দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মুসলমানদের পবিত্র রমজান মাস শুরু

মুসলমানদের পবিত্র রমজান মাস শুরু
তারাবির নামাজ ও সাহ্‌রির প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের রোজার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে।

পশ্চিম আকাশে গতকাল ১৪৪৭ হিজরির পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুমিনের দুয়ারে হাজির হয়েছে দয়াময় আল্লাহতায়ালার রহমত, বরকত ও মাগফেরাতের অশেষ ফল্গুধারা। তারাবির নামাজ ও সাহ্‌রির প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের রোজার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। আত্মশুদ্ধি, আত্ম-সংশোধন, আত্ম-উন্নয়ন ও ত্যাগ-তিতিক্ষার মহিমায় ভাস্বর এই মাসে প্রতিটি মুমিন মহান আল্লাহর বিশেষ মেহমানে পরিণত হয়।

ইসলামের বিধানে রমজানুল মোবারক বছরের বাকি এগারো মাসের চেয়ে অধিক মর্যাদাশীল ও বরকতপূর্ণ। এ মাসের বিশেষত্ব অপরিসীম। এ মাসেই মানুষ ও জিন জাতির মুক্তির সনদ পুরো কোরআন মজিদ লাওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে বায়তুল ইজ্জতে অবতীর্ণ হয়। রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সর্বপ্রথম এ মাসেই অহি অবতীর্ণ হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, রমজান মাসই হলো সে মাস, যাতে নাজিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত ও সত্যপথযাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথনির্দেশ। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫)

সহিহ মুসলিম শরিফের ১০৭৯ নম্বর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, পবিত্র রমজান মাসে আল্লাহতায়ালার রহমতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২৭৭)
রমজানুল মোবারক জাহান্নাম থেকে নাজাত পাওয়ার মাস। সুতরাং, বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি, ক্ষমা প্রার্থনা ও নেক আমলের মাধ্যমে পরকালের শাস্তি থেকে মুক্তির পরওয়ানা লাভের এটিই সুবর্ণ সুযোগ। হাদিস শরিফে এসেছে, আল্লাহতায়ালা রমজানের প্রতি ইফতারের সময় অসংখ্য ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। (মুসনাদে আহমদ: ২২২০২)

আরো পড়ুন , পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন অর্থমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি

পবিত্র রমজান মাসে প্রতিটি আমলের সওয়াব ৭০ থেকে ৭০০ গুণ কিংবা তারও বেশি পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, রমজানের ওমরাহ, হজ সমতুল্য। (জামে তিরমিজি, হাদিস: ৯৩৯)অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, রমজান মাসে যে ব্যক্তি একটি নফল আদায় করল, সে যেন অন্য মাসে একটি ফরজ আদায় করল। 

আর যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরজ আদায় করল, সে যেন অন্য মাসে সত্তরটি ফরজ আদায় করল। (শোয়াবুল ঈমান, বায়হাকি: ৩/৩০৫-৩০৬) অর্থাৎ এ মাসে নফল ইবাদতে অন্য মাসের ফরজের মতো সওয়াব হয়। আর এ মাসের একটি ফরজ আদায়ে অন্য মাসের ৭০টি ফরজ আদায়ের সমান সওয়াব হয়।রোজার সওয়াব সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনুল কারিমে ইরশাদ করেন, নিশ্চয় রোজা আমার জন্য, আর এর প্রতিদান স্বয়ং আমিই দেব। 

(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৫১) রোজা আল্লাহর জন্য হওয়ায় এর প্রতিদানের সীমা-পরিসীমা শুধু আল্লাহই জানেন।যেহেতু রমজান রহমত, বরকত, মাগফেরাত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাত লাভের মাস, তাই এ মাস পেয়েও যে ব্যক্তি নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারল না, তার জন্য হজরত জিবরাঈল (আ.) বদদোয়া করেছেন এবং নবী করিম (সা.) বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হওয়া সত্ত্বেও আমিন বলে সমর্থন জানিয়েছেন।

