মাত্র ১১৪ রান। ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪৪ রানেই ৫ উইকেট হারানো শ্রীলঙ্কা।জয়ের পাল্লা তখন বাংলাদেশের দিকেই ভারী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচই হাতছাড়া হলো নিগার সুলতানা জ্যোতিদের।নারী এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার কাছে ৪ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। ৪ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে লঙ্কানরা। এই জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে শ্রীলঙ্কা। আর বাংলাদেশের সামনে এখন শেষ ম্যাচে জয় ছাড়া বিকল্প নেই।দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু জুয়ারিয়া ফেরদৌসের ১৪ রানের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি।দিলারা আক্তার করেন ২৬ রান। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ফেরেন মাত্র ৪ রানে। দ্রুত বিদায় নেন স্বর্ণা আক্তার ও রিতু মনিও।মিডলঅর্ডারের ব্যর্থতায় বড় সংগ্রহের আশা শেষ হয়ে গেলেও এক প্রান্ত আগলে লড়াই চালিয়ে যান সোবহানা মোস্তারি। ৪১ বলে তাঁর ৩৪ রানের ইনিংস এবং ফাহিমা আক্তারের ১৪ রানে কোনো রকমে ১১৪ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশের বোলাররা শুরুতেই চেপে ধরেন শ্রীলঙ্কাকে। প্রথম ওভারেই চামারি আতাপাত্তুকে ফেরান মারুফা আক্তার।
আড়ও পড়ুন,লাবুশেনের বাজে ফর্ম, তবু দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার দলে
দ্বিতীয় ওভারে ইমিশা দুলানিকেও বোল্ড করেন তিনি।এরপর সুলতানা খাতুন ও ফাহিমা খাতুনের বোলিং-ফিল্ডিংয়ে মাত্র ৪৪ রানেই ৫ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। তখন জয়টা বাংলাদেশের হাতের মুঠোয় বলেই মনে হচ্ছিল।কিন্তু নিলাকশি ডি সিলভা ও হার্শিতা সামারাবিক্রমা মিলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। তাঁদের ৩৮ রানের জুটি ভাঙলেও থামানো যায়নি হার্শিতাকে।শেষদিকে গুরুত্বপূর্ণ এক ওভারে রিতু মনির খরচ করা ১৬ রান বাংলাদেশের ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন করে দেয়। শেষ পর্যন্ত ৪৮ রানে অপরাজিত থেকে শ্রীলঙ্কাকে জয় এনে দেন হার্শিতা। হন ম্যাচসেরাও।মারুফা তিন উইকেট নিয়েও দলকে জেতাতে পারেননি। আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের টানা হার দাঁড়াল সাত ম্যাচে।এখন সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে শেষ ম্যাচে স্বাগতিক আরব আমিরাতকে হারাতেই হবে বাংলাদেশকে।অল্প পুঁজি।শুরুতে দুর্দান্ত বোলিং।প্রতিপক্ষের ৫ উইকেট মাত্র ৪৪ রানে।সবকিছুই যেন বাংলাদেশের পক্ষে ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি নিগার সুলতানার দল।১১৪ রানের লক্ষ্যটা শুরুতেই কঠিন করে দেয় বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ। মারুফা আক্তারের আগুনঝরা বোলিংয়ে দ্রুত দুই উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। এরপর একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশ।কিন্তু ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বোলিংয়ে ছন্দ হারায় বাংলাদেশ। নিলাকশি ও হার্শিতার জুটি শ্রীলঙ্কাকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়। নিলাকশি ফিরলেও হার্শিতা ছিলেন অবিচল।অন্যদিকে, বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংসেই ম্যাচের ভিতটা দুর্বল হয়ে যায়। শুরুটা ভালো হলেও মিডলঅর্ডারের ব্যর্থতায় ১২০ পেরোতে পারেনি দল। সোবহানা মোস্তারির লড়াকু ইনিংস শেষ পর্যন্ত দলকে ১১৪ পর্যন্ত নিয়ে যায়।এই ম্যাচে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ—৪৪ রানে শ্রীলঙ্কার ৫ উইকেট ফেলে দিয়েও জয় নিশ্চিত করতে না পারা।শেষদিকে রিতু মনির এক ওভারে ১৬ রান ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ।ফলে শ্রীলঙ্কার কাছে ৪ উইকেটের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় জ্যোতিদের। এখন সামনে শুধু একটি ম্যাচ। আরব আমিরাতের বিপক্ষে সেই ম্যাচই হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে ওঠার বাঁচা-মরার লড়াই।
বিষয় : হার খুব কাছে গিয়েও

