দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬

‘লন্ডনে গিয়ে তারেক রহমানের কাছেই জুলাই আন্দোলনের ট্রফি’—সংসদে মীর শাহে আলমের দাবি

‘লন্ডনে গিয়ে তারেক রহমানের কাছেই জুলাই আন্দোলনের ট্রফি’—সংসদে মীর শাহে আলমের দাবি
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

সংসদে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি দাবি করেছেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের ‘ট্রফি’ নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে গিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন—এই তিনটি আন্দোলনের ‘ট্রফি’ই বিএনপির ঘরে রয়েছে।তার ভাষায়, “ক্যাপ্টেন একজনই থাকে, আর সেই ক্যাপ্টেনকে চিনেই ড. 

ইউনূস লন্ডনে গিয়ে আলোচনা করে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে এসেছেন।”এ সময় তিনি দাবি করেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সবাই অংশ নিলেও নেতৃত্বের মূল ভূমিকা ছিল বিএনপির।তার বক্তব্যের সময় বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান এবং হৈ-চৈ শুরু হয়।পরে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বক্তব্যে বলেন, সংসদে অসত্য তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তা সংশোধনের দাবি জানান।এদিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বক্তব্য যাচাই করে অসত্য বা অসংসদীয় অংশ থাকলে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হবে।জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের 


আরো পড়ুন , দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ায় বিএনপিকে ধন্যবাদ দিলেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা


আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম একটি বিতর্কিত দাবি উত্থাপন করেছেন।তিনি বলেন, বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে গিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের ‘ট্রফি’ হস্তান্তর করেন এবং সেখান থেকেই নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করে আসেন।প্রতিমন্ত্রী আরও দাবি করেন, বাংলাদেশের তিনটি ঐতিহাসিক আন্দোলন—১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের ‘ট্রফি’ বিএনপির ঘরেই রয়েছে।তার বক্তব্যে তিনি আওয়ামী লীগ ও বিরোধী 

দলকে সমালোচনা করে বলেন, কেউ সব আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না।বক্তব্যের সময় বিরোধী দলীয় সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং সংসদে উত্তেজনা তৈরি হয়।পরে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বক্তব্য দিয়ে দাবি করেন, প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে অসংখ্য অসত্য তথ্য রয়েছে এবং তা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার আহ্বান জানান।স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বিষয়টি যাচাইয়ের 

আশ্বাস দেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘ট্রফি’ শব্দটি এখানে প্রতীকীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা আন্দোলনের কৃতিত্ব ও নেতৃত্বের দাবিকে বোঝায়।এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র করতে পারে, বিশেষ করে যখন আন্দোলনের মালিকানা ও নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।সংসদের ভেতরে এ ধরনের দাবি ও পাল্টা দাবির ঘটনা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলগুলোর অবস্থান স্পষ্ট করে তুলছে।

বিষয় : সংসদে আলোচনার দাবি করেছেন, ইউনূস লন্ডনে গিয়ে

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


‘লন্ডনে গিয়ে তারেক রহমানের কাছেই জুলাই আন্দোলনের ট্রফি’—সংসদে মীর শাহে আলমের দাবি

প্রকাশের তারিখ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

সংসদে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি দাবি করেছেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের ‘ট্রফি’ নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে গিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন—এই তিনটি আন্দোলনের ‘ট্রফি’ই বিএনপির ঘরে রয়েছে।তার ভাষায়, “ক্যাপ্টেন একজনই থাকে, আর সেই ক্যাপ্টেনকে চিনেই ড. 

ইউনূস লন্ডনে গিয়ে আলোচনা করে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে এসেছেন।”এ সময় তিনি দাবি করেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সবাই অংশ নিলেও নেতৃত্বের মূল ভূমিকা ছিল বিএনপির।তার বক্তব্যের সময় বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান এবং হৈ-চৈ শুরু হয়।পরে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বক্তব্যে বলেন, সংসদে অসত্য তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তা সংশোধনের দাবি জানান।এদিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বক্তব্য যাচাই করে অসত্য বা অসংসদীয় অংশ থাকলে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হবে।জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের 


আরো পড়ুন , দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ায় বিএনপিকে ধন্যবাদ দিলেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা


আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম একটি বিতর্কিত দাবি উত্থাপন করেছেন।তিনি বলেন, বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে গিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের ‘ট্রফি’ হস্তান্তর করেন এবং সেখান থেকেই নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করে আসেন।প্রতিমন্ত্রী আরও দাবি করেন, বাংলাদেশের তিনটি ঐতিহাসিক আন্দোলন—১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের ‘ট্রফি’ বিএনপির ঘরেই রয়েছে।তার বক্তব্যে তিনি আওয়ামী লীগ ও বিরোধী 

দলকে সমালোচনা করে বলেন, কেউ সব আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না।বক্তব্যের সময় বিরোধী দলীয় সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং সংসদে উত্তেজনা তৈরি হয়।পরে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বক্তব্য দিয়ে দাবি করেন, প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে অসংখ্য অসত্য তথ্য রয়েছে এবং তা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার আহ্বান জানান।স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বিষয়টি যাচাইয়ের 

আশ্বাস দেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘ট্রফি’ শব্দটি এখানে প্রতীকীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা আন্দোলনের কৃতিত্ব ও নেতৃত্বের দাবিকে বোঝায়।এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র করতে পারে, বিশেষ করে যখন আন্দোলনের মালিকানা ও নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।সংসদের ভেতরে এ ধরনের দাবি ও পাল্টা দাবির ঘটনা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলগুলোর অবস্থান স্পষ্ট করে তুলছে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত