ফরিদপুরের সদর উপজেলাধীন নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের পদ্মা নদী বেষ্টিত অংশ থেকে অবৈধ পন্থায় ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু কেটে নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ইতিপূর্বেও একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কিন্তু থেমে থাকেনি বালি খেকোদের দৌরাত্ম। সম্প্রতি আবারও অভিযান চালিয়ে এ কাজে সম্পৃক্ত দুইজন শ্রমিককে আটক সহ ড্রেজার কাজে ব্যবহৃত পাইপ বিনষ্ট করা সম্ভব হয়েছে। গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়ার নেতৃত্বে এ অভিযানে পরিচালনা করা হয়। এ অভিযান চলে চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের মফিজুদ্দিন মুন্সির ডাংগী হতে রাজাই ব্যাপারীর ডাঙ্গী পর্যন্ত সড়কে। এ সময় বালু কাটার কাজে অংশ নেওয়া দুই শ্রমিক ফরহাদ শেখ (৩০) ও রুবেল (৩১) কে হাতেনাতে আটক করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের মফিজুদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী হতে মমিনখা'র হাট পর্যন্ত সড়কে অভিযান পরিচালনা করে চালু অবস্থায় একটি অবৈধ ড্রেজারের প্রায় পাঁচ শতাধিক মিটার পাইপ ধ্বংস করি এবং অবৈধ ড্রেজারে বালুকাটার কাজে নিয়োজিত দুইজন শ্রমিককে আটক করতে সক্ষম হই। তিনি আরও বলেন, অবৈধ ড্রেজার সহ যেকোনো বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান থাকবে।
আরও পড়ুন, নরসিংদীতে আলোচিত আমেনা হত্যার মূলহোতাসহ গ্রেফতার ৭
আটকৃতদের জবানবন্দিতে জানা যায়, রাকিব নামে এক ব্যাক্তি এই ড্রেজার মেশিন পরিচালনা করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে। সে চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কাঠালতলা সংলগ্ন মগরব মাতুব্বরের পাড়ার জয়নাল মাতব্বরের ছেলে। অভিযুক্ত ড্রেজার মালিক কে অনতি বিলম্বে অফিসে স্ব-শরীরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল, ডিগ্রীরচর ও চর মাধবদীয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় যে, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল অবৈধ বালু উত্তোলনের কর্মযোগ্য পরিচালনা করেন লোক চক্ষুর অন্তরালে থেকে। এটি চলাঞ্চলের জাতীয় ব্যবসায়ী হিসেবেই পরিচিত। জেলা প্রশাসন বা উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে অভিজান দৃশ্যমান থাকলেও বন্ধ হয় না অবৈধ বালু ব্যবসা। শাখা নদী থেকে শুরু করে মূল পদ্মার বুক চিরে চলে বালু উত্তোলন। মাইলের পর মাইল ফরিদপুরের পদ্মা নদী বেষ্টিত জনবসতিপূর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হলেও চরাঞ্চলে চলে বালু বিক্রির মহোৎসব। তবে এ বিষয়ে সচেতন মহলের মন্তব্য অত্যন্ত পরিষ্কার। কেবলমাত্র মাঠ পর্যায়ে ব্যবহারিত ড্রেজারের মালামাল বিনষ্ট বা শ্রমিকদের গ্রেফতারের মাধ্যমে এই অপরাধী চক্রের দমন অসম্ভব প্রায়। জনসচেতনতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সমাজ ব্যবস্থার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন অনেকেই। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিচালিত এ অভিযানে আনসার সদস্য সহ সংশ্লিষ্ট ইউ পি সদস্য ও ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্য বৃন্দ সহযোগিতা করেন বলে জানা যায়।
বিষয় : ফরিদপুর

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ফরিদপুরের সদর উপজেলাধীন নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের পদ্মা নদী বেষ্টিত অংশ থেকে অবৈধ পন্থায় ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু কেটে নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ইতিপূর্বেও একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কিন্তু থেমে থাকেনি বালি খেকোদের দৌরাত্ম। সম্প্রতি আবারও অভিযান চালিয়ে এ কাজে সম্পৃক্ত দুইজন শ্রমিককে আটক সহ ড্রেজার কাজে ব্যবহৃত পাইপ বিনষ্ট করা সম্ভব হয়েছে। গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়ার নেতৃত্বে এ অভিযানে পরিচালনা করা হয়। এ অভিযান চলে চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের মফিজুদ্দিন মুন্সির ডাংগী হতে রাজাই ব্যাপারীর ডাঙ্গী পর্যন্ত সড়কে। এ সময় বালু কাটার কাজে অংশ নেওয়া দুই শ্রমিক ফরহাদ শেখ (৩০) ও রুবেল (৩১) কে হাতেনাতে আটক করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের মফিজুদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী হতে মমিনখা'র হাট পর্যন্ত সড়কে অভিযান পরিচালনা করে চালু অবস্থায় একটি অবৈধ ড্রেজারের প্রায় পাঁচ শতাধিক মিটার পাইপ ধ্বংস করি এবং অবৈধ ড্রেজারে বালুকাটার কাজে নিয়োজিত দুইজন শ্রমিককে আটক করতে সক্ষম হই। তিনি আরও বলেন, অবৈধ ড্রেজার সহ যেকোনো বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান থাকবে।
আরও পড়ুন, নরসিংদীতে আলোচিত আমেনা হত্যার মূলহোতাসহ গ্রেফতার ৭
আটকৃতদের জবানবন্দিতে জানা যায়, রাকিব নামে এক ব্যাক্তি এই ড্রেজার মেশিন পরিচালনা করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে। সে চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কাঠালতলা সংলগ্ন মগরব মাতুব্বরের পাড়ার জয়নাল মাতব্বরের ছেলে। অভিযুক্ত ড্রেজার মালিক কে অনতি বিলম্বে অফিসে স্ব-শরীরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল, ডিগ্রীরচর ও চর মাধবদীয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় যে, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল অবৈধ বালু উত্তোলনের কর্মযোগ্য পরিচালনা করেন লোক চক্ষুর অন্তরালে থেকে। এটি চলাঞ্চলের জাতীয় ব্যবসায়ী হিসেবেই পরিচিত। জেলা প্রশাসন বা উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে অভিজান দৃশ্যমান থাকলেও বন্ধ হয় না অবৈধ বালু ব্যবসা। শাখা নদী থেকে শুরু করে মূল পদ্মার বুক চিরে চলে বালু উত্তোলন। মাইলের পর মাইল ফরিদপুরের পদ্মা নদী বেষ্টিত জনবসতিপূর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হলেও চরাঞ্চলে চলে বালু বিক্রির মহোৎসব। তবে এ বিষয়ে সচেতন মহলের মন্তব্য অত্যন্ত পরিষ্কার। কেবলমাত্র মাঠ পর্যায়ে ব্যবহারিত ড্রেজারের মালামাল বিনষ্ট বা শ্রমিকদের গ্রেফতারের মাধ্যমে এই অপরাধী চক্রের দমন অসম্ভব প্রায়। জনসচেতনতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সমাজ ব্যবস্থার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন অনেকেই। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিচালিত এ অভিযানে আনসার সদস্য সহ সংশ্লিষ্ট ইউ পি সদস্য ও ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্য বৃন্দ সহযোগিতা করেন বলে জানা যায়।

আপনার মতামত লিখুন