জীবনের নির্মম বাস্তবতায় কেউ থমকে দাঁড়ায় মেয়ের বিয়ের স্বপ্ন নিয়ে, কেউ আবার মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে হাসপাতালের শয্যায়। ঘটনা দুটি আলাদা হলেও মানবিকতার এক সুতোয় গাঁথা চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সহমর্মিতার ছোঁয়া। চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানার সিএন্ডবি এলাকার বাসিন্দা নাছিমা বেগম নিজেই অসুস্থ। তার স্বামী আবুল কালাম দীর্ঘদিন ধরে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। সংসারে চার কন্যা সন্তান। বহু কষ্টে তিনজনের বিয়ে সম্পন্ন হলেও ছোট মেয়ের বিয়ের তারিখ ঠিক হওয়ার পরই অর্থাভাবে ভেঙে পড়ে পরিবারটি।
শেষ আশ্রয় হিসেবে নাছিমা বেগম হাজির হন জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সামনে নিজের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন তিনি। মানবিক বিবেচনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এককালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়া হলে নতুন করে আশার আলো দেখেন এই মা। নাছিমা বেগম বলেন, “সবকিছু থেমে যাচ্ছিল। মেয়ের বিয়ের দিন সামনে অথচ হাতে টাকা নেই। ডিসি স্যারের সাহায্য না পেলে কীভাবে যে পরিস্থিতি সামলাতাম, কল্পনাও করতে পারি না। একই দিন গণশুনানিতে হাজির হন সাতকানিয়ার মৈশামুড়া এলাকার দিনমজুর মোহাম্মদ ফরিদের পরিবার। একসময় যিনি দিনমজুরের কাজ করে চার সন্তান নিয়ে সংসার চালাতেন, আজ তিনি হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা ও পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে শয্যাশায়ী। ২০২৩ সালের পর থেকে সম্পূর্ণ কর্মক্ষমতা হারিয়ে তিনি পরিবারটির একমাত্র ভরসা থেকে বোঝায় পরিণত হয়েছেন। খালেদা বেগম জানান, আমার স্বামী কিছুই করতে পারে না। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। সন্তানদের নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। ফরিদের কন্যা ইসরাত আরা বলেন, “আব্বার চিকিৎসা চলবে কি না সেই ভয় ছিল। জেলা প্রশাসক স্যারের সহায়তায় আবার বাঁচার আশা পেলাম। তিনি সত্যিই একজন মানবিক মানুষ।
আরও পড়ুন, চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে অস্ত্রসহ আটক ২
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সেদিন শুধু এই দুটি পরিবার নয় চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা আরও অসহায় মানুষ ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের একটি সামাজিক সংগঠনকেও সহায়তা দেওয়া হয়েছে। জনসেবাকে শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, মানবিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করার এই দৃষ্টান্ত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে সাধারণ মানুষের কাছে এক অনন্য আস্থার প্রতীকে পরিণত করেছে। রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হয়েও যিনি মানুষের কষ্টকে নিজের দায়িত্ব বলে মনে করেন তাঁর এই মানবিক উদ্যোগই আজ চট্টগ্রামে আশার নাম হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
জীবনের নির্মম বাস্তবতায় কেউ থমকে দাঁড়ায় মেয়ের বিয়ের স্বপ্ন নিয়ে, কেউ আবার মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে হাসপাতালের শয্যায়। ঘটনা দুটি আলাদা হলেও মানবিকতার এক সুতোয় গাঁথা চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সহমর্মিতার ছোঁয়া। চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানার সিএন্ডবি এলাকার বাসিন্দা নাছিমা বেগম নিজেই অসুস্থ। তার স্বামী আবুল কালাম দীর্ঘদিন ধরে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। সংসারে চার কন্যা সন্তান। বহু কষ্টে তিনজনের বিয়ে সম্পন্ন হলেও ছোট মেয়ের বিয়ের তারিখ ঠিক হওয়ার পরই অর্থাভাবে ভেঙে পড়ে পরিবারটি।
শেষ আশ্রয় হিসেবে নাছিমা বেগম হাজির হন জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সামনে নিজের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন তিনি। মানবিক বিবেচনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এককালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়া হলে নতুন করে আশার আলো দেখেন এই মা। নাছিমা বেগম বলেন, “সবকিছু থেমে যাচ্ছিল। মেয়ের বিয়ের দিন সামনে অথচ হাতে টাকা নেই। ডিসি স্যারের সাহায্য না পেলে কীভাবে যে পরিস্থিতি সামলাতাম, কল্পনাও করতে পারি না। একই দিন গণশুনানিতে হাজির হন সাতকানিয়ার মৈশামুড়া এলাকার দিনমজুর মোহাম্মদ ফরিদের পরিবার। একসময় যিনি দিনমজুরের কাজ করে চার সন্তান নিয়ে সংসার চালাতেন, আজ তিনি হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা ও পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে শয্যাশায়ী। ২০২৩ সালের পর থেকে সম্পূর্ণ কর্মক্ষমতা হারিয়ে তিনি পরিবারটির একমাত্র ভরসা থেকে বোঝায় পরিণত হয়েছেন। খালেদা বেগম জানান, আমার স্বামী কিছুই করতে পারে না। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। সন্তানদের নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। ফরিদের কন্যা ইসরাত আরা বলেন, “আব্বার চিকিৎসা চলবে কি না সেই ভয় ছিল। জেলা প্রশাসক স্যারের সহায়তায় আবার বাঁচার আশা পেলাম। তিনি সত্যিই একজন মানবিক মানুষ।
আরও পড়ুন, চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে অস্ত্রসহ আটক ২
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সেদিন শুধু এই দুটি পরিবার নয় চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা আরও অসহায় মানুষ ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের একটি সামাজিক সংগঠনকেও সহায়তা দেওয়া হয়েছে। জনসেবাকে শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, মানবিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করার এই দৃষ্টান্ত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে সাধারণ মানুষের কাছে এক অনন্য আস্থার প্রতীকে পরিণত করেছে। রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হয়েও যিনি মানুষের কষ্টকে নিজের দায়িত্ব বলে মনে করেন তাঁর এই মানবিক উদ্যোগই আজ চট্টগ্রামে আশার নাম হয়ে উঠেছে।

আপনার মতামত লিখুন