পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ৫ নং কাকড়াবুনি ইউনিয়নের দক্ষিণ গাবুয়া গ্রামে একটি সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে| অভিযোগ রয়েছে, জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একদল দুর্বৃত্ত ওই পরিবারের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং বাড়ির মূল্যবান গাছ কেটে নিয়ে যায়| এ সময় বাধা দিতে গেলে পরিবারের মা ও মেয়ের ওপর হামলা চালানো হয়| এতে তারা গুরুতর আহত হন|সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আহত মা ও মেয়েকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখাতে দেখা যায়| ভিডিওতে তারা অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে এবং এখন তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন| তবে ভিডিওতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি| পরিবারটির দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রভাবশালী মহল তাদের জমি দখলের চেষ্টা করে আসছিল| বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি, হুমকি ও চাপ সৃষ্টি করা হলেও তারা নিজ¯^ জমি ছাড়তে রাজি হননি| এরই ধারাবাহিকতায় সংঘবদ্ধভাবে তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়|আরও পড়ুন: রংপুরে জুলাই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর বক্তব্যঅভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা বসতবাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায় এবং বাড়ির বিভিন্ন মূল্যবান গাছ কেটে নিয়ে যায়| এতে পরিবারের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে| পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে মা ও মেয়ের ওপর শারীরিক হামলা চালায়| ভিডিওতে দেখা যায়, আহত নারী তার হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানের আঘাতের চিহ্ন দেখাচ্ছেন| তার দাবি, হামলার সময় তাকে মারধর করা হয়েছে| পাশে থাকা মেয়েও একই ধরনের অভিযোগ করেন|ঘটনার পর থেকে দক্ষিণ গাবুয়া গ্রামের সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন| তাদের মতে, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে| স্থানীয়দের ভাষ্য, বিরোধের জেরে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়| প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হলে এলাকায় শান্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে|আরও পড়ুন: গাজীপুরে লাইসেন্স ছাড়া এমএলএম কার্যক্রমের অভিযোগভুক্তভোগী পরিবারটির দাবি, হামলার পর তারা চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন| বসতবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যয়ও তাদের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে| তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত| পরিবারের সদস্যরা বলেন, তারা কোনো প্রতিশোধ চান না, শুধু ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিচার এবং নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা চান|আহত মা ও মেয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন| তারা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে আর কোনো পরিবার—বিশেষ করে কোনো মা বা বোন এ ধরনের নির্যাতনের শিকার না হন|আরও পড়ুন: লামায় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ১ হাজার বন্যার্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণএ ধরনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা| তারা বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব| প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি| অভিযুক্তদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি| ফলে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি|যদি এ ঘটনায় মামলা হয়ে থাকে, তদন্তের অগ্রগতি এবং প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে| মানবাধিকারকর্মীদের মতে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোনো পরিবারের ওপর হামলা বা সম্পত্তি দখলের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা উচিত| অপরাধী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা প্রয়োজন|