নরসিংদীর রায়পুরায় যথাযোগ্য মর্যাদায় বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ৫৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।বুধবার (২০ আগস্ট) সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল তাঁর ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার ১০৯, আগা সাদেক রোডের ‘মোবারক লজ’-এ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রামনগর গ্রামে, যা বর্তমানে মতিউরনগর নামে পরিচিত। নয় ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ষষ্ঠ। তাঁর বাবা মৌলভী আবদুস সামাদ এবং মা সৈয়দা মোবারকুন্নেসা খাতুন।
আরও পড়ুন, মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা, প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
১৯৬১ সালে মতিউর রহমান পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৬৩ সালে রিসালপুর পিএএফ কলেজ থেকে পাইলট অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করেন। এরপর করাচির মৌরিপুর (বর্তমান মাসরুর) বিমানঘাঁটির ২ নম্বর স্কোয়াড্রনে জেনারেল ডিউটি পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতি পান।মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। ১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট পাকিস্তানের একটি যুদ্ধবিমান নিয়ে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু পাকিস্তানি পাইলট রাশেদ মিনহাজের বাধা এবং পরবর্তীতে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে থাট্টা এলাকায় বিধ্বস্ত হলে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান শাহাদাতবরণ করেন।মাত্র ২৯ বছর বয়সে দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করা এই বীর সন্তান আজও বাঙালি জাতির কাছে দেশপ্রেম, সাহস ও আত্মত্যাগের অনন্য প্রতীক হয়ে আছেন।দোয়া মাহফিলে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬
নরসিংদীর রায়পুরায় যথাযোগ্য মর্যাদায় বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ৫৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।বুধবার (২০ আগস্ট) সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল তাঁর ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার ১০৯, আগা সাদেক রোডের ‘মোবারক লজ’-এ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রামনগর গ্রামে, যা বর্তমানে মতিউরনগর নামে পরিচিত। নয় ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ষষ্ঠ। তাঁর বাবা মৌলভী আবদুস সামাদ এবং মা সৈয়দা মোবারকুন্নেসা খাতুন।
আরও পড়ুন, মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা, প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
১৯৬১ সালে মতিউর রহমান পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৬৩ সালে রিসালপুর পিএএফ কলেজ থেকে পাইলট অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করেন। এরপর করাচির মৌরিপুর (বর্তমান মাসরুর) বিমানঘাঁটির ২ নম্বর স্কোয়াড্রনে জেনারেল ডিউটি পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতি পান।মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। ১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট পাকিস্তানের একটি যুদ্ধবিমান নিয়ে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু পাকিস্তানি পাইলট রাশেদ মিনহাজের বাধা এবং পরবর্তীতে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে থাট্টা এলাকায় বিধ্বস্ত হলে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান শাহাদাতবরণ করেন।মাত্র ২৯ বছর বয়সে দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করা এই বীর সন্তান আজও বাঙালি জাতির কাছে দেশপ্রেম, সাহস ও আত্মত্যাগের অনন্য প্রতীক হয়ে আছেন।দোয়া মাহফিলে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন