দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

বিনিয়োগ, রপ্তানি ও এলডিসি উত্তরণে সরকারের বড় পরিকল্পনা

সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে ধারাবাহিকভাবে ৮ দশমিক ৫ থেকে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে।বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সরকার মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি আরও জোরদার করছে।তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে বড় অবকাঠামো প্রকল্পের পরিবর্তে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও মানবসম্পদে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন, পরিবহন ও লজিস্টিক ব্যয় কমানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো, কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সময় কমানো এবং কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ চলছে।গ্যাস সংকট মোকাবিলায় নতুন ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ ইউনিট স্থাপনের মাধ্যমে প্রতিদিন অতিরিক্ত ৫৫০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনার কথাও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।ব্যবসা সহজীকরণে শিগগিরই সম্পূর্ণ অনলাইনে ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া যাবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি। একই সঙ্গে কোম্পানি নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স ও আমদানি-রপ্তানি নিবন্ধন একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার কাজ চলছে।তিনি আরও বলেন, চামড়া ও পাট শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিতে সরকার সমন্বিত সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, যা ভবিষ্যতে রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে সহায়ক হবে।সরকার মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, রপ্তানিমুখী শিল্পকে শক্তিশালী করা এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি আরও সুসংহত করতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবিত বাজেটের ভূয়সী আরো পড়ুন , পুলিশে নতুন নেতৃত্ব, একযোগে ২১ কর্মকর্তার পদায়নপ্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই বাজেট তাঁর প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি ইতিবাচক।মন্ত্রী জানান, সরকার আগামী অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো এবং সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি অপরিহার্য।মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার শুধু মুদ্রানীতির ওপর নির্ভর না করে উৎপাদন, পরিবহন ও লজিস্টিক ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সময় কমানো এবং কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজ করার কাজও চলছে।গ্যাস সংকট নিরসনে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ ইউনিট স্থাপনের মাধ্যমে প্রতিদিন ৫৫০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।ব্যবসা সহজীকরণে সরকার বিভিন্ন সেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একীভূত করছে। খুব শিগগিরই কোনো সরকারি অফিসে না গিয়ে অনলাইনে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করা যাবে বলেও জানান মন্ত্রী।চামড়া শিল্পকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার সাভারের সিইটিপি উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফিকেশন অর্জনের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে ভবিষ্যতে চামড়া রপ্তানি ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।এ ছাড়া পাট শিল্পে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, বহুমুখী পণ্য উদ্ভাবন এবং চীনের সঙ্গে যৌথ গবেষণাগার স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

বিনিয়োগ, রপ্তানি ও এলডিসি উত্তরণে সরকারের বড় পরিকল্পনা