দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মাথার পাশে ফোন রেখে ঘুমানো কি ঝুঁকিপূর্ণ? জেনে নিন বিপদ

মাথার পাশে ফোন রেখে ঘুমানো কি ঝুঁকিপূর্ণ? জেনে নিন বিপদ

আজকের ডিজিটাল যুগে ফোন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে অনেকেই অবচেতনভাবে রাতের ঘুমের সময় ফোন মাথার পাশে রেখে ঘুমান। এটি শুধুই অভ্যাস নয়, বরং স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক প্রভাব ফেলতে পারে।

১. ঘুমের মানে কমে যায়
মোবাইলের ব্লু লাইট বা নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদন কমিয়ে দেয়, যা ঘুমের চক্রে ব্যাঘাত ঘটায়। ফলে গভীর ঘুম হয় না, ঘুম হালকা ও ব্যাঘাতপূর্ণ হয়।

২. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বাড়ায়
ফোন পাশে রাখলে বার্তা, নোটিফিকেশন বা কলের চাপ মানসিকভাবে আপনার মস্তিষ্ককে বিরক্ত করে। এর ফলে ঘুমের আগে মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায় এবং রাতের ঘুমে শান্তি আসে না।

৩. বিকিরণ সমস্যার সম্ভাবনা
মোবাইল ফোন থেকে নির্গত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি (RF) বিকিরণ দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য সমস্যা, যেমন মাথা ব্যথা, চোখের ক্লান্তি এবং সম্ভাব্য স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি ঘটাতে পারে। যদিও সরাসরি প্রমাণ এখনও সীমিত, তবে সতর্কতা নেওয়াই শ্রেয়।

৪. ঘুম ভাঙা ও অল্প ঘুমের অভ্যাস
রাতের বেলা ফোন ব্যবহার করলে ঘুমের চক্র ভেঙে যায়। ফোনে সোশ্যাল মিডিয়া বা ভিডিও দেখার সময় ঘুমের সময় কমে যায়, যার ফলে পরবর্তী দিন ক্লান্তি, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে।

৫. নিরাপত্তা ঝুঁকি
ফোন পাশে রাখলে কখনো কখনো অতিরিক্ত চার্জ বা ব্যাটারি সমস্যা হতে পারে, যা আগুনের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন:  রাতে ভালো ঘুমের জন্য তিনটি অভ্যাস বন্ধ করা জরুরি

পরামর্শ:

ঘুমের আগে অন্তত ৩০ মিনিট ফোন ব্যবহার কমিয়ে দিন।
ফোনটি অন্য কক্ষে রাখুন বা ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ মোডে রাখুন।
ঘুমের পরিবেশে শান্তি বজায় রাখতে অন্ধকার ও ঠান্ডা পরিবেশ নিশ্চিত করুন।


মাথার পাশে ফোন রেখে ঘুমানো অভ্যাস স্বল্পমেয়াদে সুবিধা লাগতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি ঘুমের মান, মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর। তাই স্বাস্থ্যসম্মত ঘুমের জন্য ফোন আলাদা স্থানে রাখাই শ্রেয়।

বিষয় : ঘুম মোবাইলফোন স্বাস্থ্যঝুঁকি

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


মাথার পাশে ফোন রেখে ঘুমানো কি ঝুঁকিপূর্ণ? জেনে নিন বিপদ

প্রকাশের তারিখ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

আজকের ডিজিটাল যুগে ফোন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে অনেকেই অবচেতনভাবে রাতের ঘুমের সময় ফোন মাথার পাশে রেখে ঘুমান। এটি শুধুই অভ্যাস নয়, বরং স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক প্রভাব ফেলতে পারে।

১. ঘুমের মানে কমে যায়
মোবাইলের ব্লু লাইট বা নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদন কমিয়ে দেয়, যা ঘুমের চক্রে ব্যাঘাত ঘটায়। ফলে গভীর ঘুম হয় না, ঘুম হালকা ও ব্যাঘাতপূর্ণ হয়।

২. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বাড়ায়
ফোন পাশে রাখলে বার্তা, নোটিফিকেশন বা কলের চাপ মানসিকভাবে আপনার মস্তিষ্ককে বিরক্ত করে। এর ফলে ঘুমের আগে মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায় এবং রাতের ঘুমে শান্তি আসে না।

৩. বিকিরণ সমস্যার সম্ভাবনা
মোবাইল ফোন থেকে নির্গত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি (RF) বিকিরণ দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য সমস্যা, যেমন মাথা ব্যথা, চোখের ক্লান্তি এবং সম্ভাব্য স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি ঘটাতে পারে। যদিও সরাসরি প্রমাণ এখনও সীমিত, তবে সতর্কতা নেওয়াই শ্রেয়।

৪. ঘুম ভাঙা ও অল্প ঘুমের অভ্যাস
রাতের বেলা ফোন ব্যবহার করলে ঘুমের চক্র ভেঙে যায়। ফোনে সোশ্যাল মিডিয়া বা ভিডিও দেখার সময় ঘুমের সময় কমে যায়, যার ফলে পরবর্তী দিন ক্লান্তি, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে।

৫. নিরাপত্তা ঝুঁকি
ফোন পাশে রাখলে কখনো কখনো অতিরিক্ত চার্জ বা ব্যাটারি সমস্যা হতে পারে, যা আগুনের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন:  রাতে ভালো ঘুমের জন্য তিনটি অভ্যাস বন্ধ করা জরুরি

পরামর্শ:

ঘুমের আগে অন্তত ৩০ মিনিট ফোন ব্যবহার কমিয়ে দিন।
ফোনটি অন্য কক্ষে রাখুন বা ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ মোডে রাখুন।
ঘুমের পরিবেশে শান্তি বজায় রাখতে অন্ধকার ও ঠান্ডা পরিবেশ নিশ্চিত করুন।


মাথার পাশে ফোন রেখে ঘুমানো অভ্যাস স্বল্পমেয়াদে সুবিধা লাগতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি ঘুমের মান, মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর। তাই স্বাস্থ্যসম্মত ঘুমের জন্য ফোন আলাদা স্থানে রাখাই শ্রেয়।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত