সদরঘাটে ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কর্মীদের বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনার পর ছাত্রদলের কিছু কর্মী মীমাংসার নামে ৪০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি এবং পরে ২০ হাজার টাকা নেন। এ ঘটনায় ছাত্রদল কর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকদেরই প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল। তার পোস্টে ঘটনার সূত্রপাত হিসেবে বেশি ভাড়ার টাকা নিয়ে বিরোধের কথা বলা হলেও, জানা যায় ওই দিন ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে কোনো যাত্রী ছিল না; লঞ্চটি সদরঘাটে এমনিতেই রাখা ছিল।মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে এক ফেসবুক পোস্টে হিমেল এসব কথা বলেন।এর আগে, লঞ্চে মাদক সেবনের সন্দেহে দুই জবি শিক্ষার্থীকে প্রবেশে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে তাদের সঙ্গে লঞ্চকর্মীদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।ঘটনায় জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সামসুল আরেফিনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সৈকত, কাব্য, ইমন, আসিফ, আলিমুল ও পবন এবং জিয়াউদ্দিন বাসিতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত শের আলীর উপস্থিতি ছিল।আরও পড়ুন,মাদারগঞ্জে ডিও আসার আগেই পূজার চাল কেনার হিড়িক: চাল ব্যবসায়ী শহীদ হাজির বিরুদ্ধে আগাম টাকা দেওয়ার অভিযোগপরে বিষয়টি মীমাংসার নামে লঞ্চ মালিক সমিতির কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরে ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।তবে ফেসবুক পোস্টে হিমেল দাবি করেন, ঘটনাটি মূলত বেশি ভাড়ার দাম নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে লঞ্চকর্মীদের তর্ক থেকে শুরু হয়। তার দাবি, পরে মালিকপক্ষের লোকজন শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করলে আহত এক শিক্ষার্থী তার সহপাঠী ও সিনিয়রদের সহযোগিতা চান। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে থাকা বন্ধুবান্ধব ও সিনিয়ররা তাকে উদ্ধার করতে ঘটনাস্থলে যান এবং মালিকপক্ষ ও টার্মিনাল প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিচারের দাবি জানান।হিমেল আরও দাবি করেন, মালিকপক্ষ পরে বারবার ক্ষমা চেয়ে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয়। আহতদের চিকিৎসা খরচ ও মোবাইলের ক্ষয়ক্ষতির বিষয় বিবেচনায় মালিকপক্ষ মানবিক দিক থেকে কোনো নগদ অর্থ দিয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে সেখানে কী ধরনের সমঝোতা হয়েছে, কত টাকা বা কীভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত অবগত নন বলে দাবি করেন।তবে ঘটনার পর লঞ্চ মালিকপক্ষের সঙ্গে মীমাংসা বৈঠকে ৪০ হাজার টাকা দাবি এবং পরে ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি নিষ্পত্তির তথ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে। লঞ্চে কর্মরত এক ব্যক্তি পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানান, বৈঠকে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল এবং পরে ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়। তবে অর্থ কার হাতে বা কীভাবে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তিনি জানাননি।এদিকে, হিমেলের পোস্টে ঘটনাটি ভাড়ার টাকা নিয়ে শুরু হওয়ার দাবি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আরও পড়ুন,কসবায় ইজিপিপি প্লাস শ্রমিক তালিকা নিয়ে হাতাহাতি-সংঘর্ষ , বিএনপির ৫ নেতা-কর্মী আহত সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে কোনো যাত্রী ছিল না; সেটি সদরঘাটে এমনিতেই রাখা ছিল। ফলে লঞ্চে যাত্রী না থাকলে ভাড়া নিয়ে বিরোধের বিষয়টি কীভাবে ঘটল, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরই ছাত্রদল আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল তার ফেসবুক পোস্টে সাংবাদিকতার বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি কোনো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য না জেনে কিংবা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য যাচাই না করে সেটিকে সরাসরি ‘চাঁদাবাজি’ হিসেবে প্রচার করা কতটা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা সে প্রশ্ন তোলেন।উল্লেখ্য, ঘটনার দিন মীমাংসার সময় তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে বাংলাদেশ বুলেটিনের জবি প্রতিনিধি আকাশ আহমেদ রুপম ও পাবলিক নিউজের জবি প্রতিনিধি এটিএম হাসনাত হাবিবের সঙ্গে উপস্থিত ছাত্রদলকর্মীদের বাগ্বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে তাদের ঘটনাস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।