নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমানকে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। জানা যায়, মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সামিউল আমিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তাঁকে বদলি করা হয়। এবং বুধবার সকালে ইউএনও মাসুদুর রহমান নিজেই বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে জেলার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুড়া বাজারে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানের ভাই পারভেজসহ কয়েকজন মিলে সরকারি জমি দখল করে ঘর তুলছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা খবর দিলে ইউএনও গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়ে পারভেজকে আটক করেন। এই ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান গিয়ে ইউএনওকে শাসিয়ে বলেন, ‘এখানে কার অনুমতিতে এসেছেন? আমি এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, আমার ইউনিয়নে মোবাইল কোর্ট করতে হলে আমাকে আগে বলতে হবে। বিশেষ সূত্রে জানা যায়, মোবাইল কোর্টে বাধা দেওয়া, ইউএনও প্রশ্ন করেন—‘এটা কোন আইনে আছে?’ তখন চেয়ারম্যান বলেন, ‘এটা ইউনিয়ন পরিষদ আইনে আছে।’চেয়ারম্যানের এমন বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এতে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
এই ঘটনায় পরদিন (১৮ জানুয়ারি) লেংগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এর এক দিন পর মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে কলমাকান্দা উপজেলার ইউএনও মাসুদুর রহমানকে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ইউএনও হিসেবে বদলি করা হয়।
উল্লেখ্য, মাসুদুর রহমান গত ১৪ ডিসেম্বর কলমাকান্দা উপজেলার ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় বাধা, ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্তভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় বাধা, ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন। তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে ইউএনও মাসুদুর রহমানের বদলির আদেশের কপি সংযুক্ত করে এর প্রতিক্রিয়ায় লেখেন, ‘ন্যায় যখন পরাজিত হয় অন্যায় তখন শক্তিশালী হয়ে ওঠে। চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান ইউএনওর কাজে বাধা প্রধান করেন এবং বলেন, তাঁর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে। চেয়ারম্যান স্পষ্টতই আইন লঙ্ঘন করেছেন। এ জন্যই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাঁকে বহিষ্কার করেছে। কিন্তু যে ইউএনও দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন, তাঁকেই আবার এক দিনের ব্যবধানে নেত্রকোনা থেকে পিরোজপুর বদলি করা হয়েছে; অর্থাৎ ন্যায় কাজ করতে গিয়ে শাস্তির সম্মুখীন হয়েছেন।
আরও পড়ুন, নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে মাদরাসা সুপারের অনিয়ম: স্থগিত এডহক কমিটি
মামুন লেখেন, ন্যায় কাজ করতে গিয়ে যদি শাস্তি পেতে হয়, তাহলে তাঁরা ন্যায় কাজ করবেন নাকি অন্যায় কাজ করবেন? এই ইউএনওকে কেন বদলি করা হয়েছে এবং কোন ক্ষমতায় বদলি করা হয়েছে, একজন নাগরিক হিসেবে এর উত্তর জানতে চাই। পাশাপাশি কারা তাঁকে বদলির জন্য সুপারিশ করেছে, সেটিও জানতে চাই। আজকের মধ্যে তাঁকে কলমাকান্দা উপজেলায় বহাল করতে হবে এবং এটা করে রাষ্ট্রকে প্রমাণ করতে হবে রাষ্ট্র ন্যায়বিচারক। তাঁর বদলির বিষয়ে বিএনপির যদি কেউ জড়িত থাকে, সেটিও প্রকাশ করতে হবে। ড. মোহাম্মদ ইউনূস প্লিজ আপনি বিদায় নেন, আপনাকে আর এক মুহূর্তের জন্যও সহ্য করতে পারছি না। রাষ্ট্র পরিচালনায় আপনি অযোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন বারবার। এদিকে এনপিসির কেন্দ্রীয় সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) প্রীতম সোহাগ এই ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে উদ্দেশ করে তিনি লেখেন—‘রাষ্ট্র পরিচালনায় “প্রশাসন এবং রাজনীতি”র এমন অহি-নকুল সম্পর্ক আমরা চাই না। আমলাতন্ত্র আর রাজনৈতিক ক্ষমতার গরম আমরা দেখতে চাই না, আমরা আমলা ও রাজনৈতিক চর্চাকারীদের সম্মানের চোখে দেখতে চাই। আপনি ঘটনাটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা নিন।’ দীর্ঘ পোস্টের শেষে তিনি লেখেন—‘এই অফিসারকে যদি চাকরির নিয়মিত বদলির বাইরে অরাজনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে শাস্তিমূলক বদলি ও চরিত্র হননের চেষ্টা করা হয়ে থাকে, তাহলে এই কাজের সঙ্গে জড়িত উপদেষ্টা, রাজনীতিবিদ, সচিব-আমলাসহ সকলের প্রতি নিন্দা ও ঘৃণা জানিয়ে রাখলাম। সিদ্ধান্ত বদল করার দাবি জানিয়ে রাখলাম।