রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-কে অপসারণ করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, এই রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে থাকার বা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৫তম দিনে জাতীয় সংসদ-এ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শোনেননি বা পড়েননি এবং সেই বক্তব্য ও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার ভাষায়, রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও গ্রেপ্তার প্রয়োজন এবং তার আর বঙ্গভবনে থাকার অধিকার নেই। রাষ্ট্রপতির অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার থাকাকালে তাকে নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান-এর বিরুদ্ধে মামলার নিষ্পত্তি এবং রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।আরও পড়ুন, সুস্থতার পথে মির্জা আব্বাস, শিগগিরই দেশে ফেরার আশাতিনি আরও অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতি ফরমায়েশি রায় দিয়েছেন, ইসলামী ব্যাংক লুণ্ঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলীতেও তার ভূমিকা রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি রাষ্ট্রপতিকে “দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ ও মিথ্যুক” আখ্যা দিয়ে তাকে প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন। একই আলোচনায় নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দীর্ঘদিন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র সঙ্গে রাজনীতি করেছে। তিনি মন্তব্য করেন, “সঙ্গে থাকলে সঙ্গী, না থাকলে জঙ্গি”—এই ধরনের রাজনৈতিক বিভাজন নিরসনে বড় দলগুলোর দায়িত্ব ছিল।আরও পড়ুন, গণভোট ইস্যুতে উত্তপ্ত রাজনীতি : ৭ বিভাগে সমাবেশের ঘোষণা ১১ দলীয় জোটেরতিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও সংসদে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ বিভাজন থাকা কাম্য নয়। মুক্তিযুদ্ধকে জাতির ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বিষয় নিয়ে বিতর্কের সুযোগ নেই। তবে মুক্তিযুদ্ধের নামে অপব্যবহার বা ফ্যাসিবাদ কায়েমের অভিযোগও বিবেচনায় নিতে হবে। শেষে তিনি সবাইকে অতীতের বিতর্ক পেছনে ফেলে জাতীয় ঐক্যের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং বিভাজনমূলক রাজনীতি পরিহারের ওপর জোর দেন।