দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

রংপুর আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসে পরিচালক-উপপরিচালকের বিরুদ্ধে ৪ ঘণ্টায় ৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

রংপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আঞ্চলিক কার্যালয়ে বিদায়ী কর্মদিবসকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, রংপুর অঞ্চলের পরিচালক আমির আলী এবং উপপরিচালক আনোয়ার পারভেজ তাদের শেষ কর্মদিবসের মাত্র চার ঘণ্টায় বিভিন্ন কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও, এরিয়ার বিল এবং নিয়োগ সংক্রান্ত ফাইল অনুমোদনের নামে প্রায় ছয় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।আরও পড়ুন, সাভারে ধর্ষণ ও প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার ১সূত্র জানায়, গত ৩০ এপ্রিল ছিল পরিচালক আমির আলীর চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবস এবং একই দিন বদলিজনিত কারণে উপপরিচালক আনোয়ার পারভেজেরও শেষ কর্মদিবস ছিল। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা বিভিন্ন ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর এমপিও অনুমোদনে নেওয়া হয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা, অফিস সহকারী পদে এমপিও ও নিয়োগে ৫ লাখ টাকা, শিক্ষক নিয়োগ ও এমপিওতে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে, প্যাটার্ন বহির্ভূত নিয়োগ অনুমোদনে ৬ লাখ টাকা, এমনকি জাল সনদধারীদের নিয়োগ বৈধতা দিতেও নেওয়া হয়েছে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত।আরও পড়ুন, হেমন্তে বাঁশের সাঁকো, বর্ষায় নৌকাই ভরসা: জীবনের ঝুঁকি নদী পারাপারভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নির্ধারিত ঘুষের টাকা পরিশোধ না করলে ফাইল আটকে রাখা হতো কিংবা নানা অজুহাতে ফেরত দেওয়া হতো। তবে শেষ কর্মদিবসে ুশেষ সুযোগ” দেখিয়ে একের পর এক ফাইল অনুমোদন দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষা অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় শিক্ষা প্রশাসনে দুর্নীতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।আরও পড়ুন, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দালাল বলে আখ্যায়িত করায় মহেশপুরে ফারিয়ার প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিততবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক সমাজ ও সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা অবিলম্বে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব ও সংশ্লিষ্ট ফাইল যাচাই করার আহ্বানও জানানো হয়েছে। স্থানীয় শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এমন অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব নয়। তারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

রংপুর আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসে পরিচালক-উপপরিচালকের বিরুদ্ধে ৪ ঘণ্টায় ৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