কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা মনিরামপুরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে
যশোরের মনিরামপুরে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে হলুদ চাষ। কম খরচে অধিক লাভ, সহজ পরিচর্যা এবং পতিত জমিতেও সফলভাবে আবাদ করা সম্ভব হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে এ মসলাজাতীয় ফসলের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতি বছরই বাড়ছে হলুদের আবাদ। এতে কৃষকের আয় যেমন বাড়ছে, তেমনি কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতেও যোগ হচ্ছে নতুন সম্ভাবনার আলো।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মনিরামপুরে অন্তত ১০০ হেক্টর জমিতে হলুদের আবাদ করা হয়েছে। উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাজুড়ে কমবেশি হলুদের চাষ হলেও অপেক্ষাকৃত উঁচু জমি থাকায় পশ্চিমাঞ্চলে এর আবাদ বেশি দেখা যায়।কৃষি প্রধান জনপদ হিসেবে পরিচিত মনিরামপুরে ধান, পাট ও বিভিন্ন সবজির পাশাপাশি মসলাজাতীয় ফসলের আবাদও ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে। বিশেষ করে পতিত ও অনাবাদি জমিকে উৎপাদনের আওতায় এনে কৃষকরা এখন হলুদ চাষে ঝুঁকছেন। বাজারে ভালো দাম, দীর্ঘদিন সংরক্ষণের সুবিধা এবং তুলনামূলক কম উৎপাদন ব্যয় কৃষকদের এ ফসলের প্রতি আরও বেশি আগ্রহী করে তুলেছে।এ উপজেলার পৌরসভার তাহেরপুর গ্রামের কৃষক খলিলুর রহমান এখন এলাকার সফল ও আদর্শ চাষি হিসেবে পরিচিত। একসময় সীমিত পরিসরে কৃষিকাজ করলেও বর্তমানে তিনি বাণিজ্যিকভাবে ২৬ ধরনের ফল, ফসল ও সবজির আবাদ করছেন। অসময়ে তরমুজ উৎপাদন করে তিনি দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছেন এবং কৃষিতে বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননাও অর্জন করেছেন।চলতি মৌসুমে তিনি প্রায় ১০ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে হলুদের আবাদ করেছেন।খলিলুর রহমান বলেন, "কৃষিই আমার ভালোবাসা। কৃষিকে শুধু পেশা নয়, আমি সম্ভাবনার একটি শিল্প মনে করি। কৃষি অফিসের নিয়মিত পরামর্শ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নিজের অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে আমি প্রতিটি ফসলের আবাদ করি। হলুদ এমন একটি লাভজনক ফসল, যা পতিত জমিতেও ভালো ফলন দেয়।আরও পড়ুন, আজকের দিনে নারীরা সব থেকে বেশি এগিয়ে : গাজীপুরের ডিসি প্রতি বিঘায় জমি লিজ, প্রস্তুত, বীজ, সার, পরিচর্যা ও ফসল সংগ্রহ মিলিয়ে প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ হবে। তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ঠিক থাকলে প্রতি বিঘায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভের আশা করছি। কৃষিকে ঘিরে যদি পরিকল্পনা ও আন্তরিকতা থাকে, তাহলে তরুণদের জন্য এখানেই রয়েছে আত্মকর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ।"মনিরামপুর পৌরসভার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, "হলুদ একটি অর্থকরী ও সম্ভাবনাময় মসলাজাতীয় ফসল। এ ফসলের উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক কম, রোগবালাইও কম হয় এবং বাজারে সারাবছরই এর চাহিদা থাকে। সঠিক জাত নির্বাচন, উন্নত বীজ, সময়মতো আগাছা দমন, সুষম সার প্রয়োগ ও পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। বর্তমানে কৃষি বিভাগের পরামর্শে অনেক কৃষক বাণিজ্যিকভাবে হলুদের আবাদ করছেন। খলিলুর রহমান তার অন্যতম সফল উদাহরণ। তিনি নিজের সাফল্যের মাধ্যমে এলাকার বহু তরুণকে কৃষিমুখী করেছেন। ইতোমধ্যে তার অনুপ্রেরণায় অন্তত ২০ জন যুবক কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের পথ তৈরি করেছেন।"মনিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বীথি বলেন, অন্যান্য ফসলের তুলনায় হলুদ চাষে উৎপাদন ব্যয় কম, পতিত জমিতেও সহজে আবাদ করা যায় এবং বাজারে এর চাহিদা ও মূল্য ভালো থাকায় কৃষকদের আগ্রহ প্রতিবছরই বাড়ছে। কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ফলে উপজেলার হলুদ চাষের পরিধি ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে। খলিলুর রহমানের মতো আদর্শ কৃষকরা অন্যদের উদ্বুদ্ধ করছেন। আমরা চাই আরও বেশি কৃষক লাভজনক এই মসলা ফসলের আবাদে এগিয়ে আসুন, যাতে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি উপজেলার কৃষি অর্থনীতিও আরও সমৃদ্ধ হয়।"