পর্যটক সেবার সরঞ্জাম ভাড়া দিয়ে মাসে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য শীর্ষক প্রতিবেদনটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উক্ত প্রতিবেদনে অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মনগড়া, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রতিবেদনটিতে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আনা হলেও কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ, দাপ্তরিক নথি, নিরপেক্ষ সূত্র বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। সাংবাদিকতার ন্যূনতম নীতি অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ করা আবশ্যক, যা এখানে প্রতিফলিত হয়নি। ফলে এটি একপাক্ষিক ও বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনা হিসেবে প্রতীয়মান। অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ কক্সবাজারে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পর্যটন নিরাপত্তা জোরদার, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং পর্যটনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে একাধিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। বিশেষ করে বিজ এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে তার কঠোর অবস্থানের পর থেকেই একটি মহল অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে। এমন প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত উক্ত প্রতিবেদনটি প্রতিহিংসাপরায়ণ মহলের প্ররোচনায় প্রকাশিত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। এতে কেবল একজন কর্মকর্তার সুনামহানি নয়, বরং পর্যটন নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সম্প্রতি একটি স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন যেখানে অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে পর্যটন সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ভাড়া দিয়ে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মনগড়া, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। উক্ত প্রতিবেদনটি কেবল একটি দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা নয়, বরং কক্সবাজারের পর্যটন নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপকৌশল।
আরো পড়ুন: পুলিশ হত্যা ও থানা পোড়ানো: কবে হবে বিচার?
কক্সবাজার দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র। প্রতিবছর দেশি-বিদেশি লাখো পর্যটক এখানে আগমন করেন। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে নানা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। পুলিশ সংকটকালীন অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পর্যটন নিরাপত্তা জোরদারে একাধিক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
তিনি পর্যটন স্পটে নিয়মিত টহল, হটলাইন কার্যকরকরণ, দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি, সমন্বিত অভিযান এবং পর্যটকদের সাথে সরাসরি মতবিনিময়ের মতো উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন জাতীয় সংবাদমাধ্যমে তার এসব কার্যক্রমের ইতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, হোটেল মালিক ও পর্যটকরাও তার কার্যক্রমের প্রশংসা করেছেন।
আরো পড়ুন: পর্যটন নিরাপত্তায় শীর্ষ পর্যায়ের নজর
প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে পর্যটন পুলিশের অবকাঠামো ভাড়া দিয়ে মাসে লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য করা হচ্ছে। অথচ এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট দলিল, তথ্যপ্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়নি। সাংবাদিকতার ন্যূনতম নীতিমালা অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু এখানে তা উপেক্ষা করা হয়েছে, যা স্পষ্টতই পক্ষপাতদুষ্টতার প্রমাণ বহন করে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কক্সবাজার বিজ এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। এ সময় কিছু স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তাদের ঘনিষ্ঠ মহল তার ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করে। অভিযোগ রয়েছে, ওইসব মহলের সঙ্গে সম্পৃক্ত কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে একটি অংশবিশেষ সাংবাদিককে ব্যবহার করে এই ভিত্তিহীন প্রতিবেদনটি প্রকাশ করিয়েছে।
সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। সত্য উদঘাটন, সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য। কিন্তু ব্যক্তিগত স্বার্থ, প্রতিহিংসা বা চাঁদাবাজি আড়াল করতে কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। এমন অভিযোগও শোনা যাচ্ছে যে, সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মাসিক অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত। যদি এমন অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তবে সেটি তদন্তসাপেক্ষ এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য। আইন সবার জন্য সমান সে সাংবাদিক হোক বা সরকারি কর্মকর্তা।
আরো পড়ুন: দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর বার্তা দিলেন আইজিপি
