সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের চান্দালি পাড়া গ্রামে,অসহায় পরিবারের উপর হামলা চালিয়ে লুটপাট, ভাঙচুর, মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করেছে এক বৃদ্ধা মহিলাকে। দিনে হামলা ভোর রাতে অগ্নিসংযোগ,এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী ন্যায়বিচারের দাবি ।গত (১৪ জুন) রবিবার দুপুরে চান্দালি পাড়া গ্রামের বৃদ্ধ বিধবা মহিলা মোছাঃ তাজ্জতেরনেছা'র বাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিপক্ষ দির্ঘদিনের শত্রুতার জেরে হামলা করেছে। বসতি ঘর ভাঙচুর, মোটরসাইকেল ভাঙচুর সহ লুটপাট অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসময় বৃদ্ধা তাজ্জতেরনেছাকে মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করেছে অভিযুক্তা। পরে আশপাশের লোকজন ঘটনা স্থল থেকে বৃদ্ধাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে পার্শ্ববর্তী কলমাকান্দা উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।এছাড়াও মারপিট থেকে রেহাই পায়নি ভুক্তভোগীর ছেলে আলী মিয়ার স্ত্রী নিষ্পা বেগমও সেও আহত হয়েছে। পরে সে স্থানীয় চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা আরোগ্য হয়ে (১৬ জুন) মঙ্গলবার মধ্যনগর থানায় গিয়ে নিষ্পা বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।মামলার এজাহারে আসামী উল্লেখ করা হয়েছে, মোঃ সাদিকুল,মোঃ ইব্রাহিম, বাপন, মো. বোরহান, মো. বজলু মিয়া, কালন মিয়া, খোকন মিয়া,আঃ হাকিম, মো. রাজ মিয়া, এরশাদ ও সুলেমান মিয়া। এছাড়া আসমা, স্বপ্না, মাজেদা খাতুন ও ফাতেমার নামও রয়েছে।
আরও পড়ুন, টাঙ্গাইলে টয়লেটের গর্তে ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে ৪ জনের মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া
জানা যায়,প্রতিপক্ষের সাথে দির্ঘদিন ধরে জায়গা জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। তাজ্জতেরনেছা'র স্বামী মৃত আবুল কাশেম ঢাকায় বসবাস করতো। এসময় সেটেলমেন্টে তার চাচা নিসন্তান বাদশা মিয়া'র জমি,ভুল বসত মোছাঃ ফুলবানু ও তার স্বামী তাহের মিয়ার নামে রেকর্ড হয়ে যায়। পরে আবুল কাশেম জানতে পেয়ে, সুনামগঞ্জ আদালতে রেকর্ড ভাঙার মামলা করেন। দির্ঘদিন মামলা চলার পর বিজ্ঞ আদালত আবুল কাশেমর পক্ষে রায় প্রদান করেন। এবং আবুল কাশেমের উত্তরসূরী ৪ মেয়ে ১ ছেলের নামে নামজারি সহ খাজনা পরিশোধ করেন তারা। এনিয়ে প্রতিপক্ষের বিরোধ সৃষ্টি হয়, এবং তাদের উপরে প্রায় সময়ই ঐ অভিযুক্তরা বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন অত্যাচার চালিয়ে আসছে। এলাকায় এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে ঐ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে।তাছাড়া ঐ ঘটনার দিন বিবাদীগন গাছের কাঁঠাল পাড়াকে কেন্দ্র করে,পূর্ব শত্রুতার জের ধরে, পরিকল্পিত ভাবে সঙ্গবদ্ধ দলটি দেশীয় ধারালো অস্ত্রে সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে, এ-ই অসহায় পরিবারের উপর হামলা চালায়। এসময় বাড়িতে থাকা দোকানের মালামাল সহ আসবাবপত্র লুটপাট করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও বসতি ঘর ভাঙচুর সহ একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে। এবং অগ্নিসংযোগেরও অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হামলার মূলহোতা সাদিকুল ও বজলু মিয়া।
আরও পড়ুন, কসবায় ১০ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
তাছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ ঐ হামলাকারীরা এলাকায় বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা সহ মাদক সেবন করে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকে। তাদের ভয়ে এলাকাবাসী মুখ খুলতে সাহস পায়না,এদের দাপটে এলাকার মানুষ আতঙ্কে থাকেন।ভুক্তভোগী তাজ্জতেরনেছা'র মেয়ে মালা আক্তার বলেন, আমরা খুব অসহায়, খুব গরিব। অভিযুক্তরা আমাকে অনেকদিন ধরে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে আসছে। আমাদের কেউ নাই আমার একটিমাত্র ভাই, আমরা চার বোন আর বৃদ্ধ মা। অভিযুক্তরা আমাকে বিভিন্নভাবে সমাজে কলঙ্কিত করার জন্য চেষ্টা করে,এবং ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে। আমি সবসময় এদের ভয়ে আতঙ্কে থাকি।মালা আক্তারের ভাবি নিষ্পা আক্তার বলেন, এদের বখাটে ছেলেরা মালা আক্তারকে সব সময় উত্যক্ত করে,খারাপ প্রস্তাব দেয়। এরা তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকিও দিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, আমরা অসহায় দেশবাসী ও প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।স্থানীয়দের মধ্যে অনেকেই বলছেন, এমন ঘটনা নতুন নয় প্রায়েই হয়। দোষীদের যেন অতি দ্রুত আইনের আওতায় আনা হয়। এই অসহায় পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়।এই বিষয়ে মামলার বিবাদীগণের কাছে জানতে চাইলে আসামী বোরহান উদ্দিনের বাবা হযরত আলী বলেন, মারপিটের ঘটনা সত্য, এই বিষয়টি নিয়ে আমিও মর্মাহত। ঘটনার পর চান্দালি পাড়া গ্রামে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার এখন নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে।মধ্যনগর থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম শাহাবুদ্দিন শাহীন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। মামলা এফআইআর হয়েছে, তদন্ত চলছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের কাজ চলমান রয়েছে।
বিষয় : হামলা ন্যায়বিচার মারপিট

রোববার, ২১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের চান্দালি পাড়া গ্রামে,অসহায় পরিবারের উপর হামলা চালিয়ে লুটপাট, ভাঙচুর, মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করেছে এক বৃদ্ধা মহিলাকে। দিনে হামলা ভোর রাতে অগ্নিসংযোগ,এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী ন্যায়বিচারের দাবি ।গত (১৪ জুন) রবিবার দুপুরে চান্দালি পাড়া গ্রামের বৃদ্ধ বিধবা মহিলা মোছাঃ তাজ্জতেরনেছা'র বাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিপক্ষ দির্ঘদিনের শত্রুতার জেরে হামলা করেছে। বসতি ঘর ভাঙচুর, মোটরসাইকেল ভাঙচুর সহ লুটপাট অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসময় বৃদ্ধা তাজ্জতেরনেছাকে মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করেছে অভিযুক্তা। পরে আশপাশের লোকজন ঘটনা স্থল থেকে বৃদ্ধাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে পার্শ্ববর্তী কলমাকান্দা উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।এছাড়াও মারপিট থেকে রেহাই পায়নি ভুক্তভোগীর ছেলে আলী মিয়ার স্ত্রী নিষ্পা বেগমও সেও আহত হয়েছে। পরে সে স্থানীয় চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা আরোগ্য হয়ে (১৬ জুন) মঙ্গলবার মধ্যনগর থানায় গিয়ে নিষ্পা বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।মামলার এজাহারে আসামী উল্লেখ করা হয়েছে, মোঃ সাদিকুল,মোঃ ইব্রাহিম, বাপন, মো. বোরহান, মো. বজলু মিয়া, কালন মিয়া, খোকন মিয়া,আঃ হাকিম, মো. রাজ মিয়া, এরশাদ ও সুলেমান মিয়া। এছাড়া আসমা, স্বপ্না, মাজেদা খাতুন ও ফাতেমার নামও রয়েছে।
আরও পড়ুন, টাঙ্গাইলে টয়লেটের গর্তে ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে ৪ জনের মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া
জানা যায়,প্রতিপক্ষের সাথে দির্ঘদিন ধরে জায়গা জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। তাজ্জতেরনেছা'র স্বামী মৃত আবুল কাশেম ঢাকায় বসবাস করতো। এসময় সেটেলমেন্টে তার চাচা নিসন্তান বাদশা মিয়া'র জমি,ভুল বসত মোছাঃ ফুলবানু ও তার স্বামী তাহের মিয়ার নামে রেকর্ড হয়ে যায়। পরে আবুল কাশেম জানতে পেয়ে, সুনামগঞ্জ আদালতে রেকর্ড ভাঙার মামলা করেন। দির্ঘদিন মামলা চলার পর বিজ্ঞ আদালত আবুল কাশেমর পক্ষে রায় প্রদান করেন। এবং আবুল কাশেমের উত্তরসূরী ৪ মেয়ে ১ ছেলের নামে নামজারি সহ খাজনা পরিশোধ করেন তারা। এনিয়ে প্রতিপক্ষের বিরোধ সৃষ্টি হয়, এবং তাদের উপরে প্রায় সময়ই ঐ অভিযুক্তরা বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন অত্যাচার চালিয়ে আসছে। এলাকায় এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে ঐ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে।তাছাড়া ঐ ঘটনার দিন বিবাদীগন গাছের কাঁঠাল পাড়াকে কেন্দ্র করে,পূর্ব শত্রুতার জের ধরে, পরিকল্পিত ভাবে সঙ্গবদ্ধ দলটি দেশীয় ধারালো অস্ত্রে সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে, এ-ই অসহায় পরিবারের উপর হামলা চালায়। এসময় বাড়িতে থাকা দোকানের মালামাল সহ আসবাবপত্র লুটপাট করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও বসতি ঘর ভাঙচুর সহ একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে। এবং অগ্নিসংযোগেরও অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হামলার মূলহোতা সাদিকুল ও বজলু মিয়া।
আরও পড়ুন, কসবায় ১০ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
তাছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ ঐ হামলাকারীরা এলাকায় বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা সহ মাদক সেবন করে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকে। তাদের ভয়ে এলাকাবাসী মুখ খুলতে সাহস পায়না,এদের দাপটে এলাকার মানুষ আতঙ্কে থাকেন।ভুক্তভোগী তাজ্জতেরনেছা'র মেয়ে মালা আক্তার বলেন, আমরা খুব অসহায়, খুব গরিব। অভিযুক্তরা আমাকে অনেকদিন ধরে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে আসছে। আমাদের কেউ নাই আমার একটিমাত্র ভাই, আমরা চার বোন আর বৃদ্ধ মা। অভিযুক্তরা আমাকে বিভিন্নভাবে সমাজে কলঙ্কিত করার জন্য চেষ্টা করে,এবং ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে। আমি সবসময় এদের ভয়ে আতঙ্কে থাকি।মালা আক্তারের ভাবি নিষ্পা আক্তার বলেন, এদের বখাটে ছেলেরা মালা আক্তারকে সব সময় উত্যক্ত করে,খারাপ প্রস্তাব দেয়। এরা তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকিও দিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, আমরা অসহায় দেশবাসী ও প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।স্থানীয়দের মধ্যে অনেকেই বলছেন, এমন ঘটনা নতুন নয় প্রায়েই হয়। দোষীদের যেন অতি দ্রুত আইনের আওতায় আনা হয়। এই অসহায় পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়।এই বিষয়ে মামলার বিবাদীগণের কাছে জানতে চাইলে আসামী বোরহান উদ্দিনের বাবা হযরত আলী বলেন, মারপিটের ঘটনা সত্য, এই বিষয়টি নিয়ে আমিও মর্মাহত। ঘটনার পর চান্দালি পাড়া গ্রামে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার এখন নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে।মধ্যনগর থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম শাহাবুদ্দিন শাহীন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। মামলা এফআইআর হয়েছে, তদন্ত চলছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের কাজ চলমান রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন