ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবিচল সংগ্রামের প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে হাদির মৃত্যুতে এক শোকবার্তায় এ মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক ও মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এক যৌথ বিবৃতিতে গভীর শোক, সীমাহীন ক্রোধ এবং দৃঢ় অঙ্গীকারের সঙ্গে ঘোষণা করেছেন, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শহীদ শরীফ উসমান হাদী শাহাদাত বরণ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি কেবল ইন্তেকাল করেননি, তিনি রক্ত দিয়ে ইতিহাস লিখে গেছেন।
বিবৃতিতে তারাঁ বলেন, ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণআন্দোলনের পরাজিত শক্তির বিরুদ্ধে যে কয়েকজন নির্ভীক কণ্ঠ বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিল, শহীদ হাদি ছিলেন তাদের অগ্রসারিতে। ভারতীয় আধিপত্যবাদ, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ এবং তাদের দেশীয় বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক দালালদের বিরুদ্ধে তার কণ্ঠ ছিল বজ্রনিনাদ, যা শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত থেমে থাকেনি।
নেতারা আরো বলেন, হাদির ওপর হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি ২৪-এর পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের সরাসরি প্রতিশোধ।
এই হত্যা প্রমাণ করে, ফ্যাসিবাদ পরাজিত হলেও নির্মূল হয়নি। তারা আজও রাষ্ট্রের ভেতরে ও বাইরে আশ্রয় নিয়ে জনতার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চায়।
তারা আরো বলেন, আজ আমরা লজ্জিত, ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত। এই রাষ্ট্র হাদিকে বাঁচাতে পারেনি।
আমরা একজন সাহসী সন্তানকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছি। কিন্তু ইতিহাসের কাঠগড়ায় হাদী ব্যর্থ নন। ব্যর্থ এই রাষ্ট্র, ব্যর্থ সেই প্রশাসন, যারা হাদির মতো সংগ্রামী কণ্ঠগুলোর নিরাপত্তা দিতে পারেনি।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আজ ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও তার দেশীয় দালালরা হাদীর শাহাদাতে উল্লাস করছে। কিন্তু একই সঙ্গে আজ গোটা বাংলাদেশ অশ্রুসিক্ত।
আরও পড়ুন: হাদিকে আল্লাহ জান্নাতের মেহমান বানান: আজহারী ও আহমাদুল্লাহর শোকবার্তা
মায়ের চোখে অশ্রু, যুবকের বুকে আগুন, জনতার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ। শহীদ হাদি কোনো ব্যক্তি ছিলেন না। তিনি ছিলেন একটি চেতনার নাম, একটি বিদ্রোহের নাম, একটি অপ্রতিরোধ্য প্রতিরোধের নাম।
আপনার মতামত লিখুন