রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় পরকীয়ার জেরে পারিবারিক নির্যাতন ও বিষপানে জান্নাতুল ফেরদৌসী জুঁই (২৪) নামে এক গৃহবধূর আত্মহত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের মা মোছাঃ আফরোজা বেগম বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় ৫ জনকে আসামি করে এই আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলাটি দায়ের করেন।মামলার আসামিরা হলেন— নিহতের স্বামী মোঃ আরফিন মিয়া (৩৫), ভাসুর মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৪), মোঃ আলমগীর হোসেন (৩৮), শাশুড়ি মোছাঃ আমেনা বেগম (৬৩) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১ জন। আসামিরা সবাই মিঠাপুকুর উপজেলার জালালীপুর গ্রামের বাসিন্দা।মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে উপজেলার পিয়ার গ্রামের মোছাঃ আফরোজা বেগমের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসী জুঁইয়ের সাথে জালালীপুর গ্রামের মৃত গোলজার হোসেনের ছেলে আরফিন মিয়ার বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে সাড়ে ৭ বছরের একটি মেয়ে ও ১৩ মাসের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে স্বামী আরফিন মিয়া অন্য এক নারীর সাথে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে জুঁইয়ের ওপর নেমে আসে অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। ভাসুর ও শাশুড়িসহ শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যরা আরফিনকে শাসন না করে উল্টো জুঁইকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং নির্যাতন করত।
আরও পড়ুম ,লামায় নেকাব-মোজা পরায় দুই মাদ্রাসাছাত্রীকে বের করে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ
ঘটনার দিন গত ১৬ মে (২০২৬) দুপুরে আরফিন মিয়ার পরকীয়া নিয়ে আবারও পারিবারিক বিবাদ চরম আকার ধারণ করে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিদের অব্যাহত শারীরিক নির্যাতন ও লোকলজ্জার মুখে ফাস লাগানো বা বিষপানে আত্মহত্যার ক্রমাগত প্ররোচণায় সইতে না পেরে দুপুর আনুমানিক ১:০০ টার দিকে জুঁই নিজ ঘরের ভেতর বিষ (কীটনাশক) পান করেন।গুরুতর অবস্থায় স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে রংপুর প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ মে (২০২৬) দুপুরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার রেকর্ডকারী ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর মোঃ রবিউল ইসলাম) জানান, দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় (আত্মহত্যায় প্ররোচনা) মামলাটি রুজু করা হয়েছে (মামলা নং- ০৭, তারিখ: ০২ জুন, ২০২৬)। ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক রয়েছে। একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
বিষয় : মামলা শ্বশুরবাড়ি গৃহবধূ

শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় পরকীয়ার জেরে পারিবারিক নির্যাতন ও বিষপানে জান্নাতুল ফেরদৌসী জুঁই (২৪) নামে এক গৃহবধূর আত্মহত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের মা মোছাঃ আফরোজা বেগম বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় ৫ জনকে আসামি করে এই আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলাটি দায়ের করেন।মামলার আসামিরা হলেন— নিহতের স্বামী মোঃ আরফিন মিয়া (৩৫), ভাসুর মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৪), মোঃ আলমগীর হোসেন (৩৮), শাশুড়ি মোছাঃ আমেনা বেগম (৬৩) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১ জন। আসামিরা সবাই মিঠাপুকুর উপজেলার জালালীপুর গ্রামের বাসিন্দা।মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে উপজেলার পিয়ার গ্রামের মোছাঃ আফরোজা বেগমের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসী জুঁইয়ের সাথে জালালীপুর গ্রামের মৃত গোলজার হোসেনের ছেলে আরফিন মিয়ার বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে সাড়ে ৭ বছরের একটি মেয়ে ও ১৩ মাসের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে স্বামী আরফিন মিয়া অন্য এক নারীর সাথে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে জুঁইয়ের ওপর নেমে আসে অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। ভাসুর ও শাশুড়িসহ শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যরা আরফিনকে শাসন না করে উল্টো জুঁইকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং নির্যাতন করত।
আরও পড়ুম ,লামায় নেকাব-মোজা পরায় দুই মাদ্রাসাছাত্রীকে বের করে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ
ঘটনার দিন গত ১৬ মে (২০২৬) দুপুরে আরফিন মিয়ার পরকীয়া নিয়ে আবারও পারিবারিক বিবাদ চরম আকার ধারণ করে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিদের অব্যাহত শারীরিক নির্যাতন ও লোকলজ্জার মুখে ফাস লাগানো বা বিষপানে আত্মহত্যার ক্রমাগত প্ররোচণায় সইতে না পেরে দুপুর আনুমানিক ১:০০ টার দিকে জুঁই নিজ ঘরের ভেতর বিষ (কীটনাশক) পান করেন।গুরুতর অবস্থায় স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে রংপুর প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ মে (২০২৬) দুপুরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার রেকর্ডকারী ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর মোঃ রবিউল ইসলাম) জানান, দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় (আত্মহত্যায় প্ররোচনা) মামলাটি রুজু করা হয়েছে (মামলা নং- ০৭, তারিখ: ০২ জুন, ২০২৬)। ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক রয়েছে। একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

আপনার মতামত লিখুন