কক্সবাজারে সংকটময় সময়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপেল মাহমুদ যে ভূমিকা পালন করেছেন, তা অনেকের কাছেই প্রশংসিত। রাত দিন নিরলস পরিশ্রম, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অভিযান পরিচালনা, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এসব পদক্ষেপ তার পেশাগত সততা ও সাহসিকতার প্রমাণ বহন করে। পর্যটন শিল্প দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। এই খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমন সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রীয় স্বার্থবিরোধী। ভিত্তিহীন সংবাদ কেবল একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সুনাম নষ্ট করে না, এটি পুরো বাহিনীর মনোবল ভেঙে দিতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যদি প্রতিটি সৎ পদক্ষেপের পর অপপ্রচারের শিকার হন, তবে তারা নিরুৎসাহিত হবেন। এর প্রভাব পড়বে জননিরাপত্তার ওপর। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়। তারা প্রকৃত সত্য জানতে না পেরে গুজবে বিশ্বাস করতে শুরু করে। এতে সমাজে অস্থিরতা ও অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়।
আরো পড়ুন: নির্যাতন-হত্যার কঠোর শাস্তি চেয়ে মানববন্ধন মহিলা জামায়াতের
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে পরিচালিত টুরিস্ট পুলিশের চলমান অভিযানের প্রেক্ষিতে প্রকাশিত এক সংবাদকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দৈনিক সকালের কক্সবাজারে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে টুরিস্ট পুলিশের বিরুদ্ধে অনৈতিক আর্থিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হলে তা ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করেছে টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়ন। রিজিয়ন প্রধান টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, সমুদ্রসৈকতে অবৈধ দোকান স্থাপন, বিচ দখল এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানের সময় কথিত কয়েকজন সাংবাদিক পরিচয়দানকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যারা সৈকতের মাঝখানে অবৈধভাবে দোকান বসানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে টুরিস্ট পুলিশের বিরুদ্ধে যে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মনগড়া এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের সপক্ষে যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে। টুরিস্ট পুলিশ বলছে, তাদের চলমান অভিযানে বাধা সৃষ্টি ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। রিজিয়ন প্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, বিচ এলাকায় ‘স্পা অনিম’ ও ‘কটেজ জন’ নামে পরিচিত অনিমের বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়ন মনে করছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনটি ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক এবং সম্পাদক ও প্রতিবেদকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অপপ্রচেষ্টা হতে পারে। তারা সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের কাছে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রমাণ উপস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
আরো পড়ুন: দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কাজ করছে : প্রধানমন্ত্রী
রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোনো পুলিশ সদস্য তার আইনগত দায়িত্ব পালনকালে তাকে বাধা দেওয়া হলে তা শুধু শৃঙ্খলাভঙ্গ নয়, বরং ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এবং সংশ্লিষ্ট আইনে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। দণ্ডবিধির ধারা ১৮৬ অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীকে (যার মধ্যে পুলিশ সদস্যও অন্তর্ভুক্ত) তার দায়িত্ব পালনে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দিলে তা অপরাধ। এর শাস্তি সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড, বা অর্থদণ্ড, বা উভয়ই হতে পারে। যদি বলপ্রয়োগ করা হয়, তাহলে ধারা ৩৫৩ প্রযোজ্য হতে পারে। এই ধারায় সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, বা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। যদি সরকারি নির্দেশ অমান্য করে বাধা সৃষ্টি করা হয় (যেমন ১৪৪ ধারা চলাকালীন), তাহলে ধারা ১৮৮ প্রযোজ্য হতে পারে।
এ বিষয়ে দৈনিক সকালের কক্সবাজার কর্তৃপক্ষে সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাদের পাওয়া যায়নি।
এদিকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সৈকতসংলগ্ন এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী ও বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে একটি চক্র বিচের নির্দিষ্ট অংশ দখল করে দোকান বসিয়ে আসছিল। এতে পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্য ব্যাহত হচ্ছিল এবং সাধারণ ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন।
আরো পড়ুন: মব সন্ত্রাসে চ্যালেঞ্জের মুখে পুলিশ
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, সৈকত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকার কথা। কিন্তু কিছু মানুষ ব্যক্তিস্বার্থে জায়গা দখল করে ফেলেছিল। টুরিস্ট পুলিশের অভিযান শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আরেকজন হোটেল ব্যবসায়ী জানান, অবৈধ দোকান ও চাঁদাবাজির কারণে পর্যটকদের কাছে নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছিল। ফলে পর্যটন শিল্পের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছিল। তিনি বলেন, যদি কোনো অনিয়ম থাকে, তা প্রমাণসহ তুলে ধরা উচিত। কিন্তু চলমান অভিযানে বাধা সৃষ্টি হলে সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬
