দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

ভাগ্য নির্ধারণে ১২ কোটি ভোটার, উত্তেজনায় দেশ

নির্বাচন ঘিরে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান হতে যাচ্ছে। দূর হতে যাচ্ছে গণতন্ত্র ফেরানোর অনিশ্চয়তা। রাজনৈতিক মহলের শঙ্কা দূর করে অবশেষে আজ (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। এবারের নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন অনেক পর্যবেক্ষক। ফলে তারা বলছেন, শ্বাসরুদ্ধকর এ ভোটের লড়াইয়ে নির্ধারিত হবে আগামীর বাংলাদেশে নেতৃত্ব কারা দেবেন। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ চূড়ান্ত হবে এই লড়াইয়ে।দেশের ২৯৯টি আসনে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আজ টানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটাররা দুটি ব্যালট পেপারে ভোট দেবেন। একটি সাদা ব্যালট, এটি হবে সংসদ-সদস্য নির্বাচনের ব্যালট। আর গোলাপি ব্যালট হবে গণভোটের। ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটের প্রথম বেসরকারি ফলাফল প্রকাশ করবেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা। তারপর রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পরে ইসি ফলাফল ঘোষণা করবে। শুক্রবার সকালের মধ্যে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আশা করছে ইসি। তবে ভোটগ্রহণ চলাবস্থায় চারবার ভোট পড়ার হারের অগ্রগতি নেবে ইসি।আওয়ামী লীগের আমলে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে পরপর তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের পর দেশে একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচন ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ, উৎসব ও উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি বড় দুদল বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতার শঙ্কাও রয়েছে। আরো পড়ুন , নির্বাচনের জন্য দেশের সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠেদেশের বিভিন্ন স্থানে টাকা উদ্ধার এবং হুমকি-পালটা হুমকি নিয়ে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে রয়েছে উত্তেজনাও। ভোটের আগের দিন বুধবার নির্বাচন কমিশনে (ইসি) এসে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী একে অপরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ করেছে। যদিও ইসি দাবি করেছে, সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মাঠে রয়েছে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৯ লাখ ১৯ হাজার সদস্য।সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আগের দিন বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। বাংলাদেশ টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বার্থে নির্বাচনের ফলাফল বা জয়-পরাজয়কে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়ার অনুরোধ করেন। সিইসি বলেন, ভোটদান আমাদের শুধু নাগরিক অধিকারই নয়; বরং এটি একটি বড় দায়িত্ব। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের প্রতি আমার আহ্বান, শান্তি ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার্থে সবাই দায়িত্বশীল ও যত্নবান হোন। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা উৎসবমুখর পরিবেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে আসুন এবং পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিন। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক পরিণতি হিসাবে জয়-পরাজয়কে মেনে নেওয়ার মানসিকতা রাখুন।নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এবং সাংবাদিকদের নির্বাচনে সহযোগিতার আহ্বান জানান সিইসি। তিনি বলেন, যে কোনো অনভিপ্রেত ঘটনা মোকাবিলায় নির্বাচনি কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটদের সহায়তা করুন। ব্যক্তিগত কষ্ট উপেক্ষা করে জাতীয় এই মহতী কাজকে সার্থক করে তুলতে সবার প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

ভাগ্য নির্ধারণে ১২ কোটি ভোটার, উত্তেজনায় দেশ