দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

অসহায় প্রশাসন, রামগঞ্জে গভীর রাতে চলে মাটি লুটপাটের উৎসব

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে কিছুতেই ফসলী জমির টপসয়েল লুটপাট থামানো যাচ্ছেনা। দিনের বেলা এড়িয়ে বর্তমানে রাতের অন্ধকারকেই মাটি লোপাটের মোক্ষম সময় হিসেবে বেছে নিয়েছে মাটিখোকো চক্র। চরম উৎসাহে গভীর রাতে এ চক্রটি নিশ্চিন্তে সাবাড় করছে ঘুমন্ত কৃষকের ফসলী জমির মাটি। আর চলমান এমন কর্মকাণ্ডে অসহায় হয়ে পড়েছে রামগঞ্জের প্রশাসন। আরও পড়ুন, সোনারগাঁয়ে ৬০ পিচ ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতারসোমবার সরজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ৯নং ভোলাকোট ইউনিয়নের দেহলা, আথাকরা, আকারতমা, রাজারামপুর, টিওরি, দেবনগর, ৬নং লামচর ইউনিয়নের আজিমপুর, নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বরিগাইশ, শৈরশৈই, কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের হাজিরপাড়া মাঠের যাচ্ছেতাই অবস্থা। পুরো মাঠ জুড়ে গভীর খনাখন্দ। তথ্যানুযায়ী রামগঞ্জে রয়েছে ২২টি ইটভাটা। এসব ভাটার মালিকগণ অর্থের যোগান দিয়ে সক্রিয় রাখছেন মাটিখেকো চক্রদের। চক্রটি ভেকু বসিয়ে নির্দয় ভাবে একেকটি ফসলী জমি ৩০/৪০ ফুট গর্ত খুড়ে মাটি নিয়ে পাচার করছে ভাটা মালিকদের। এসব ভাটা গুলোর আশেপাশে পরিপূর্ণ কোন ফসলী মাঠ নেই বল্লেই চলে। এদের বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ করা যাচ্ছেনা। বিগত আওয়ামী আমলের মতই এরা বর্তমানেও সক্রিয়।আরও পড়ুন, শিক্ষক নেই ক্লাসে, বেতন যাচ্ছে ব্যাংকে: ক্ষোভ শিক্ষার্থী-অভিভাবকদেরএব্যাপারে স্থানীয় সচেতন নাগরিক মোঃ জহিরুল ইসলাম জানান, এভাবে চলতে থাকলে রামগঞ্জ একদিন নদীতে পরিনত হবে। এ নিয়ে ভাটা মালিক মাসুদ পাটোয়ারী জানান, সরকারের পক্ষ থেকে তার ভাটার অনুমতিপত্র রয়েছে। আমরা কি করবো? যাদের অনুমতিসনদ নেই তারাই বুক ফুলিয়ে কাজ করছে বেশি। মক্কা ব্রিক ফিল্ডের মালিক মোঃ মুরাদ জানান, আমি একা নই। সকল ফিল্ডের আশেপাশে একই অবস্থা। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, ফসলী জমির মাটিকাটা রোধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি কয়েকজনের জেল-জরিমানাও হয়েছে। 

অসহায় প্রশাসন, রামগঞ্জে গভীর রাতে চলে মাটি লুটপাটের উৎসব