পর্যটক সেবার সরঞ্জাম ভাড়া দিয়ে মাসে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য শীর্ষক প্রতিবেদনটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উক্ত প্রতিবেদনে অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মনগড়া, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রতিবেদনটিতে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আনা হলেও কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ, দাপ্তরিক নথি, নিরপেক্ষ সূত্র বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। সাংবাদিকতার ন্যূনতম নীতি অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ করা আবশ্যক, যা এখানে প্রতিফলিত হয়নি। ফলে এটি একপাক্ষিক ও বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনা হিসেবে প্রতীয়মান। অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ কক্সবাজারে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পর্যটন নিরাপত্তা জোরদার, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং পর্যটনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে একাধিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। বিশেষ করে বিজ এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে তার কঠোর অবস্থানের পর থেকেই একটি মহল অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে। এমন প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত উক্ত প্রতিবেদনটি প্রতিহিংসাপরায়ণ মহলের প্ররোচনায় প্রকাশিত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। এতে কেবল একজন কর্মকর্তার সুনামহানি নয়, বরং পর্যটন নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সম্প্রতি একটি স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন যেখানে অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে পর্যটন সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ভাড়া দিয়ে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মনগড়া, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। উক্ত প্রতিবেদনটি কেবল একটি দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা নয়, বরং কক্সবাজারের পর্যটন নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপকৌশল।
আরো পড়ুন: পুলিশ হত্যা ও থানা পোড়ানো: কবে হবে বিচার?
কক্সবাজার দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র। প্রতিবছর দেশি-বিদেশি লাখো পর্যটক এখানে আগমন করেন। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে নানা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। পুলিশ সংকটকালীন অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পর্যটন নিরাপত্তা জোরদারে একাধিক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
তিনি পর্যটন স্পটে নিয়মিত টহল, হটলাইন কার্যকরকরণ, দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি, সমন্বিত অভিযান এবং পর্যটকদের সাথে সরাসরি মতবিনিময়ের মতো উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন জাতীয় সংবাদমাধ্যমে তার এসব কার্যক্রমের ইতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, হোটেল মালিক ও পর্যটকরাও তার কার্যক্রমের প্রশংসা করেছেন।
আরো পড়ুন: পর্যটন নিরাপত্তায় শীর্ষ পর্যায়ের নজর
প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে পর্যটন পুলিশের অবকাঠামো ভাড়া দিয়ে মাসে লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য করা হচ্ছে। অথচ এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট দলিল, তথ্যপ্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়নি। সাংবাদিকতার ন্যূনতম নীতিমালা অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু এখানে তা উপেক্ষা করা হয়েছে, যা স্পষ্টতই পক্ষপাতদুষ্টতার প্রমাণ বহন করে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কক্সবাজার বিজ এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। এ সময় কিছু স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তাদের ঘনিষ্ঠ মহল তার ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করে। অভিযোগ রয়েছে, ওইসব মহলের সঙ্গে সম্পৃক্ত কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে একটি অংশবিশেষ সাংবাদিককে ব্যবহার করে এই ভিত্তিহীন প্রতিবেদনটি প্রকাশ করিয়েছে।
সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। সত্য উদঘাটন, সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য। কিন্তু ব্যক্তিগত স্বার্থ, প্রতিহিংসা বা চাঁদাবাজি আড়াল করতে কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। এমন অভিযোগও শোনা যাচ্ছে যে, সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মাসিক অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত। যদি এমন অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তবে সেটি তদন্তসাপেক্ষ এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য। আইন সবার জন্য সমান সে সাংবাদিক হোক বা সরকারি কর্মকর্তা।
আরো পড়ুন: দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর বার্তা দিলেন আইজিপি