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মাত্র ১১৪ রান। ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪৪ রানেই ৫ উইকেট হারানো শ্রীলঙ্কা।জয়ের পাল্লা তখন বাংলাদেশের দিকেই ভারী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচই হাতছাড়া হলো নিগার সুলতানা জ্যোতিদের।নারী এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার কাছে ৪ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। ৪ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে লঙ্কানরা। এই জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে শ্রীলঙ্কা। আর বাংলাদেশের সামনে এখন শেষ ম্যাচে জয় ছাড়া বিকল্প নেই।দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু জুয়ারিয়া ফেরদৌসের ১৪ রানের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি।দিলারা আক্তার করেন ২৬ রান। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ফেরেন মাত্র ৪ রানে। দ্রুত বিদায় নেন স্বর্ণা আক্তার ও রিতু মনিও।মিডলঅর্ডারের ব্যর্থতায় বড় সংগ্রহের আশা শেষ হয়ে গেলেও এক প্রান্ত আগলে লড়াই চালিয়ে যান সোবহানা মোস্তারি। ৪১ বলে তাঁর ৩৪ রানের ইনিংস এবং ফাহিমা আক্তারের ১৪ রানে কোনো রকমে ১১৪ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশের বোলাররা শুরুতেই চেপে ধরেন শ্রীলঙ্কাকে। প্রথম ওভারেই চামারি আতাপাত্তুকে ফেরান মারুফা আক্তার।
আড়ও পড়ুন,লাবুশেনের বাজে ফর্ম, তবু দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার দলে
দ্বিতীয় ওভারে ইমিশা দুলানিকেও বোল্ড করেন তিনি।এরপর সুলতানা খাতুন ও ফাহিমা খাতুনের বোলিং-ফিল্ডিংয়ে মাত্র ৪৪ রানেই ৫ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। তখন জয়টা বাংলাদেশের হাতের মুঠোয় বলেই মনে হচ্ছিল।কিন্তু নিলাকশি ডি সিলভা ও হার্শিতা সামারাবিক্রমা মিলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। তাঁদের ৩৮ রানের জুটি ভাঙলেও থামানো যায়নি হার্শিতাকে।শেষদিকে গুরুত্বপূর্ণ এক ওভারে রিতু মনির খরচ করা ১৬ রান বাংলাদেশের ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন করে দেয়। শেষ পর্যন্ত ৪৮ রানে অপরাজিত থেকে শ্রীলঙ্কাকে জয় এনে দেন হার্শিতা। হন ম্যাচসেরাও।মারুফা তিন উইকেট নিয়েও দলকে জেতাতে পারেননি। আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের টানা হার দাঁড়াল সাত ম্যাচে।এখন সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে শেষ ম্যাচে স্বাগতিক আরব আমিরাতকে হারাতেই হবে বাংলাদেশকে।অল্প পুঁজি।শুরুতে দুর্দান্ত বোলিং।প্রতিপক্ষের ৫ উইকেট মাত্র ৪৪ রানে।সবকিছুই যেন বাংলাদেশের পক্ষে ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি নিগার সুলতানার দল।১১৪ রানের লক্ষ্যটা শুরুতেই কঠিন করে দেয় বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ। মারুফা আক্তারের আগুনঝরা বোলিংয়ে দ্রুত দুই উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। এরপর একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশ।কিন্তু ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বোলিংয়ে ছন্দ হারায় বাংলাদেশ। নিলাকশি ও হার্শিতার জুটি শ্রীলঙ্কাকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়। নিলাকশি ফিরলেও হার্শিতা ছিলেন অবিচল।অন্যদিকে, বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংসেই ম্যাচের ভিতটা দুর্বল হয়ে যায়। শুরুটা ভালো হলেও মিডলঅর্ডারের ব্যর্থতায় ১২০ পেরোতে পারেনি দল। সোবহানা মোস্তারির লড়াকু ইনিংস শেষ পর্যন্ত দলকে ১১৪ পর্যন্ত নিয়ে যায়।এই ম্যাচে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ—৪৪ রানে শ্রীলঙ্কার ৫ উইকেট ফেলে দিয়েও জয় নিশ্চিত করতে না পারা।শেষদিকে রিতু মনির এক ওভারে ১৬ রান ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ।ফলে শ্রীলঙ্কার কাছে ৪ উইকেটের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় জ্যোতিদের। এখন সামনে শুধু একটি ম্যাচ। আরব আমিরাতের বিপক্ষে সেই ম্যাচই হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে ওঠার বাঁচা-মরার লড়াই।

আপনার মতামত লিখুন