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমানকে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। জানা যায়, মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সামিউল আমিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তাঁকে বদলি করা হয়। এবং বুধবার সকালে ইউএনও মাসুদুর রহমান নিজেই বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে জেলার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুড়া বাজারে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানের ভাই পারভেজসহ কয়েকজন মিলে সরকারি জমি দখল করে ঘর তুলছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা খবর দিলে ইউএনও গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়ে পারভেজকে আটক করেন। এই ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান গিয়ে ইউএনওকে শাসিয়ে বলেন, ‘এখানে কার অনুমতিতে এসেছেন? আমি এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, আমার ইউনিয়নে মোবাইল কোর্ট করতে হলে আমাকে আগে বলতে হবে। বিশেষ সূত্রে জানা যায়, মোবাইল কোর্টে বাধা দেওয়া, ইউএনও প্রশ্ন করেন—‘এটা কোন আইনে আছে?’ তখন চেয়ারম্যান বলেন, ‘এটা ইউনিয়ন পরিষদ আইনে আছে।’চেয়ারম্যানের এমন বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এতে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
এই ঘটনায় পরদিন (১৮ জানুয়ারি) লেংগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এর এক দিন পর মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে কলমাকান্দা উপজেলার ইউএনও মাসুদুর রহমানকে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ইউএনও হিসেবে বদলি করা হয়।
উল্লেখ্য, মাসুদুর রহমান গত ১৪ ডিসেম্বর কলমাকান্দা উপজেলার ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় বাধা, ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্তভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় বাধা, ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন। তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে ইউএনও মাসুদুর রহমানের বদলির আদেশের কপি সংযুক্ত করে এর প্রতিক্রিয়ায় লেখেন, ‘ন্যায় যখন পরাজিত হয় অন্যায় তখন শক্তিশালী হয়ে ওঠে। চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান ইউএনওর কাজে বাধা প্রধান করেন এবং বলেন, তাঁর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে। চেয়ারম্যান স্পষ্টতই আইন লঙ্ঘন করেছেন। এ জন্যই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাঁকে বহিষ্কার করেছে। কিন্তু যে ইউএনও দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন, তাঁকেই আবার এক দিনের ব্যবধানে নেত্রকোনা থেকে পিরোজপুর বদলি করা হয়েছে; অর্থাৎ ন্যায় কাজ করতে গিয়ে শাস্তির সম্মুখীন হয়েছেন।
আরও পড়ুন, নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে মাদরাসা সুপারের অনিয়ম: স্থগিত এডহক কমিটি
মামুন লেখেন, ন্যায় কাজ করতে গিয়ে যদি শাস্তি পেতে হয়, তাহলে তাঁরা ন্যায় কাজ করবেন নাকি অন্যায় কাজ করবেন? এই ইউএনওকে কেন বদলি করা হয়েছে এবং কোন ক্ষমতায় বদলি করা হয়েছে, একজন নাগরিক হিসেবে এর উত্তর জানতে চাই। পাশাপাশি কারা তাঁকে বদলির জন্য সুপারিশ করেছে, সেটিও জানতে চাই। আজকের মধ্যে তাঁকে কলমাকান্দা উপজেলায় বহাল করতে হবে এবং এটা করে রাষ্ট্রকে প্রমাণ করতে হবে রাষ্ট্র ন্যায়বিচারক। তাঁর বদলির বিষয়ে বিএনপির যদি কেউ জড়িত থাকে, সেটিও প্রকাশ করতে হবে। ড. মোহাম্মদ ইউনূস প্লিজ আপনি বিদায় নেন, আপনাকে আর এক মুহূর্তের জন্যও সহ্য করতে পারছি না। রাষ্ট্র পরিচালনায় আপনি অযোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন বারবার। এদিকে এনপিসির কেন্দ্রীয় সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) প্রীতম সোহাগ এই ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে উদ্দেশ করে তিনি লেখেন—‘রাষ্ট্র পরিচালনায় “প্রশাসন এবং রাজনীতি”র এমন অহি-নকুল সম্পর্ক আমরা চাই না। আমলাতন্ত্র আর রাজনৈতিক ক্ষমতার গরম আমরা দেখতে চাই না, আমরা আমলা ও রাজনৈতিক চর্চাকারীদের সম্মানের চোখে দেখতে চাই। আপনি ঘটনাটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা নিন।’ দীর্ঘ পোস্টের শেষে তিনি লেখেন—‘এই অফিসারকে যদি চাকরির নিয়মিত বদলির বাইরে অরাজনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে শাস্তিমূলক বদলি ও চরিত্র হননের চেষ্টা করা হয়ে থাকে, তাহলে এই কাজের সঙ্গে জড়িত উপদেষ্টা, রাজনীতিবিদ, সচিব-আমলাসহ সকলের প্রতি নিন্দা ও ঘৃণা জানিয়ে রাখলাম। সিদ্ধান্ত বদল করার দাবি জানিয়ে রাখলাম।

আপনার মতামত লিখুন