কক্সবাজারে সংকটময় সময়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপেল মাহমুদ যে ভূমিকা পালন করেছেন, তা অনেকের কাছেই প্রশংসিত। রাত দিন নিরলস পরিশ্রম, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অভিযান পরিচালনা, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এসব পদক্ষেপ তার পেশাগত সততা ও সাহসিকতার প্রমাণ বহন করে। পর্যটন শিল্প দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। এই খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমন সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রীয় স্বার্থবিরোধী। ভিত্তিহীন সংবাদ কেবল একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সুনাম নষ্ট করে না, এটি পুরো বাহিনীর মনোবল ভেঙে দিতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যদি প্রতিটি সৎ পদক্ষেপের পর অপপ্রচারের শিকার হন, তবে তারা নিরুৎসাহিত হবেন। এর প্রভাব পড়বে জননিরাপত্তার ওপর। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়। তারা প্রকৃত সত্য জানতে না পেরে গুজবে বিশ্বাস করতে শুরু করে। এতে সমাজে অস্থিরতা ও অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়।
আরো পড়ুন: নির্যাতন-হত্যার কঠোর শাস্তি চেয়ে মানববন্ধন মহিলা জামায়াতের
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে পরিচালিত টুরিস্ট পুলিশের চলমান অভিযানের প্রেক্ষিতে প্রকাশিত এক সংবাদকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দৈনিক সকালের কক্সবাজারে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে টুরিস্ট পুলিশের বিরুদ্ধে অনৈতিক আর্থিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হলে তা ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করেছে টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়ন। রিজিয়ন প্রধান টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, সমুদ্রসৈকতে অবৈধ দোকান স্থাপন, বিচ দখল এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানের সময় কথিত কয়েকজন সাংবাদিক পরিচয়দানকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যারা সৈকতের মাঝখানে অবৈধভাবে দোকান বসানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে টুরিস্ট পুলিশের বিরুদ্ধে যে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মনগড়া এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের সপক্ষে যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে। টুরিস্ট পুলিশ বলছে, তাদের চলমান অভিযানে বাধা সৃষ্টি ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। রিজিয়ন প্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, বিচ এলাকায় ‘স্পা অনিম’ ও ‘কটেজ জন’ নামে পরিচিত অনিমের বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়ন মনে করছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনটি ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক এবং সম্পাদক ও প্রতিবেদকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অপপ্রচেষ্টা হতে পারে। তারা সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের কাছে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রমাণ উপস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
আরো পড়ুন: দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কাজ করছে : প্রধানমন্ত্রী
রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোনো পুলিশ সদস্য তার আইনগত দায়িত্ব পালনকালে তাকে বাধা দেওয়া হলে তা শুধু শৃঙ্খলাভঙ্গ নয়, বরং ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এবং সংশ্লিষ্ট আইনে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। দণ্ডবিধির ধারা ১৮৬ অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীকে (যার মধ্যে পুলিশ সদস্যও অন্তর্ভুক্ত) তার দায়িত্ব পালনে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দিলে তা অপরাধ। এর শাস্তি সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড, বা অর্থদণ্ড, বা উভয়ই হতে পারে। যদি বলপ্রয়োগ করা হয়, তাহলে ধারা ৩৫৩ প্রযোজ্য হতে পারে। এই ধারায় সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, বা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। যদি সরকারি নির্দেশ অমান্য করে বাধা সৃষ্টি করা হয় (যেমন ১৪৪ ধারা চলাকালীন), তাহলে ধারা ১৮৮ প্রযোজ্য হতে পারে।
এ বিষয়ে দৈনিক সকালের কক্সবাজার কর্তৃপক্ষে সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাদের পাওয়া যায়নি।
এদিকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সৈকতসংলগ্ন এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী ও বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে একটি চক্র বিচের নির্দিষ্ট অংশ দখল করে দোকান বসিয়ে আসছিল। এতে পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্য ব্যাহত হচ্ছিল এবং সাধারণ ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন।
আরো পড়ুন: মব সন্ত্রাসে চ্যালেঞ্জের মুখে পুলিশ
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, সৈকত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকার কথা। কিন্তু কিছু মানুষ ব্যক্তিস্বার্থে জায়গা দখল করে ফেলেছিল। টুরিস্ট পুলিশের অভিযান শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আরেকজন হোটেল ব্যবসায়ী জানান, অবৈধ দোকান ও চাঁদাবাজির কারণে পর্যটকদের কাছে নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছিল। ফলে পর্যটন শিল্পের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছিল। তিনি বলেন, যদি কোনো অনিয়ম থাকে, তা প্রমাণসহ তুলে ধরা উচিত। কিন্তু চলমান অভিযানে বাধা সৃষ্টি হলে সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আপনার মতামত লিখুন