দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

ভোট কেনাবেচা, রাষ্ট্র ও ধর্ম কি বলে

ভোট কেনাবেচা, রাষ্ট্র ও ধর্ম কি বলে
ভোট কেনাবেচা, রাষ্ট্র ও ধর্ম কি বলে

গণতন্ত্রের প্রাণ হলো ভোট। এই ভোট কেবল একটি কাগজে সিল মারা বা ইলেকট্রনিক বোতাম চাপার যান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়; এটি একটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সবচেয়ে শক্তিশালী নৈতিক হাতিয়ার। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—বাংলাদেশসহ অনেক উন্নয়নশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এই ভোট আজ পণ্যে পরিণত হচ্ছে। টাকার বিনিময়ে ভোট কেনাবেচা কেবল আইন লঙ্ঘনের ঘটনা নয়; এটি ধর্মীয়, নৈতিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় স্তরে একটি গভীর সংকটের বহিঃপ্রকাশ। ​ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী, ভোট কেবল একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয় এটি একটি ‘আমানত’ এবং ‘সাক্ষ্য’। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ভোট দেওয়া মানে হলো প্রার্থীর যোগ্যতা ও সততার পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করা। যখন একজন ভোটার টাকার বিনিময়ে অযোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দেন, তখন তিনি মূলত একটি মিথ্যা সাক্ষ্য দিচ্ছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়াকে শিরকের কাছাকাছি পর্যায়ের মহাপাপ হিসেবে গণ্য করেছেন। একইসাথে, ভোটের বিনিময়ে টাকা দেওয়া ও নেওয়া উভয়ই ঘুষের পর্যায়ভুক্ত। হাদিসের কঠোর সতর্কবাণী হলো, ঘুষ দাতা এবং ঘুষ গ্রহীতা উভয়ই জাহান্নামী।” এছাড়া, ভোট একটি পবিত্র আমানত। অযোগ্য কাউকে নির্বাচিত করা মানে হলো দেশ ও জাতির স্বার্থের খেয়ানত করা, যা কিয়ামতের অন্যতম আলামত হিসেবে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। সুরা নিসার ৮৫ নম্বর আয়াতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ভালো সুপারিশের জন্য সওয়াব এবং মন্দ সুপারিশের জন্য পাপের অংশীদার হতে হবে।

​হিন্দু ধর্মশাস্ত্রের দিকে তাকালে দেখা যায়, সেখানে ‘রাজধর্ম’ এবং ‘সততা’ এর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিষ্ণু পুরাণ, বামন পুরাণ ও পদ্ম পুরাণে ঘুষ গ্রহণকে নরকগামী হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে ধর্মের পথে থাকার এবং ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর যে শিক্ষা দিয়েছেন, টাকার বিনিময়ে ভোট কেনা বা বিক্রি করা তার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এটি মূলত ধর্মের ‘আপরিগ্রহ’ (অনৈতিক কিছু গ্রহণ না করা) নীতির বিরোধী। এছাড়া ‘কর্মফল’ তত্ত্ব অনুযায়ী, একজন ভোটার যদি টাকার বিনিময়ে কোনো দুর্নীতিবাজ নেতাকে নির্বাচিত করেন, তবে সেই নেতার দ্বারা সংগঠিত প্রতিটি অন্যায়ের পাপের ভাগীদার ওই ভোটারকেও হতে হবে।

বৌদ্ধধর্মের মূল ভিত্তি পঞ্চশীল নীতি এবং ‘সঠিক জীবিকা’ এর আলোকে ভোট কেনাবেচাকে একটি অকুশল বা পাপ কাজ হিসেবে দেখা হয়। লোভ, দ্বেষ ও মোহ এই তিন বিষ থেকে মুক্ত থাকার যে শিক্ষা বুদ্ধ দিয়েছেন, সামান্য বৈষয়িক লাভের জন্য ভোট বিক্রি করা সেই শিক্ষার অবমাননা। এটি বুদ্ধের ‘মুসাভাদা’ বা মিথ্যা না বলার শীলের বিরোধী। সিংগালোবাদ সুত্রে বর্ণিত সামাজিক দায়বদ্ধতা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, নৈতিক স্খলন ঘটিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কলুষিত করা মানে হলো নির্বাণের পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া। ​খ্রিস্টধর্ম ও বাইবেলের শিক্ষা অনুযায়ী, শাসনব্যবস্থা একটি পবিত্র সেবা। বাইবেলের যাত্রাপুস্তক (২৩:৮) অনুযায়ী, ঘুষ গ্রহণ করা নিষিদ্ধ কারণ এটি চক্ষুষ্মানদের অন্ধ করে দেয় এবং ন্যায়বিচারকে উল্টে দেয়। যিথ্রো মোশিকে পরামর্শ দিয়েছিলেন এমন নেতা নির্বাচন করতে যারা হবে ‘ঈশ্বরভক্ত, সত্যপ্রিয় ও অন্যায্য লাভের বিরোধী’। যখন কোনো বিশ্বাসী অর্থের লোভে ভোট বিক্রি করেন, তখন তিনি বাইবেলের ‘লবণ ও আলো’ হওয়ার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে সমাজে অন্ধকারের বিস্তার ঘটান।

সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় আইনের দৃষ্টিতেও এটি একটি জঘন্য অপরাধ। বাংলাদেশের ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (জচঙ), ১৯৭২’ এবং দণ্ডবিধির ১৭১ এর খ ধারা অনুযায়ী, নির্বাচনে ঘুষ আদান-প্রদান দণ্ডনীয় অপরাধ। এর জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু আইনের চেয়েও বড় সংকট হলো সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে। যে প্রার্থী আজ টাকা দিয়ে ভোট কিনছেন, তিনি ক্ষমতায় গিয়ে প্রথমেই সেই টাকা সুদে-আসলে তোলার চেষ্টা করবেন। ফলে রাস্তাঘাট, স্কুল বা হাসপাতালের উন্নয়নে বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাৎ হবে। অর্থাৎ, ভোটার নির্বাচনের দিন যে ৫০০ বা ১০০০ টাকা নিচ্ছেন, বিনিময়ে তিনি আগামী ৫ বছরের জন্য তার এলাকার উন্নয়ন ও নাগরিক অধিকার বিক্রি করে দিচ্ছেন।

​বিখ্যাত মনীষীদের দর্শনেও এই ব্যাধির ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে। আব্রাহাম লিংকন ভোটকে বুলেটের চেয়ে শক্তিশালী বলেছিলেন। কিন্তু সেই ভোট যখন টাকার বিনিময়ে বিক্রি হয়, তখন সেই শক্তিশালী অস্ত্রটি নিজের দিকেই ধেয়ে আসে। প্লেটোর সেই কালজয়ী সতর্কবার্তা আজও প্রাসঙ্গিক রাজনীতিতে অংশগ্রহণ এনং সঠিক ভোট দানের অনাগ্রহের শাস্তি হলো তোমাকে তোমার চেয়ে নিকৃষ্ট কারো অধীনে শাসিত হতে হবে।” আজ আমরা সমাজ ও রাষ্ট্রে যে অস্থিরতা ও দুর্নীতি দেখছি, তার মূলে রয়েছে আমাদের ভুল নির্বাচন এবং নৈতিক অধঃপতন।

আরও পড়ুন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গণতন্ত্র ও নিরাপত্তার কঠিন পরীক্ষা- ওয়াসিম ফারুক

​বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। সচেতন সমাজ ও নাগরিকদের বুঝতে হবে যে, ভোট কেনাবেচা কেবল একটি আইনি অপরাধ নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা। এটি রুখতে কেবল আইন দিয়ে সম্ভব নয়, প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ ও ধর্মীয় মূল্যবোধের জাগরণ। যারা টাকা দিয়ে ভোট কিনতে আসে, তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, আমাদের একটি ভুল সিদ্ধান্ত বা সামান্য লোভের ফল ভোগ করতে হয় পুরো জাতিকে।

​পরিশেষে বলা যায়, ভোট একটি নাগরিক অধিকার ও ধর্মীয় কর্তব্য। একে পণ্যের মতো কেনাবেচা করা মানে নিজের বিবেক ও ঈমানকে বিকিয়ে দেওয়া। একটি সমৃদ্ধ, দুর্নীতিমুক্ত ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনে সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। আর সেই নেতৃত্ব নির্বাচনের চাবিকাঠি হলো আমাদের পবিত্র ভোটাধিকার। আসুন, অর্থের প্রলোভন পায়ে ঠেলে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াই। কারণ দিনশেষে আমাদের প্রতিটি কাজ ও সিদ্ধান্তের জন্য স্রষ্টা এবং ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

