দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

ভোটকে লক্ষ্য করে সাইবার গুজব ও অপতথ্যের ঝড়

ভোটকে লক্ষ্য করে সাইবার গুজব ও অপতথ্যের ঝড়
ভোটকে লক্ষ্য করে সাইবার গুজব ও অপতথ্যের ঝড়

আগামীকাল ভোট। মাঠের প্রচার শেষ হলেও চলছে ভয়ংকর নির্বাচনি সাইবার যুদ্ধ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বইছে গুজব ও অপতথ্যের ঝড়। প্রার্থী ও রাজনৈতিক পরিবারকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে চরিত্রহননমূলক প্রচার। একই সঙ্গে ভোট কেন্দ্রে না যেতে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টাও চলছে। এতে ভোটার উপস্থিতি ও ভোটের হারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অপতথ্য ছড়ানোর পেছনে সক্রিয় রয়েছে সংগঠিত বট বাহিনী। অনলাইনে বট বাহিনী বলতে বোঝায়- স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার বা সমন্বিতভাবে পরিচালিত ভুয়া ও নকল অ্যাকাউন্টের নেটওয়ার্ক, যেগুলো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে একযোগে পোস্ট, লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করে কনটেন্ট ভাইরাল করে তোলে। বাস্তব মানুষের মতো আচরণ করলেও এসব অ্যাকাউন্টের পেছনে থাকে প্রোগ্রাম বা নিয়ন্ত্রিত টিম।

বর্তমানে নির্বাচনকেন্দ্রিক অপতথ্যের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই একই ধরনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে একটি পোস্টে শত শত একই ধরনের মন্তব্য, নির্দিষ্ট হ্যাশট্যাগের একযোগে ব্যবহার এবং নতুন বা সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট থেকে অতিরিক্ত শেয়ার- এসবই বট বাহিনীর সক্রিয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এমন একাধিক ভুয়া কনটেন্ট ইতোমধ্যে শনাক্ত হয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যের নামে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে ভোটের বিনিময়ে টাকা দেওয়ার কথা বলতে দেখা যায়, যা আচরণবিধি লঙ্ঘন। ভিডিওটি তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানের নামযুক্ত একটি ফেসবুক পেজ থেকে পোস্ট করা হয়। ভিডিওতে দর্শকদের পেজ ফলো ও শেয়ার করতে এবং কমেন্টে বিকাশ নম্বর দিতে বলা হয়। পরে যাচাইয়ে দেখা যায়, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি এবং পেজটি ভুয়া। একই দাবিতে ভিডিও প্রচার করা এক ডজনের বেশি ফেসবুক পেজ পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমের নামে বানানো ভুয়া ফটোকার্ডও ছড়ানো হয়েছে ভূরি ভূরি। রাজধানীর পূর্বাচলে ‘নৌকা নাই ভোটও নাই’ লেখা গ্রাফিতির একটি ছবিও ভাইরাল হয়েছে গত সোমবার, যা পরে পুরোনো ছবির সম্পাদিত সংস্করণ বলে শনাক্ত হয়। ২০ ঘণ্টায় পোস্টটিতে তিন হাজারের বেশি রিয়্যাক্ট, ১২৭ শেয়ার ও প্রায় ২০০ মন্তব্য দেখা গেছে। নির্বাচনের দিন ও আগের দিন ইন্টারনেট বন্ধ থাকবে- এমন একটা সংবাদ প্রতিবেদনের ভিডিও টিকটকে দেখা হয়েছে প্রায় ১২ লক্ষাধিক বার। প্রকৃতপক্ষে সরকারের তরফ থেকে এমন কোনো ঘোষণা আসেনি। টিকটক ও ফেসবুকে এআই দিয়ে তৈরি গণমিছিলের ভিডিও এবং ভোট কেন্দ্রে সহিংসতার আশঙ্কা ছড়ানো কনটেন্টও ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। এসব ভিডিও ও পোস্টে অল্প সময়েই হাজার হাজার রিয়্যাক্ট ও শেয়ার দেখা যাচ্ছে, যা বট বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতার সন্দেহ জোরালো করছে।

আরও পড়ুন, ১৭ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীর কাছে পৌঁছাবে নতুন ধূমকেতু সি/২০২৪ ই১

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আরিফ মঈনুদ্দীন বলেন, নির্বাচনপূর্ব সময়টাই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। মাঠের প্রচারণা বন্ধ হওয়ায় অনলাইনে মূল লড়াই শুরু হয়েছে। বট বাহিনীর মাধ্যমে হুটহাট গুজব ভাইরাল করে ভোটারদের ভয় দেখানো, ভোট কেন্দ্র দখলের অপতথ্য ছড়ানো কিংবা ভুয়া ফলাফল প্রকাশের চেষ্টা হতে পারে। বাংলাদেশে এ ধরনের অপতথ্য সবচেয়ে বেশি ছড়াচ্ছে ফেসবুকে, এরপর ইউটিউব ও টিকটক। সরকার ফেসবুকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে, কতটা লাভ হলো তা ভোটের পর বোঝা যাবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে অপতথ্য ঠেকাতে শুধু প্ল্যাটফর্ম বা সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। ভোটারদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস বা শেয়ার না করা এবং সন্দেহজনক কনটেন্ট এড়িয়ে চলাই পারে শেষ মুহূর্তের এই সাইবার যুদ্ধে অপতথ্যের প্রভাব কমাতে।

