দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

নির্বাচন ছিল ‘চুক্তিভিত্তিক ও ভাগাভাগির’: ফয়জুল করীম

রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম দাবি করেছেন, দেশের বিগত নির্বাচন জনগণের ভোটের প্রতিফলন নয়; বরং এটি ছিল একটি চুক্তিনির্ভর ও ভাগাভাগির নির্বাচন।শুক্রবার (১ মে) আয়োজিত ওই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে আগেই সমঝোতা হয়ে গেছে—কারা কতটি আসন পাবে। তার ভাষায়, এতে করে প্রকৃত গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। বর্তমান সংসদীয় ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিরোধী দল নিজেরাই সংসদে দাঁড়িয়ে নিজেদের বিরোধী দল হিসেবে স্বীকার করে না—যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অস্বাভাবিক। তিনি অভিযোগ করেন, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে নির্বাচনে পরাজিত করা হয়েছে।আরও পড়ুন, মে দিবসে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২৫ হাজার টাকার দাবিসমাবেশে বক্তারা সরকারের অর্থনৈতিক নীতিরও সমালোচনা করেন। তাদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার পরিবর্তে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’সহ বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করছে। পাশাপাশি, বিএনপির বিরুদ্ধে নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রতারণা ও ধোঁকাবাজির অভিযোগও তোলা হয়। সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে ফয়জুল করীম বলেন, যদি তারা কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক আইন প্রণয়নের পক্ষে সত্যিই অবস্থান নেয়, তবে সেই আইন পাশ না হলে তাদের সংসদ থেকে ওয়াকআউট করা উচিত।আরও পড়ুন, ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন নিয়ে সমালোচনা এনসিপির আখতার হোসেনেরমুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকার ইস্যুতে চলমান বিতর্ককে ‘হাস্যকর’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে সংসদে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুর পরিবর্তে কে রাজাকার আর কে মুক্তিযোদ্ধা—তা নিয়েই সময় ব্যয় করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতার জন্য নয়, ইসলামের আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতি করে। প্রয়োজন হলে ক্ষমতা ত্যাগ করা যাবে, কিন্তু ইসলাম ত্যাগ করা হবে না। দেশের শ্রমজীবী মানুষকে অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচন ছিল ‘চুক্তিভিত্তিক ও ভাগাভাগির’: ফয়জুল করীম