দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণের স্বপ্ন দেখিয়ে টিকিট ও প্যাকেজ বিক্রির নামে একের পর এক প্রতারণার অভিযোগ উঠে এসেছে। বিভিন্ন ট্যুর অপারেটর ও ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তদন্ত করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওয়ান কমিউনিকেশন ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস এর সহযোগী মো. ইদ্রিস আলী নিজেকে জাহাজের মালিক পরিচয় দিয়ে সেন্টমার্টিনগামী জাহাজের টিকিট বুকিংয়ের নামে ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ৪৭টি টিকিট বাবদ হোটেল বুকিংসহ মোট ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা আদায় করেন। পরবর্তীতে টিকিট না দিয়ে পর্যটকদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন তিনি। ট্যুরিস্ট পুলিশের হস্তক্ষেপে অভিযুক্তকে শনাক্ত করে টাকা উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদের ফেরত দেওয়া হয়।
এদিকে সিরাজগঞ্জের একটি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের কাছ থেকেও ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে ২ লাখ ১২ হাজার ৫৫০ টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট ট্যুর এজেন্সিকে টাকা ফেরত দিতে বাধ্য করা হয়। এক বিমান বাহিনীর একজন সদস্যের কাছ থেকে সেন্টমার্টিনের জাহাজ টিকিটের নামে ১১ হাজার ২০০ টাকা আদায়ের অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অর্থ ফেরত ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
একটি সুত্রে জানা গেছে, Rafsan Tourist & Travel BD এর মালিক মো. নাসির উদ্দিন সবুজের বিরুদ্ধে ১১ জন পর্যটকের কাছ থেকে ১১টি ভুয়া টিকিট বিক্রির অভিযোগ ওঠে। টিকিটগুলো স্ক্যান করলে জাল প্রমাণিত হয়। পরে সেন্টমার্টিন প্যাকেজ বাবদ আদায়কৃত ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮০০ টাকা ট্যুরিস্ট পুলিশের মধ্যস্থতায় ভুক্তভোগীদের ফেরত দেওয়া হয়। তবে Fanus Traveller BD-এর মাধ্যমে সিরাজগঞ্জ থেকে আগত এক পর্যটকের কাছ থেকে ১১ হাজার টাকা আদায় করা হলেও নির্ধারিত দিনে কোনো প্রতিনিধি পাওয়া যায়নি। ট্যুরিস্ট পুলিশের অভিযোগের পর অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
জানা গেছে, SA Tour & Travels ও Asia Tour Group নামের দুটি ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে নারী পর্যটকদের হয়রানি, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, অনিরাপদ আবাসন ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি বর্তমানে ট্যুরিস্ট পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
Hila Tourism নামের একটি অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ১৯ জন পর্যটকের জন্য বুক করা টিকিট জাল প্রমাণিত হয়। অভিযোগের পর অর্থ ফেরতের চেষ্টা চললেও এখনও পুরো টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।এবিষয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতারণাকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। অনলাইন ও অফলাইন যেকোনো ধরনের টিকিট বা প্যাকেজ কেনার আগে যাচাই-বাছাই করার জন্য পর্যটকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিষয় : সেন্টমার্টিন সিন্ডিকেট পর্যটক পর্যটক

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণের স্বপ্ন দেখিয়ে টিকিট ও প্যাকেজ বিক্রির নামে একের পর এক প্রতারণার অভিযোগ উঠে এসেছে। বিভিন্ন ট্যুর অপারেটর ও ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তদন্ত করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওয়ান কমিউনিকেশন ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস এর সহযোগী মো. ইদ্রিস আলী নিজেকে জাহাজের মালিক পরিচয় দিয়ে সেন্টমার্টিনগামী জাহাজের টিকিট বুকিংয়ের নামে ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ৪৭টি টিকিট বাবদ হোটেল বুকিংসহ মোট ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা আদায় করেন। পরবর্তীতে টিকিট না দিয়ে পর্যটকদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন তিনি। ট্যুরিস্ট পুলিশের হস্তক্ষেপে অভিযুক্তকে শনাক্ত করে টাকা উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদের ফেরত দেওয়া হয়।
এদিকে সিরাজগঞ্জের একটি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের কাছ থেকেও ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে ২ লাখ ১২ হাজার ৫৫০ টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট ট্যুর এজেন্সিকে টাকা ফেরত দিতে বাধ্য করা হয়। এক বিমান বাহিনীর একজন সদস্যের কাছ থেকে সেন্টমার্টিনের জাহাজ টিকিটের নামে ১১ হাজার ২০০ টাকা আদায়ের অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অর্থ ফেরত ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
একটি সুত্রে জানা গেছে, Rafsan Tourist & Travel BD এর মালিক মো. নাসির উদ্দিন সবুজের বিরুদ্ধে ১১ জন পর্যটকের কাছ থেকে ১১টি ভুয়া টিকিট বিক্রির অভিযোগ ওঠে। টিকিটগুলো স্ক্যান করলে জাল প্রমাণিত হয়। পরে সেন্টমার্টিন প্যাকেজ বাবদ আদায়কৃত ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮০০ টাকা ট্যুরিস্ট পুলিশের মধ্যস্থতায় ভুক্তভোগীদের ফেরত দেওয়া হয়। তবে Fanus Traveller BD-এর মাধ্যমে সিরাজগঞ্জ থেকে আগত এক পর্যটকের কাছ থেকে ১১ হাজার টাকা আদায় করা হলেও নির্ধারিত দিনে কোনো প্রতিনিধি পাওয়া যায়নি। ট্যুরিস্ট পুলিশের অভিযোগের পর অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
জানা গেছে, SA Tour & Travels ও Asia Tour Group নামের দুটি ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে নারী পর্যটকদের হয়রানি, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, অনিরাপদ আবাসন ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি বর্তমানে ট্যুরিস্ট পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
Hila Tourism নামের একটি অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ১৯ জন পর্যটকের জন্য বুক করা টিকিট জাল প্রমাণিত হয়। অভিযোগের পর অর্থ ফেরতের চেষ্টা চললেও এখনও পুরো টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।এবিষয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতারণাকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। অনলাইন ও অফলাইন যেকোনো ধরনের টিকিট বা প্যাকেজ কেনার আগে যাচাই-বাছাই করার জন্য পর্যটকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন