দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

ফোনালাপে তাপস-ইনু ও হাসিনার কথোপকথনে আলোচিত তথ্য

ফোনালাপে তাপস-ইনু ও হাসিনার কথোপকথনে আলোচিত তথ্য
তাপস-ইনু ও হাসিনার কথোপকথন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কামালের বিরুদ্ধে দেওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে এটি প্রকাশ করা হয়। এই রায় উল্লেখ করা হয়, শীর্ষ পর্যায়ের দমন-পীড়ন ও হত্যার পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় সরাসরি সংযুক্ত ছিলেন আসামিরা। যে কারণে আদালত তাদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন।৪৫৭ পৃষ্ঠার এই রায়ে উঠে এসেছে আওয়ামী সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে কীভাবে দমন-পীড়ন ও হত্যার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল তার বিস্তারিত বিবরণ। রায়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র ফজলে নূর তাপস ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে শেখ হাসিনার ফোনালাপের তথ্য উঠে আসে।

আরো পড়ুন , রোজার জন্য চাঁদ দেখা প্রতিবেদনে সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ

রায়ের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এসব কথোপকথনে ড্রোনের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের অবস্থান নির্ণয় এবং হেলিকপ্টার ও মারণাস্ত্র ব্যবহার করে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এরই জেরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুলে ৬ জন আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ। এছাড়া একই দিন সাভারের আশুলিয়ায় ৬ জনকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটে। এই অপরাধগুলোর গুরুত্ব বিবেচনা করে আদালত আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।গত ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড ও আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেন। একই সঙ্গে দেশে থাকা তাদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলায় রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আরো পড়ুন , হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট চ্যালেঞ্জ করলেন বাদী

এদিকে একটি ধারায় আসামিদের আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে সুপ্রিমকোর্টে আপিল করেছে প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনালের রায়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা ৫টি অভিযোগের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট দুটি অপরাধের অধীনে মোট ৬টি ‘কাউন্ট’ বা ঘটনার উল্লেখ করেছেন আদালত। এর এক নম্বর অভিযোগে তিনটি ঘটনার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এতে দেখা যায়, প্রথমত, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনের সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ বলে শেখ হাসিনার দেওয়া উসকানিমূলক বক্তব্য।অধস্তনদের এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আসামিরা কোনো বাধা দেননি। তৃতীয়ত, এসব উসকানি ও নির্দেশের ধারাবাহিকতায় রংপুরে আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই অপরাধগুলোর জন্য শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দুই নম্বর অভিযোগেও তিনটি ঘটনার বর্ণনা দেন ট্রাইব্যুনাল।

বিষয় : আলোচিত ফোনালাপ অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


ফোনালাপে তাপস-ইনু ও হাসিনার কথোপকথনে আলোচিত তথ্য

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কামালের বিরুদ্ধে দেওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে এটি প্রকাশ করা হয়। এই রায় উল্লেখ করা হয়, শীর্ষ পর্যায়ের দমন-পীড়ন ও হত্যার পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় সরাসরি সংযুক্ত ছিলেন আসামিরা। যে কারণে আদালত তাদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন।৪৫৭ পৃষ্ঠার এই রায়ে উঠে এসেছে আওয়ামী সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে কীভাবে দমন-পীড়ন ও হত্যার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল তার বিস্তারিত বিবরণ। রায়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র ফজলে নূর তাপস ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে শেখ হাসিনার ফোনালাপের তথ্য উঠে আসে।

আরো পড়ুন , রোজার জন্য চাঁদ দেখা প্রতিবেদনে সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ

রায়ের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এসব কথোপকথনে ড্রোনের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের অবস্থান নির্ণয় এবং হেলিকপ্টার ও মারণাস্ত্র ব্যবহার করে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এরই জেরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুলে ৬ জন আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ। এছাড়া একই দিন সাভারের আশুলিয়ায় ৬ জনকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটে। এই অপরাধগুলোর গুরুত্ব বিবেচনা করে আদালত আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।গত ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড ও আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেন। একই সঙ্গে দেশে থাকা তাদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলায় রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আরো পড়ুন , হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট চ্যালেঞ্জ করলেন বাদী

এদিকে একটি ধারায় আসামিদের আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে সুপ্রিমকোর্টে আপিল করেছে প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনালের রায়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা ৫টি অভিযোগের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট দুটি অপরাধের অধীনে মোট ৬টি ‘কাউন্ট’ বা ঘটনার উল্লেখ করেছেন আদালত। এর এক নম্বর অভিযোগে তিনটি ঘটনার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এতে দেখা যায়, প্রথমত, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনের সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ বলে শেখ হাসিনার দেওয়া উসকানিমূলক বক্তব্য।অধস্তনদের এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আসামিরা কোনো বাধা দেননি। তৃতীয়ত, এসব উসকানি ও নির্দেশের ধারাবাহিকতায় রংপুরে আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই অপরাধগুলোর জন্য শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দুই নম্বর অভিযোগেও তিনটি ঘটনার বর্ণনা দেন ট্রাইব্যুনাল।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত