দেশে কিশোর অপরাধের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আইন কমিশন। কমিশনের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুরাই হত্যা, ধর্ষণসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে বেশি জড়িয়ে পড়ছে।এই গবেষণা পরিচালনার জন্য আইন কমিশনের দল গাজীপুরের টঙ্গী এবং যশোরের পুলেরহাটে অবস্থিত দুটি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র পরিদর্শন করে।তথ্য অনুযায়ী, এই দুটি কেন্দ্রে মোট ৮৭৩ জন শিশু অবস্থান করছিল। এর মধ্যে ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা ছিল ৩৯৩ জন, যা সর্বাধিক।গবেষণায় আরও দেখা যায়, টঙ্গী কেন্দ্রের ধারণক্ষমতা ৩০০ হলেও সেখানে ৫৭৮ জন শিশু অবস্থান করছে। অন্যদিকে পুলেরহাট কেন্দ্রে ধারণক্ষমতা ৩০০ হলেও অবস্থান করছে ২৯৫ জন। ফলে কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।আরো পড়ুন , দেশজুড়ে চোরাই তেলের সাম্রাজ্য: সিন্ডিকেটের দাপটে হাজার কোটি টাকার লোপাট!আইন কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত বিভিন্ন সেমিনারে বিচারক, পাবলিক প্রসিকিউটর, আইনজীবী, পুলিশ, সমাজকর্মীসহ ১৫৪ জন অংশগ্রহণকারী মতামত দেন। এর মধ্যে ৯৪ শতাংশই শিশু আইনে নির্ধারিত ১৮ বছর বয়সসীমা পরিবর্তনের পক্ষে মত দেন।অংশীজনদের মতে, বর্তমান শিশু আইনে বেশ কিছু অসঙ্গতি রয়েছে, যা দ্রুত সংশোধন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অপরাধে জড়িয়ে পড়া শিশুদের পুনর্বাসন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সমাজে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হতে পারে। তাই কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন তারা।