সিলেটে যাত্রীদের স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রায় ১১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়ন করা কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এখন অব্যবস্থাপনায় জৌলুস হারাতে বসেছে। যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরেনি, টার্মিনালের সামনের মূল সড়কে এলোপাতাড়িভাবে রাখা হচ্ছে শত শত বাস। ফলে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে যানজট ও জনদুর্ভোগ।২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় আট একর জায়গার ওপর সিলেটের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টার্মিনালটি আধুনিকায়ন করা হয়। আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর কারণে এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সুন্দর বাস টার্মিনাল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। তবে নির্মাণ শেষ হওয়ার পরপরই ভবনে ফাটল দেখা দিলে সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং পরে সংস্কার করা হয়।সরেজমিনে দেখা গেছে, টার্মিনালের বাইরে মূল সড়কে সারিবদ্ধতার কোনো বালাই নেই। শত শত বাস এলোপাতাড়িভাবে দাঁড়িয়ে থাকায় যানজট তৈরি হচ্ছে। টার্মিনাল ভবনের বিভিন্ন স্থানের ফ্যান ও লাইট নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। কোথাও ঝুলছে নষ্ট বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। যাত্রীদের বসার চেয়ারও ভেঙে গেছে। লাউঞ্জের ভেতরে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং চেয়ারজুড়ে জমে আছে ধুলাবালি।
আরও পড়ুন, ‘জনসম্পৃক্ত নদী ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা’ নিয়ে নোঙরের সেমিনার অনুষ্ঠিত
ফলে বাসের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা লাউঞ্জ ব্যবহার না করে বাইরে অবস্থান করছেন। এমনকি লাউঞ্জের ভেতরে কয়েকজন মাদকসেবীকেও শুয়ে থাকতে দেখা গেছে।অভিযোগ রয়েছে, শর্ত লঙ্ঘন করে ইজারাদার টার্মিনাল এলাকায় অতিরিক্ত বাস কাউন্টার ও দোকানপাট নির্মাণ করেছেন। এতে টার্মিনালের নির্ধারিত ব্যবস্থাপনা আরও বিঘ্নিত হচ্ছে।সূত্র জানায়, চলতি বছরের জুলাই থেকে এক বছরের জন্য টার্মিনালটি ইজারা দেওয়া হয়েছে। তবে টার্মিনালের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ইজারাদার মিজানুল ইসলাম রাতুলের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক এই বাস টার্মিনালের এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রী ও স্থানীয়রা। তাদের দাবি, দ্রুত অব্যবস্থাপনা দূর করে টার্মিনালের মূল ব্যবস্থাপনা ফিরিয়ে আনা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং বাস চলাচলে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা হোক।
বিষয় : বাস টার্মিনাল স্বস্তিদায়ক জনদুর্ভোগ

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬
সিলেটে যাত্রীদের স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রায় ১১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়ন করা কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এখন অব্যবস্থাপনায় জৌলুস হারাতে বসেছে। যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরেনি, টার্মিনালের সামনের মূল সড়কে এলোপাতাড়িভাবে রাখা হচ্ছে শত শত বাস। ফলে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে যানজট ও জনদুর্ভোগ।২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় আট একর জায়গার ওপর সিলেটের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টার্মিনালটি আধুনিকায়ন করা হয়। আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর কারণে এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সুন্দর বাস টার্মিনাল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। তবে নির্মাণ শেষ হওয়ার পরপরই ভবনে ফাটল দেখা দিলে সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং পরে সংস্কার করা হয়।সরেজমিনে দেখা গেছে, টার্মিনালের বাইরে মূল সড়কে সারিবদ্ধতার কোনো বালাই নেই। শত শত বাস এলোপাতাড়িভাবে দাঁড়িয়ে থাকায় যানজট তৈরি হচ্ছে। টার্মিনাল ভবনের বিভিন্ন স্থানের ফ্যান ও লাইট নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। কোথাও ঝুলছে নষ্ট বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। যাত্রীদের বসার চেয়ারও ভেঙে গেছে। লাউঞ্জের ভেতরে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং চেয়ারজুড়ে জমে আছে ধুলাবালি।
আরও পড়ুন, ‘জনসম্পৃক্ত নদী ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা’ নিয়ে নোঙরের সেমিনার অনুষ্ঠিত
ফলে বাসের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা লাউঞ্জ ব্যবহার না করে বাইরে অবস্থান করছেন। এমনকি লাউঞ্জের ভেতরে কয়েকজন মাদকসেবীকেও শুয়ে থাকতে দেখা গেছে।অভিযোগ রয়েছে, শর্ত লঙ্ঘন করে ইজারাদার টার্মিনাল এলাকায় অতিরিক্ত বাস কাউন্টার ও দোকানপাট নির্মাণ করেছেন। এতে টার্মিনালের নির্ধারিত ব্যবস্থাপনা আরও বিঘ্নিত হচ্ছে।সূত্র জানায়, চলতি বছরের জুলাই থেকে এক বছরের জন্য টার্মিনালটি ইজারা দেওয়া হয়েছে। তবে টার্মিনালের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ইজারাদার মিজানুল ইসলাম রাতুলের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক এই বাস টার্মিনালের এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রী ও স্থানীয়রা। তাদের দাবি, দ্রুত অব্যবস্থাপনা দূর করে টার্মিনালের মূল ব্যবস্থাপনা ফিরিয়ে আনা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং বাস চলাচলে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা হোক।

আপনার মতামত লিখুন