দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনায় চাকরি ফিরে পেতে হাজ্জাজ বিন আজিজের

 প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনায় চাকরি  ফিরে পেতে হাজ্জাজ বিন আজিজের
চাকরি ফিরে পেতে হাজ্জাজ বিন আজিজের

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কেমিকৌশল বিভাগের অফিস সহায়ক হাজ্জাজ বিন আজিজ চাকরি হারিয়ে বর্তমানে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ করেছেন।যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ এলাকার চন্ডিপুর গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তান হাজ্জাজ বিন আজিজের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিষ্কৃত সহকারী অধ্যাপক ও আওয়ামী দোসর হিসেবে পরিচিত ড. সুজন চৌধুরীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তিনি চাকরি হারিয়েছেন।তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।হাজ্জাজ বিন আজিজ জানান, তিনি দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২৮ জানুয়ারি ২০১৭ সালে চাকরিতে যোগদান করেন। তার দাবি, ২০২২ সালে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তিনি চাকরি হারান।তিনি আরও জানান, চাকরি হারানোর পরও প্রতিষ্ঠানের পরিবহন দপ্তরে প্রায় ১৪ মাস বিনা বেতনে শ্রম দিয়েছেন তিনি। চাকরিটিই ছিল তার পরিবারের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন। সেই চাকরি হারিয়ে বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান।দাবি, চাকরি স্থায়ী করার বিষয়ে তদন্তের সময় তিনি জানতে পারেন যে, তিনি বিএনপি পরিবারের সন্তান হওয়ায় তার চাকরি স্থায়ীকরণ করা হয়নি।তিনি যশোর সরকারি এম এম কলেজ থেকে সমাজবিজ্ঞানে অনার্স মাস্টার্স কমপ্লিট করেছেন।অতি দরিদ্র পরিবারের সন্তান হাজ্জাজ নিজেকে এতিম ও অসহায় উল্লেখ করে বলেন, জীবনে অনেক কষ্ট করে তিনি চাকরিটি পেয়েছিলেন। দীর্ঘদিন কর্মজীবনের পর হঠাৎ চাকরি হারানোয় তার পরিবারও চরম সংকটে পড়েছে। বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরও  পড়ুন, আবাসিক মিটারে ১১ বছর ধরে বাণিজ্যিক ডিস-ইন্টারনেটের সার্ভার, রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ

হাজ্জাজ বিন আজিজ বলেন,“আমি একজন এতিম, অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের সন্তান। প্রায় ছয় বছর প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছি। চাকরিটিই ছিল আমার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। এখন চাকরি হারিয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।আমি কারও অন্যায় সুবিধা চাই না। শুধু আমার সঙ্গে কী ঘটেছে, তার নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। যদি তদন্তে আমার কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়, আমি তা মেনে নেব। আর যদি আমি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে থাকি, তাহলে ন্যায়বিচারের স্বার্থে আমার চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করছি।”তিনি আরও বলেন, এতদিন তিনি বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার অপেক্ষায় ছিলেন, যাতে বিষয়টি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হয় এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।হারানো চাকরি ফিরে পাওয়ার আশায় হাজ্জাজ বিন আজিজ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি তার বিষয়টি মানবিক ও ন্যায়সংগত দৃষ্টিতে বিবেচনা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।এছাড়াও তিনি মাননীয় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের আন্তরিক সহযোগিতা ও সদয় হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করেছেন।স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পর জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে কোনো মানুষ যেন অসহায় হয়ে না পড়েন, বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিবেচনা করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।হাজ্জাজ বিন আজিজের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তার বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেবে এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে তার ভবিষ্যৎ জীবনের অনিশ্চয়তা দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে—এমনটাই তার প্রত্যাশা।

বিষয় : চাকরি আজিজ হস্তক্ষেপ কামনা চাকরি

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনায় চাকরি ফিরে পেতে হাজ্জাজ বিন আজিজের

প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কেমিকৌশল বিভাগের অফিস সহায়ক হাজ্জাজ বিন আজিজ চাকরি হারিয়ে বর্তমানে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ করেছেন।যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ এলাকার চন্ডিপুর গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তান হাজ্জাজ বিন আজিজের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিষ্কৃত সহকারী অধ্যাপক ও আওয়ামী দোসর হিসেবে পরিচিত ড. সুজন চৌধুরীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তিনি চাকরি হারিয়েছেন।তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।হাজ্জাজ বিন আজিজ জানান, তিনি দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২৮ জানুয়ারি ২০১৭ সালে চাকরিতে যোগদান করেন। তার দাবি, ২০২২ সালে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তিনি চাকরি হারান।তিনি আরও জানান, চাকরি হারানোর পরও প্রতিষ্ঠানের পরিবহন দপ্তরে প্রায় ১৪ মাস বিনা বেতনে শ্রম দিয়েছেন তিনি। চাকরিটিই ছিল তার পরিবারের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন। সেই চাকরি হারিয়ে বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান।দাবি, চাকরি স্থায়ী করার বিষয়ে তদন্তের সময় তিনি জানতে পারেন যে, তিনি বিএনপি পরিবারের সন্তান হওয়ায় তার চাকরি স্থায়ীকরণ করা হয়নি।তিনি যশোর সরকারি এম এম কলেজ থেকে সমাজবিজ্ঞানে অনার্স মাস্টার্স কমপ্লিট করেছেন।অতি দরিদ্র পরিবারের সন্তান হাজ্জাজ নিজেকে এতিম ও অসহায় উল্লেখ করে বলেন, জীবনে অনেক কষ্ট করে তিনি চাকরিটি পেয়েছিলেন। দীর্ঘদিন কর্মজীবনের পর হঠাৎ চাকরি হারানোয় তার পরিবারও চরম সংকটে পড়েছে। বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরও  পড়ুন, আবাসিক মিটারে ১১ বছর ধরে বাণিজ্যিক ডিস-ইন্টারনেটের সার্ভার, রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ

হাজ্জাজ বিন আজিজ বলেন,“আমি একজন এতিম, অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের সন্তান। প্রায় ছয় বছর প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছি। চাকরিটিই ছিল আমার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। এখন চাকরি হারিয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।আমি কারও অন্যায় সুবিধা চাই না। শুধু আমার সঙ্গে কী ঘটেছে, তার নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। যদি তদন্তে আমার কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়, আমি তা মেনে নেব। আর যদি আমি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে থাকি, তাহলে ন্যায়বিচারের স্বার্থে আমার চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করছি।”তিনি আরও বলেন, এতদিন তিনি বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার অপেক্ষায় ছিলেন, যাতে বিষয়টি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হয় এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।হারানো চাকরি ফিরে পাওয়ার আশায় হাজ্জাজ বিন আজিজ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি তার বিষয়টি মানবিক ও ন্যায়সংগত দৃষ্টিতে বিবেচনা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।এছাড়াও তিনি মাননীয় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের আন্তরিক সহযোগিতা ও সদয় হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করেছেন।স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পর জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে কোনো মানুষ যেন অসহায় হয়ে না পড়েন, বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিবেচনা করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।হাজ্জাজ বিন আজিজের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তার বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেবে এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে তার ভবিষ্যৎ জীবনের অনিশ্চয়তা দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে—এমনটাই তার প্রত্যাশা।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত