ভাঙনের মুখে ১৪ সদস্যের পরিবার, আখালিয়া নদী গিলে খাচ্ছে পৈত্রিক ভিটা
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গৌরীপুর গ্রামে ঘেঁষে বয়ে যাওয়া আখালিয়া নদীর তীর এখন আতঙ্কের আরেক নাম নদীভাঙন। বর্ষার প্রতিটি বৃষ্টি, নদীর প্রতিটি ঢেউ আর তীব্র স্রোত যেন একটু একটু করে গিলে খাচ্ছে রহিমের বহু বছরের কষ্টে গড়ে তোলা বসতভিটা। সেই ভাঙনের নির্মম শিকার কৃষক আব্দুল রহিমের পরিবার। ইতোমধ্যে তাদের বসতভিটার প্রায় অর্ধেক নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অবশিষ্ট অংশটুকুও এখন যে কোনো সময় নদীতে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির অভিযোগ, সম্প্রতি খাল খননের সময় উত্তোলিত মাটি দিয়ে নদীতীরে নতুন বাঁধ নির্মাণ করা হয়। সেই বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও যথাযথ প্রকৌশলগত ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা শুরু হতেই নদীর স্রোত তীব্র আকার ধারণ করে এবং ভাঙন দ্রুত বিস্তার করে। ফলে তাদের বসতবাড়ি এখন চরম হুমকির মুখে।ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল রহিম বলেন“আমার ছয় ছেলে মেয়ে, নাত-নাতনিসহ ১৪ সদস্যের সংসার। কয়েক যুগ ধরে এই পৈত্রিক বাড়িতে বসবাস করছি। খাল খননের সময় আমরা বাড়ি রক্ষার কথা বলেছিলাম। কিন্তু কেউ গুরুত্ব দেয়নি। এখন চোখের সামনে ভিটেমাটি নদীতে চলে যাচ্ছে। আরও পড়ুন, রায়গঞ্জে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ নিহত ১পরিবারের বড় ছেলে খোকা বলেন, “জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে এই বাড়ি করেছি। এখন প্রতিদিন ভাঙন দেখছি, কিন্তু কিছুই করতে পারছি না। মনে হচ্ছে, যে কোনো মুহূর্তে আমাদের শেষ আশ্রয়টুকুও এই নদী গিলে ফেলবে।”পরিবারটির দাবি, খাল খননের সময় সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের একাধিকবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আজ সেই অবহেলার ফলই তাদের বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও ভয়াবহ পড়বে এই পরিবার। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে আরো ভয়াবহ মুখোমুখি হবে বলে আশঙ্কা তাদের।এলাকাবাসীর দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দ্রুত পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলা, নদীতীর সংরক্ষণ, টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে খাল খননকাজে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তারা।একটি বসতভিটা শুধু একটি ঘর নয়, এটি একটি পরিবারের স্মৃতি, নিরাপত্তা, পরিচয় এবং ভবিষ্যতের প্রতীক। সেই আশ্রয় যখন নদীর গর্ভে হারিয়ে যেতে থাকে, তখন শুধু মাটি ভাঙে না ভেঙে যায় মানুষের স্বপ্ন, নিরাপত্তাবোধ ও বেঁচে থাকার ভরসাও।এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে রহিমের পরিবারের শেষ আশ্রয়টুকু রক্ষা করতে।