ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামিকে আট দিনেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত প্রধান আসামির মা-বাবাসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, মামলার প্রধান আসামি হিসেবে চিহ্নিত ‘শ্যুটারকে’ গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং অন্যদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। ডিবি সূত্র জানিয়েছে, গুলির ঘটনায় করা মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে ফয়সাল করিম নামের এক সন্ত্রাসী জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনিই মামলার প্রধান আসামি। হাদিকে গুলি করার পরপরই তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী আলমগীরকে নিয়ে বিদেশে পালিয়ে গেছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি যাচাই করছেন গোয়েন্দারা।
এদিকে হাদিকে হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে ভারতে পালাতে সহযোগিতা করার অভিযোগে ‘সিবিউন দিউ’ ও ‘সঞ্জয় চিসিম’ নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
আরও পড়ুন: লাল-সবুজের পতাকায় মোড়ানো ছয় কফিন ঢাকায় আসছে আজ
ডিবির তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তথ্য-প্রযুক্তি বিশ্লেষণ এবং গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে অস্ত্রের সন্ধান এবং সন্দেহভাজন প্রধান আসামি ফয়সালের অপরাধজগতের নেটওয়ার্কের চিত্র। অস্ত্রসংক্রান্ত তথ্য জানতে ফয়সালের বাবা হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু এবং বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
আপনার মতামত লিখুন