বিষয় : মুমিন পবিত্র রমজান আল্লাহতায়ালা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


মুসলমানদের পবিত্র রমজান মাস শুরু

প্রকাশের তারিখ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

পশ্চিম আকাশে গতকাল ১৪৪৭ হিজরির পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুমিনের দুয়ারে হাজির হয়েছে দয়াময় আল্লাহতায়ালার রহমত, বরকত ও মাগফেরাতের অশেষ ফল্গুধারা। তারাবির নামাজ ও সাহ্‌রির প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের রোজার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। আত্মশুদ্ধি, আত্ম-সংশোধন, আত্ম-উন্নয়ন ও ত্যাগ-তিতিক্ষার মহিমায় ভাস্বর এই মাসে প্রতিটি মুমিন মহান আল্লাহর বিশেষ মেহমানে পরিণত হয়।

ইসলামের বিধানে রমজানুল মোবারক বছরের বাকি এগারো মাসের চেয়ে অধিক মর্যাদাশীল ও বরকতপূর্ণ। এ মাসের বিশেষত্ব অপরিসীম। এ মাসেই মানুষ ও জিন জাতির মুক্তির সনদ পুরো কোরআন মজিদ লাওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে বায়তুল ইজ্জতে অবতীর্ণ হয়। রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সর্বপ্রথম এ মাসেই অহি অবতীর্ণ হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, রমজান মাসই হলো সে মাস, যাতে নাজিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত ও সত্যপথযাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথনির্দেশ। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫)

সহিহ মুসলিম শরিফের ১০৭৯ নম্বর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, পবিত্র রমজান মাসে আল্লাহতায়ালার রহমতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২৭৭)
রমজানুল মোবারক জাহান্নাম থেকে নাজাত পাওয়ার মাস। সুতরাং, বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি, ক্ষমা প্রার্থনা ও নেক আমলের মাধ্যমে পরকালের শাস্তি থেকে মুক্তির পরওয়ানা লাভের এটিই সুবর্ণ সুযোগ। হাদিস শরিফে এসেছে, আল্লাহতায়ালা রমজানের প্রতি ইফতারের সময় অসংখ্য ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। (মুসনাদে আহমদ: ২২২০২)


আরো পড়ুন , পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন অর্থমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি


পবিত্র রমজান মাসে প্রতিটি আমলের সওয়াব ৭০ থেকে ৭০০ গুণ কিংবা তারও বেশি পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, রমজানের ওমরাহ, হজ সমতুল্য। (জামে তিরমিজি, হাদিস: ৯৩৯)অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, রমজান মাসে যে ব্যক্তি একটি নফল আদায় করল, সে যেন অন্য মাসে একটি ফরজ আদায় করল। 

আর যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরজ আদায় করল, সে যেন অন্য মাসে সত্তরটি ফরজ আদায় করল। (শোয়াবুল ঈমান, বায়হাকি: ৩/৩০৫-৩০৬) অর্থাৎ এ মাসে নফল ইবাদতে অন্য মাসের ফরজের মতো সওয়াব হয়। আর এ মাসের একটি ফরজ আদায়ে অন্য মাসের ৭০টি ফরজ আদায়ের সমান সওয়াব হয়।রোজার সওয়াব সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনুল কারিমে ইরশাদ করেন, নিশ্চয় রোজা আমার জন্য, আর এর প্রতিদান স্বয়ং আমিই দেব। 

(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৫১) রোজা আল্লাহর জন্য হওয়ায় এর প্রতিদানের সীমা-পরিসীমা শুধু আল্লাহই জানেন।যেহেতু রমজান রহমত, বরকত, মাগফেরাত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাত লাভের মাস, তাই এ মাস পেয়েও যে ব্যক্তি নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারল না, তার জন্য হজরত জিবরাঈল (আ.) বদদোয়া করেছেন এবং নবী করিম (সা.) বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হওয়া সত্ত্বেও আমিন বলে সমর্থন জানিয়েছেন।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত