দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬

শিশু অভিযুক্ত কিন্তু অপরাধীরা আড়ালে

শিশু অভিযুক্ত কিন্তু অপরাধীরা আড়ালে
১৬ বছরের এক শিশুর হাতে ইয়াবা পাওয়ার পর মামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধেই।

১৬ বছরের এক শিশুর হাতে ইয়াবা পাওয়ার পর মামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধেই। কিন্তু যে ব্যক্তি শিশুটিকে মাদক বহনে ব্যবহার করেছে, আর আটকের পর যারা তাকে গণপিটুনি দিয়েছে—তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ।ঘটনাটি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম শিশু আদালত-১-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ সাইফুর রহমান।গত ১৫ আগস্ট রাতে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার তামাকুমুন্ডি লেইন এলাকায় ওই শিশুকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ২১টি ইয়াবা ট্যাবলেট। এরপর শিশুটির বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করে পুলিশ।কিন্তু আদালতে হাজির করার পর খাসকামরায় শিশুটির বক্তব্য শুনে বেরিয়ে আসে ভিন্ন চিত্র।শিশুটি জানায়, এক ব্যক্তি তাকে মাদক অন্য একজনের কাছে পৌঁছে দিতে বলেছিল। বিনিময়ে দেওয়া হবে ২০০ টাকা।

আরও পড়ুন.যশোরে মাকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যা, ১৭ ঘণ্টায় শিক্ষক ছেলে গ্রেফতার

ক্ষুধার তাড়নায় সেই প্রস্তাবে রাজি হয় সে।আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, শিশুটি কোনো সংগঠিত মাদক ব্যবসায়ী নয়; বরং তার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাকে মাদক বহনে ব্যবহার করা হয়েছে।শিশু আইনে কোনো শিশুকে অবৈধ বস্তু বহনে ব্যবহার করাও অপরাধ। এ অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।অন্যদিকে, শিশুটিকে আটকের পর দেওয়া হয় গণপিটুনি। অথচ এ ঘটনায় কোনো মামলা, তদন্ত বা দায়ীদের শনাক্তের উদ্যোগ নেয়নি পুলিশ।বিচারক বলেছেন, অপরাধের বিচার করবে আদালত, রাস্তার জনতা নয়। একজন প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে যে নীতি প্রযোজ্য, শিশুর ক্ষেত্রে তা আরও কঠোরভাবে প্রযোজ্য।আদালত শিশুটিকে মারধরের ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন.বাসন থানার বিশেষ অভিযানে ১১ জন গ্রেফতার, আদালতে প্রেরণ

পাশাপাশি তাকে মাদক বহনে ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।এ ঘটনায় পুলিশকে শিশু আইনের বিধান যথাযথভাবে না মানার জন্যও ভর্ৎসনা করেছে আদালত। এমনকি শিশুটির পরিচয় গোপন রাখার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।কারণ, শিশুটি অভিযুক্ত হলেও সে একই সঙ্গে নির্যাতন ও শোষণের শিকার—আর এই দুই পরিচয়ের মধ্যে আইন কোনোটিকেই উপেক্ষা করার সুযোগ দেয় না।

বিষয় : শিশু অভিযুক্ত অপরাধীরা আড়ালে

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


শিশু অভিযুক্ত কিন্তু অপরাধীরা আড়ালে

প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

১৬ বছরের এক শিশুর হাতে ইয়াবা পাওয়ার পর মামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধেই। কিন্তু যে ব্যক্তি শিশুটিকে মাদক বহনে ব্যবহার করেছে, আর আটকের পর যারা তাকে গণপিটুনি দিয়েছে—তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ।ঘটনাটি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম শিশু আদালত-১-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ সাইফুর রহমান।গত ১৫ আগস্ট রাতে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার তামাকুমুন্ডি লেইন এলাকায় ওই শিশুকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ২১টি ইয়াবা ট্যাবলেট। এরপর শিশুটির বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করে পুলিশ।কিন্তু আদালতে হাজির করার পর খাসকামরায় শিশুটির বক্তব্য শুনে বেরিয়ে আসে ভিন্ন চিত্র।শিশুটি জানায়, এক ব্যক্তি তাকে মাদক অন্য একজনের কাছে পৌঁছে দিতে বলেছিল। বিনিময়ে দেওয়া হবে ২০০ টাকা।

আরও পড়ুন.যশোরে মাকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যা, ১৭ ঘণ্টায় শিক্ষক ছেলে গ্রেফতার

ক্ষুধার তাড়নায় সেই প্রস্তাবে রাজি হয় সে।আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, শিশুটি কোনো সংগঠিত মাদক ব্যবসায়ী নয়; বরং তার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাকে মাদক বহনে ব্যবহার করা হয়েছে।শিশু আইনে কোনো শিশুকে অবৈধ বস্তু বহনে ব্যবহার করাও অপরাধ। এ অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।অন্যদিকে, শিশুটিকে আটকের পর দেওয়া হয় গণপিটুনি। অথচ এ ঘটনায় কোনো মামলা, তদন্ত বা দায়ীদের শনাক্তের উদ্যোগ নেয়নি পুলিশ।বিচারক বলেছেন, অপরাধের বিচার করবে আদালত, রাস্তার জনতা নয়। একজন প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে যে নীতি প্রযোজ্য, শিশুর ক্ষেত্রে তা আরও কঠোরভাবে প্রযোজ্য।আদালত শিশুটিকে মারধরের ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন.বাসন থানার বিশেষ অভিযানে ১১ জন গ্রেফতার, আদালতে প্রেরণ

পাশাপাশি তাকে মাদক বহনে ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।এ ঘটনায় পুলিশকে শিশু আইনের বিধান যথাযথভাবে না মানার জন্যও ভর্ৎসনা করেছে আদালত। এমনকি শিশুটির পরিচয় গোপন রাখার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।কারণ, শিশুটি অভিযুক্ত হলেও সে একই সঙ্গে নির্যাতন ও শোষণের শিকার—আর এই দুই পরিচয়ের মধ্যে আইন কোনোটিকেই উপেক্ষা করার সুযোগ দেয় না।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত