যেখানে একসময় প্রতিদিন ছুটে যেত বিশ্বের হাজারো জাহাজ, সেই হরমুজ প্রণালি এখন যেন ভয়, ক্ষেপণাস্ত্র আর অনিশ্চয়তার আরেক নাম। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংঘাতের জেরে কয়েক মাস ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে আটকা পড়ে আছেন হাজারো নাবিক। তাদের মধ্যেই রয়েছে বাংলাদেশের মালিকানাধীন জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’।প্রায় ৩৭ হাজার টন সার নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করা জাহাজটি বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ বন্দরের কাছে নোঙর করে আছে। কিন্তু যুদ্ধের উত্তাপ আর নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যেন এখন এক দুঃস্বপ্ন।জাহাজটির ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম বলেন, “মনে হচ্ছে আমরা যেন একটি পুকুরে আটকা পড়ে আছি। বের হওয়ার একমাত্র পথ হরমুজ, কিন্তু সেটিও বন্ধ।”দুইবার এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন তারা। একবার হরমুজ প্রণালি থেকে মাত্র ৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে পৌঁছেও ফিরে আসতে বাধ্য হয় জাহাজটি। কারণ, রেডিওতে একের পর এক হামলার সতর্কবার্তা ভেসে আসে।শুধু নিরাপত্তা ঝুঁকিই নয়, দিন দিন বাড়ছে খাবার ও পানির সংকটও। প্রধান প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান জানান, আগে যেখানে ১৮০ টন পানির
আরো পড়ুন , ইরানকে পারমাণবিক শক্তি হতে দেইনি ট্রাম্পের কড়া বার্তা
জন্য খরচ হতো প্রায় দুই হাজার ডলার, এখন একই পানির জন্য গুনতে হচ্ছে ১১ হাজার ডলার।হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে নাবিকদের অনেকেই সামান্য শব্দ শুনলেও আতঙ্কে চমকে উঠছেন। ঘুমের মধ্যেও কাজ করছে ভয়। কেউ কেউ নিজেদের চোখে ক্ষেপণাস্ত্র উড়তে এবং ধ্বংসাবশেষ পাশের জাহাজে পড়তে দেখেছেন।আন্তর্জাতিক নৌযান পর্যবেক্ষক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১ হাজার ৬০০ জাহাজ এখনো ওই অঞ্চলে আটকা। ইতোমধ্যে একাধিক হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন কয়েকজন নাবিকও।এদিকে, ‘বাংলার জয়যাত্রা’ মুক্ত করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। তবে ইরানের টোল, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার হুমকি এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সমাধান সহজ হচ্ছে না।এখন প্রশ্ন একটাই— কবে ঘরে ফিরতে পারবেন যুদ্ধের মাঝে আটকে থাকা এই নাবিকরা?

রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬
যেখানে একসময় প্রতিদিন ছুটে যেত বিশ্বের হাজারো জাহাজ, সেই হরমুজ প্রণালি এখন যেন ভয়, ক্ষেপণাস্ত্র আর অনিশ্চয়তার আরেক নাম। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংঘাতের জেরে কয়েক মাস ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে আটকা পড়ে আছেন হাজারো নাবিক। তাদের মধ্যেই রয়েছে বাংলাদেশের মালিকানাধীন জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’।প্রায় ৩৭ হাজার টন সার নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করা জাহাজটি বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ বন্দরের কাছে নোঙর করে আছে। কিন্তু যুদ্ধের উত্তাপ আর নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যেন এখন এক দুঃস্বপ্ন।জাহাজটির ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম বলেন, “মনে হচ্ছে আমরা যেন একটি পুকুরে আটকা পড়ে আছি। বের হওয়ার একমাত্র পথ হরমুজ, কিন্তু সেটিও বন্ধ।”দুইবার এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন তারা। একবার হরমুজ প্রণালি থেকে মাত্র ৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে পৌঁছেও ফিরে আসতে বাধ্য হয় জাহাজটি। কারণ, রেডিওতে একের পর এক হামলার সতর্কবার্তা ভেসে আসে।শুধু নিরাপত্তা ঝুঁকিই নয়, দিন দিন বাড়ছে খাবার ও পানির সংকটও। প্রধান প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান জানান, আগে যেখানে ১৮০ টন পানির
আরো পড়ুন , ইরানকে পারমাণবিক শক্তি হতে দেইনি ট্রাম্পের কড়া বার্তা
জন্য খরচ হতো প্রায় দুই হাজার ডলার, এখন একই পানির জন্য গুনতে হচ্ছে ১১ হাজার ডলার।হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে নাবিকদের অনেকেই সামান্য শব্দ শুনলেও আতঙ্কে চমকে উঠছেন। ঘুমের মধ্যেও কাজ করছে ভয়। কেউ কেউ নিজেদের চোখে ক্ষেপণাস্ত্র উড়তে এবং ধ্বংসাবশেষ পাশের জাহাজে পড়তে দেখেছেন।আন্তর্জাতিক নৌযান পর্যবেক্ষক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১ হাজার ৬০০ জাহাজ এখনো ওই অঞ্চলে আটকা। ইতোমধ্যে একাধিক হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন কয়েকজন নাবিকও।এদিকে, ‘বাংলার জয়যাত্রা’ মুক্ত করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। তবে ইরানের টোল, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার হুমকি এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সমাধান সহজ হচ্ছে না।এখন প্রশ্ন একটাই— কবে ঘরে ফিরতে পারবেন যুদ্ধের মাঝে আটকে থাকা এই নাবিকরা?

আপনার মতামত লিখুন