বিষয় : ভোট সাইবার যুদ্ধ অপতথ্য

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


ভোটকে লক্ষ্য করে সাইবার গুজব ও অপতথ্যের ঝড়

প্রকাশের তারিখ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

আগামীকাল ভোট। মাঠের প্রচার শেষ হলেও চলছে ভয়ংকর নির্বাচনি সাইবার যুদ্ধ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বইছে গুজব ও অপতথ্যের ঝড়। প্রার্থী ও রাজনৈতিক পরিবারকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে চরিত্রহননমূলক প্রচার। একই সঙ্গে ভোট কেন্দ্রে না যেতে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টাও চলছে। এতে ভোটার উপস্থিতি ও ভোটের হারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অপতথ্য ছড়ানোর পেছনে সক্রিয় রয়েছে সংগঠিত বট বাহিনী। অনলাইনে বট বাহিনী বলতে বোঝায়- স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার বা সমন্বিতভাবে পরিচালিত ভুয়া ও নকল অ্যাকাউন্টের নেটওয়ার্ক, যেগুলো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে একযোগে পোস্ট, লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করে কনটেন্ট ভাইরাল করে তোলে। বাস্তব মানুষের মতো আচরণ করলেও এসব অ্যাকাউন্টের পেছনে থাকে প্রোগ্রাম বা নিয়ন্ত্রিত টিম।

বর্তমানে নির্বাচনকেন্দ্রিক অপতথ্যের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই একই ধরনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে একটি পোস্টে শত শত একই ধরনের মন্তব্য, নির্দিষ্ট হ্যাশট্যাগের একযোগে ব্যবহার এবং নতুন বা সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট থেকে অতিরিক্ত শেয়ার- এসবই বট বাহিনীর সক্রিয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এমন একাধিক ভুয়া কনটেন্ট ইতোমধ্যে শনাক্ত হয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যের নামে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে ভোটের বিনিময়ে টাকা দেওয়ার কথা বলতে দেখা যায়, যা আচরণবিধি লঙ্ঘন। ভিডিওটি তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানের নামযুক্ত একটি ফেসবুক পেজ থেকে পোস্ট করা হয়। ভিডিওতে দর্শকদের পেজ ফলো ও শেয়ার করতে এবং কমেন্টে বিকাশ নম্বর দিতে বলা হয়। পরে যাচাইয়ে দেখা যায়, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি এবং পেজটি ভুয়া। একই দাবিতে ভিডিও প্রচার করা এক ডজনের বেশি ফেসবুক পেজ পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমের নামে বানানো ভুয়া ফটোকার্ডও ছড়ানো হয়েছে ভূরি ভূরি। রাজধানীর পূর্বাচলে ‘নৌকা নাই ভোটও নাই’ লেখা গ্রাফিতির একটি ছবিও ভাইরাল হয়েছে গত সোমবার, যা পরে পুরোনো ছবির সম্পাদিত সংস্করণ বলে শনাক্ত হয়। ২০ ঘণ্টায় পোস্টটিতে তিন হাজারের বেশি রিয়্যাক্ট, ১২৭ শেয়ার ও প্রায় ২০০ মন্তব্য দেখা গেছে। নির্বাচনের দিন ও আগের দিন ইন্টারনেট বন্ধ থাকবে- এমন একটা সংবাদ প্রতিবেদনের ভিডিও টিকটকে দেখা হয়েছে প্রায় ১২ লক্ষাধিক বার। প্রকৃতপক্ষে সরকারের তরফ থেকে এমন কোনো ঘোষণা আসেনি। টিকটক ও ফেসবুকে এআই দিয়ে তৈরি গণমিছিলের ভিডিও এবং ভোট কেন্দ্রে সহিংসতার আশঙ্কা ছড়ানো কনটেন্টও ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। এসব ভিডিও ও পোস্টে অল্প সময়েই হাজার হাজার রিয়্যাক্ট ও শেয়ার দেখা যাচ্ছে, যা বট বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতার সন্দেহ জোরালো করছে।

আরও পড়ুন, ১৭ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীর কাছে পৌঁছাবে নতুন ধূমকেতু সি/২০২৪ ই১

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আরিফ মঈনুদ্দীন বলেন, নির্বাচনপূর্ব সময়টাই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। মাঠের প্রচারণা বন্ধ হওয়ায় অনলাইনে মূল লড়াই শুরু হয়েছে। বট বাহিনীর মাধ্যমে হুটহাট গুজব ভাইরাল করে ভোটারদের ভয় দেখানো, ভোট কেন্দ্র দখলের অপতথ্য ছড়ানো কিংবা ভুয়া ফলাফল প্রকাশের চেষ্টা হতে পারে। বাংলাদেশে এ ধরনের অপতথ্য সবচেয়ে বেশি ছড়াচ্ছে ফেসবুকে, এরপর ইউটিউব ও টিকটক। সরকার ফেসবুকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে, কতটা লাভ হলো তা ভোটের পর বোঝা যাবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে অপতথ্য ঠেকাতে শুধু প্ল্যাটফর্ম বা সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। ভোটারদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস বা শেয়ার না করা এবং সন্দেহজনক কনটেন্ট এড়িয়ে চলাই পারে শেষ মুহূর্তের এই সাইবার যুদ্ধে অপতথ্যের প্রভাব কমাতে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত