব পরিবেশনা ও উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান ও রায়হানুল কবির। প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন এসএম শহীদুল ইসলাম, নাসির উদ্দীন ও মেহেরুন নেছা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিক্ষক মতিউর রহমান। এ সময় মাদ্রাসার শিক্ষক-প্রতিনিধি ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেন।বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে কাজী নজরুল ইসলামের সাম্যবাদী, মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক দর্শনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মুক্তির বার্তাও বহন করে। শিক্ষার্থীদের পাঠ্যশিক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চায় সম্পৃক্ত করা গেলে তাদের সৃজনশীলতা, মননশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটবে।বক্তারা আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে জাতীয় কবির উদার, সাম্যবাদী ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা জাগ্রত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ইসলামী শিক্ষাঙ্গনে নজরুলের সাহিত্য ও সংগীতচর্চা শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক বিকাশের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ সমৃদ্ধ করতেও সহায়ক হবে।আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মারক আদেশের আলোকে এ সাংস্কৃতিক উৎসবের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে প্রাতিষ্ঠানিক ধাপ পেরিয়ে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিস্তৃত হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপস্থিত অতিথিরা।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।