কেন হারিয়ে যাচ্ছে শিশুরা, সাত মাসে নিখোঁজের জিডি ১৫ হাজারের বেশি
অভিমান করে বাড়ি থেকে পালিয়ে ট্রেনে উঠে সাত বছরের অনিক। ঢাকার কমলাপুর থেকে ময়মনসিংহে পৌঁছানোর পর একা শিশুটিকে দেখে স্থানীয়রা খবর দেন শিশু সহায়তা হেল্পলাইন ১০৯৮-এ। পরে রেলওয়ে পুলিশ ও সমাজকর্মীদের সহায়তায় পরিবারের কাছে ফিরে যায় অনিক।অনিকের মতো অনেক শিশুই নিখোঁজ হওয়ার পর আবার পরিবারের কাছে ফিরে আসে। কিন্তু চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি হয়েছে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নামে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জন উদ্ধার হলেও এখনো সন্ধান মেলেনি ২ হাজার ৩৮ শিশুর।পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সি শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ৪৭৪টি জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ৪০৬ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো সন্ধান মেলেনি ৬৮ জনের।সবচেয়ে বেশি নিখোঁজের জিডি হয়েছে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সি শিশুদের নিয়ে। এ বয়সি শিশু নিখোঁজের সংখ্যা ১৫ হাজার ২৪৩। এর মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বা তারা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি ১ হাজার ৯৭০ জনের।আরও পড়ুন, তরুণদের জন্য সুখবর, বিনামূল্যে দুই মাসের এআই প্রশিক্ষণপুলিশ ও শিশু অধিকার সংশ্লিষ্টদের মতে, শিশু নিখোঁজের পেছনে একক কোনো কারণ নেই। অভিমান, পারিবারিক কলহ, পড়াশোনার চাপ, স্বাধীনভাবে থাকার আকাঙ্ক্ষা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অপহরণ ও পাচারের মতো গুরুতর ঘটনাও রয়েছে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের মতে, নিখোঁজ শিশুদের একটি বড় অংশ ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সি। তারা অনেক সময় বন্ধুদের সঙ্গে পালিয়ে যায়।শিশু সহায়তা হেল্পলাইন ১০৯৮-এর তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের শাসন, বাবা-মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে, পারিবারিক ঝগড়া, অভাবসহ বিভিন্ন কারণে শিশু নিখোঁজের ঘটনা ঘটে। মেয়েশিশুদের ক্ষেত্রে পাচার, গৃহশ্রমিক হিসেবে নির্যাতন, অপহরণ কিংবা প্রেমের সম্পর্কের কারণে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাও রয়েছে।অন্যদিকে অপরাধবিজ্ঞানীদের মতে, কিছু শিশু অপহরণের শিকার হয়ে ভিক্ষাবৃত্তি কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হয়। পরে তাদের একটি অংশ অপরাধচক্রের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়তে পারে।পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাবে, ২০২৩ সালে নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে জিডি হয়েছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি। ২০২৪ সালে তা কমে ১৬ হাজার ৪১৪ হলেও ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ২২ হাজার ৫৫০টিতে।পুলিশ বলছে, অনলাইন জিডি চালুর ফলে নিখোঁজ সংক্রান্ত অভিযোগ করা সহজ হওয়ায় সংখ্যাটি বেড়েছে। তাই শুধু নিখোঁজের সংখ্যা নয়, একই সঙ্গে কতজন উদ্ধার হয়েছে এবং কতজন এখনো নিখোঁজ—সেটিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।