বিষয় : ভোট রাষ্ট্র ধর্ম

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


ভোট কেনাবেচা, রাষ্ট্র ও ধর্ম কি বলে

প্রকাশের তারিখ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

গণতন্ত্রের প্রাণ হলো ভোট। এই ভোট কেবল একটি কাগজে সিল মারা বা ইলেকট্রনিক বোতাম চাপার যান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়; এটি একটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সবচেয়ে শক্তিশালী নৈতিক হাতিয়ার। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—বাংলাদেশসহ অনেক উন্নয়নশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এই ভোট আজ পণ্যে পরিণত হচ্ছে। টাকার বিনিময়ে ভোট কেনাবেচা কেবল আইন লঙ্ঘনের ঘটনা নয়; এটি ধর্মীয়, নৈতিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় স্তরে একটি গভীর সংকটের বহিঃপ্রকাশ। ​ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী, ভোট কেবল একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয় এটি একটি ‘আমানত’ এবং ‘সাক্ষ্য’। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ভোট দেওয়া মানে হলো প্রার্থীর যোগ্যতা ও সততার পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করা। যখন একজন ভোটার টাকার বিনিময়ে অযোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দেন, তখন তিনি মূলত একটি মিথ্যা সাক্ষ্য দিচ্ছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়াকে শিরকের কাছাকাছি পর্যায়ের মহাপাপ হিসেবে গণ্য করেছেন। একইসাথে, ভোটের বিনিময়ে টাকা দেওয়া ও নেওয়া উভয়ই ঘুষের পর্যায়ভুক্ত। হাদিসের কঠোর সতর্কবাণী হলো, ঘুষ দাতা এবং ঘুষ গ্রহীতা উভয়ই জাহান্নামী।” এছাড়া, ভোট একটি পবিত্র আমানত। অযোগ্য কাউকে নির্বাচিত করা মানে হলো দেশ ও জাতির স্বার্থের খেয়ানত করা, যা কিয়ামতের অন্যতম আলামত হিসেবে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। সুরা নিসার ৮৫ নম্বর আয়াতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ভালো সুপারিশের জন্য সওয়াব এবং মন্দ সুপারিশের জন্য পাপের অংশীদার হতে হবে।

​হিন্দু ধর্মশাস্ত্রের দিকে তাকালে দেখা যায়, সেখানে ‘রাজধর্ম’ এবং ‘সততা’ এর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিষ্ণু পুরাণ, বামন পুরাণ ও পদ্ম পুরাণে ঘুষ গ্রহণকে নরকগামী হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে ধর্মের পথে থাকার এবং ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর যে শিক্ষা দিয়েছেন, টাকার বিনিময়ে ভোট কেনা বা বিক্রি করা তার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এটি মূলত ধর্মের ‘আপরিগ্রহ’ (অনৈতিক কিছু গ্রহণ না করা) নীতির বিরোধী। এছাড়া ‘কর্মফল’ তত্ত্ব অনুযায়ী, একজন ভোটার যদি টাকার বিনিময়ে কোনো দুর্নীতিবাজ নেতাকে নির্বাচিত করেন, তবে সেই নেতার দ্বারা সংগঠিত প্রতিটি অন্যায়ের পাপের ভাগীদার ওই ভোটারকেও হতে হবে।

বৌদ্ধধর্মের মূল ভিত্তি পঞ্চশীল নীতি এবং ‘সঠিক জীবিকা’ এর আলোকে ভোট কেনাবেচাকে একটি অকুশল বা পাপ কাজ হিসেবে দেখা হয়। লোভ, দ্বেষ ও মোহ এই তিন বিষ থেকে মুক্ত থাকার যে শিক্ষা বুদ্ধ দিয়েছেন, সামান্য বৈষয়িক লাভের জন্য ভোট বিক্রি করা সেই শিক্ষার অবমাননা। এটি বুদ্ধের ‘মুসাভাদা’ বা মিথ্যা না বলার শীলের বিরোধী। সিংগালোবাদ সুত্রে বর্ণিত সামাজিক দায়বদ্ধতা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, নৈতিক স্খলন ঘটিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কলুষিত করা মানে হলো নির্বাণের পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া। ​খ্রিস্টধর্ম ও বাইবেলের শিক্ষা অনুযায়ী, শাসনব্যবস্থা একটি পবিত্র সেবা। বাইবেলের যাত্রাপুস্তক (২৩:৮) অনুযায়ী, ঘুষ গ্রহণ করা নিষিদ্ধ কারণ এটি চক্ষুষ্মানদের অন্ধ করে দেয় এবং ন্যায়বিচারকে উল্টে দেয়। যিথ্রো মোশিকে পরামর্শ দিয়েছিলেন এমন নেতা নির্বাচন করতে যারা হবে ‘ঈশ্বরভক্ত, সত্যপ্রিয় ও অন্যায্য লাভের বিরোধী’। যখন কোনো বিশ্বাসী অর্থের লোভে ভোট বিক্রি করেন, তখন তিনি বাইবেলের ‘লবণ ও আলো’ হওয়ার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে সমাজে অন্ধকারের বিস্তার ঘটান।

সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় আইনের দৃষ্টিতেও এটি একটি জঘন্য অপরাধ। বাংলাদেশের ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (জচঙ), ১৯৭২’ এবং দণ্ডবিধির ১৭১ এর খ ধারা অনুযায়ী, নির্বাচনে ঘুষ আদান-প্রদান দণ্ডনীয় অপরাধ। এর জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু আইনের চেয়েও বড় সংকট হলো সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে। যে প্রার্থী আজ টাকা দিয়ে ভোট কিনছেন, তিনি ক্ষমতায় গিয়ে প্রথমেই সেই টাকা সুদে-আসলে তোলার চেষ্টা করবেন। ফলে রাস্তাঘাট, স্কুল বা হাসপাতালের উন্নয়নে বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাৎ হবে। অর্থাৎ, ভোটার নির্বাচনের দিন যে ৫০০ বা ১০০০ টাকা নিচ্ছেন, বিনিময়ে তিনি আগামী ৫ বছরের জন্য তার এলাকার উন্নয়ন ও নাগরিক অধিকার বিক্রি করে দিচ্ছেন।

​বিখ্যাত মনীষীদের দর্শনেও এই ব্যাধির ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে। আব্রাহাম লিংকন ভোটকে বুলেটের চেয়ে শক্তিশালী বলেছিলেন। কিন্তু সেই ভোট যখন টাকার বিনিময়ে বিক্রি হয়, তখন সেই শক্তিশালী অস্ত্রটি নিজের দিকেই ধেয়ে আসে। প্লেটোর সেই কালজয়ী সতর্কবার্তা আজও প্রাসঙ্গিক রাজনীতিতে অংশগ্রহণ এনং সঠিক ভোট দানের অনাগ্রহের শাস্তি হলো তোমাকে তোমার চেয়ে নিকৃষ্ট কারো অধীনে শাসিত হতে হবে।” আজ আমরা সমাজ ও রাষ্ট্রে যে অস্থিরতা ও দুর্নীতি দেখছি, তার মূলে রয়েছে আমাদের ভুল নির্বাচন এবং নৈতিক অধঃপতন।

আরও পড়ুন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গণতন্ত্র ও নিরাপত্তার কঠিন পরীক্ষা- ওয়াসিম ফারুক

​বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। সচেতন সমাজ ও নাগরিকদের বুঝতে হবে যে, ভোট কেনাবেচা কেবল একটি আইনি অপরাধ নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা। এটি রুখতে কেবল আইন দিয়ে সম্ভব নয়, প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ ও ধর্মীয় মূল্যবোধের জাগরণ। যারা টাকা দিয়ে ভোট কিনতে আসে, তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, আমাদের একটি ভুল সিদ্ধান্ত বা সামান্য লোভের ফল ভোগ করতে হয় পুরো জাতিকে।

​পরিশেষে বলা যায়, ভোট একটি নাগরিক অধিকার ও ধর্মীয় কর্তব্য। একে পণ্যের মতো কেনাবেচা করা মানে নিজের বিবেক ও ঈমানকে বিকিয়ে দেওয়া। একটি সমৃদ্ধ, দুর্নীতিমুক্ত ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনে সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। আর সেই নেতৃত্ব নির্বাচনের চাবিকাঠি হলো আমাদের পবিত্র ভোটাধিকার। আসুন, অর্থের প্রলোভন পায়ে ঠেলে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াই। কারণ দিনশেষে আমাদের প্রতিটি কাজ ও সিদ্ধান্তের জন্য স্রষ্টা এবং ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত