রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর বাল্যবিবাহ পড়ানোর অভিযোগ উঠেছে নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলীর বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতেই বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে নোহালী ইউনিয়নের মধ্যকচুয়া বাবুপাড়া এলাকায় ছেলের বাড়িতে ওই বিয়ে পড়ানো হয়। তবে চেয়ারম্যান আশরাফ আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ওই রাতে সেখানে কোনো বিয়ে হয়নি।কিশোরী পূজা রাণী (১৬) রংপুর মহানগরীর মধ্য অভিরাম শুকানচৌকি এলাকার বাসিন্দা। তাঁর মা ঝর্না রাণী রায় গঙ্গাচড়া মডেল থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে জানান, তাঁর স্বামী মৃত পবিত্র চন্দ্র রায়।লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ১৭ আগস্ট সকালে বাড়ির সামনে থেকে পূজা রাণীকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তাঁর মা। এ ঘটনায় চন্দন চন্দ্র রায় ওরফে রকি, তাঁর বাবা চিত্তরঞ্জন চন্দ্র রায়, সুজিত চন্দ্র রায় ওরফে শুকচাঁদ (৫৮)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।পরিবারের দাবি, মেয়েটিকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি। পরে জানতে পারেন, পূজাকে চন্দনের বাড়িতে রাখা হয়েছে। এরপর বুধবার রাতে সেখানে তাঁর বিয়ের আয়োজন করা হয়।
আরও পড়ুন, মাদারীপুর জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড, কল্যাণ সভা ও অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত
কিশোরীর মা ঝর্না রাণী রায় বলেন, “আমার মেয়ের বয়স ১৬ বছর। তাকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার পর আবার ছেলের বাড়িতে নিয়ে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান সেখানে উপস্থিত থেকে বিয়ে পড়িয়েছেন। একজন জনপ্রতিনিধির সামনে কীভাবে আমার মেয়ের বাল্যবিয়ে হলো, সেটাই আমার প্রশ্ন।”পরিবারের আরও অভিযোগ, বিয়ের খবর পেয়ে মেয়ের বাড়ির এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি ছেলের বাড়িতে গেলে চেয়ারম্যান তাঁদের হুমকি-ধামকি দিয়ে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী বলেন, “ছেলেটির বাড়ি আমার ইউনিয়নে। ছেলেটির বাবা আমাকে বলেছিলেন, তাঁর ছেলে একটি মেয়েকে নিয়ে পালিয়েছে। আমি তখন ছেলের বাবাকে তাঁর ছেলেকে খুঁজে বের করতে বলি। পরে তাঁরা বিভিন্ন সময় তাঁদের বাড়িতে আমাকে ডাকেন। তাঁদের ডাকেই আমি সেখানে কথা বলতে গিয়েছিলাম।”তিনি আরও বলেন, “গতকাল সেখানে কোনো বিয়ে হয়নি। তবে শুনেছি, তারা কয়েক দিন আগেই কোনো একটি মন্দিরে মালা বদল করে বিয়ে করেছে।”এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তারের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।কিশোরীর বয়স ১৬ বছর হওয়া এবং তাঁকে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে পরিবার।
বিষয় : ইউপি চেয়ারম্যান কিশোরী নিহত বাল্যবিবাহ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর বাল্যবিবাহ পড়ানোর অভিযোগ উঠেছে নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলীর বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতেই বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে নোহালী ইউনিয়নের মধ্যকচুয়া বাবুপাড়া এলাকায় ছেলের বাড়িতে ওই বিয়ে পড়ানো হয়। তবে চেয়ারম্যান আশরাফ আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ওই রাতে সেখানে কোনো বিয়ে হয়নি।কিশোরী পূজা রাণী (১৬) রংপুর মহানগরীর মধ্য অভিরাম শুকানচৌকি এলাকার বাসিন্দা। তাঁর মা ঝর্না রাণী রায় গঙ্গাচড়া মডেল থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে জানান, তাঁর স্বামী মৃত পবিত্র চন্দ্র রায়।লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ১৭ আগস্ট সকালে বাড়ির সামনে থেকে পূজা রাণীকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তাঁর মা। এ ঘটনায় চন্দন চন্দ্র রায় ওরফে রকি, তাঁর বাবা চিত্তরঞ্জন চন্দ্র রায়, সুজিত চন্দ্র রায় ওরফে শুকচাঁদ (৫৮)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।পরিবারের দাবি, মেয়েটিকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি। পরে জানতে পারেন, পূজাকে চন্দনের বাড়িতে রাখা হয়েছে। এরপর বুধবার রাতে সেখানে তাঁর বিয়ের আয়োজন করা হয়।
আরও পড়ুন, মাদারীপুর জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড, কল্যাণ সভা ও অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত
কিশোরীর মা ঝর্না রাণী রায় বলেন, “আমার মেয়ের বয়স ১৬ বছর। তাকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার পর আবার ছেলের বাড়িতে নিয়ে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান সেখানে উপস্থিত থেকে বিয়ে পড়িয়েছেন। একজন জনপ্রতিনিধির সামনে কীভাবে আমার মেয়ের বাল্যবিয়ে হলো, সেটাই আমার প্রশ্ন।”পরিবারের আরও অভিযোগ, বিয়ের খবর পেয়ে মেয়ের বাড়ির এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি ছেলের বাড়িতে গেলে চেয়ারম্যান তাঁদের হুমকি-ধামকি দিয়ে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী বলেন, “ছেলেটির বাড়ি আমার ইউনিয়নে। ছেলেটির বাবা আমাকে বলেছিলেন, তাঁর ছেলে একটি মেয়েকে নিয়ে পালিয়েছে। আমি তখন ছেলের বাবাকে তাঁর ছেলেকে খুঁজে বের করতে বলি। পরে তাঁরা বিভিন্ন সময় তাঁদের বাড়িতে আমাকে ডাকেন। তাঁদের ডাকেই আমি সেখানে কথা বলতে গিয়েছিলাম।”তিনি আরও বলেন, “গতকাল সেখানে কোনো বিয়ে হয়নি। তবে শুনেছি, তারা কয়েক দিন আগেই কোনো একটি মন্দিরে মালা বদল করে বিয়ে করেছে।”এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তারের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।কিশোরীর বয়স ১৬ বছর হওয়া এবং তাঁকে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে পরিবার।

আপনার মতামত লিখুন