দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

বদলগাছীতে হাত-পা-মুখ বেঁধে ক্যানেলে ফেলে হত্যাচেষ্টা, জীবিত উদ্ধার মর্তুজা

বদলগাছীতে হাত-পা-মুখ বেঁধে ক্যানেলে ফেলে হত্যাচেষ্টা, জীবিত উদ্ধার মর্তুজা

ফুলবাড়ীতে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিলে হামলার অভিযোগ, আহত ১০

ফুলবাড়ীতে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিলে হামলার অভিযোগ, আহত ১০

মাদারগঞ্জে বিএসটিআই অনুমোদনহীন কেমিক্যালযুক্ত শিশুখাদ্যে বাজার সয়লাব: ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

মাদারগঞ্জে বিএসটিআই অনুমোদনহীন কেমিক্যালযুক্ত শিশুখাদ্যে বাজার সয়লাব: ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

চকরিয়ায় অসহায়ের  পাশে -  জননেতা  আব্দুল্লাহ আল ফারুক

চকরিয়ায় অসহায়ের পাশে - জননেতা আব্দুল্লাহ আল ফারুক

সিরাজগঞ্জে শতবর্ষী কড়ই গাছের ঝুঁকিপূর্ণ শুকনো ডাল অপসারণ, স্বস্তি পথচারীদের

সিরাজগঞ্জে শতবর্ষী কড়ই গাছের ঝুঁকিপূর্ণ শুকনো ডাল অপসারণ, স্বস্তি পথচারীদের

বিশেষ অভিযানে অস্ত্র মামলার আসামিসহ ৪ জন গ্রেফতার, আদালতে প্রেরণ

বিশেষ অভিযানে অস্ত্র মামলার আসামিসহ ৪ জন গ্রেফতার, আদালতে প্রেরণ

‘অসময়ের বন্ধু’র উদ্যোগে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, মেধাবীদের হাতে সম্মাননা

‘অসময়ের বন্ধু’র উদ্যোগে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, মেধাবীদের হাতে সম্মাননা

মাদারীপুরের কালকিনি ও ডাসারে দুইটি পরিবারে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেন - এমপি খোকন  তালুকদার

মাদারীপুরের কালকিনি ও ডাসারে দুইটি পরিবারে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেন - এমপি খোকন তালুকদার

মাতামুহুরীর দুই রাবার ড্যাম সচল: চকরিয়া - পেকুয়ায় বোরো চাষে নতুন আশা

মাতামুহুরীর দুই রাবার ড্যাম সচল: চকরিয়া - পেকুয়ায় বোরো চাষে নতুন আশা
মাতামুহুরীর দুই রাবার ড্যাম সচল

চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার কয়েক লাখ  কৃষকের মুখে এখন চওড়া হাসি। অবশেষে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী নদীতে স্থাপিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দুটি রাবার ড্যামই সফলভাবে ফুলিয়ে সচল করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে চিরিঙ্গা ইউনিয়নের পালাকাটা-রামপুর এবং কোনাখালী ইউনিয়নের বাঘগুজারা পয়েন্টের ড্যাম দুটি সচল হওয়ায় নদীতে মিঠাপানির প্রবাহ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার প্রায় ৬০ হাজার একর জমিতে চলতি মৌসুমের বোরো ধান ও রকমারি সবজি চাষ নিয়ে কৃষকদের দীর্ঘদিনের শঙ্কা ও আতঙ্ক কেটে গেছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের গোড়াপত্তন হয়েছিল স্বাধীনতার পরপরই। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চকরিয়া উপজেলাকে ‘সবুজ বিপ্লবের’ আওতায় আনতে এবং কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে মাতামুহুরী নদীর মিঠাপানি ধরে রাখার উদ্যোগ নেন। তখন থেকেই প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে নদীর বাঘগুজারা ও রামপুর-পালাকাটা পয়েন্টে অস্থায়ী মাটির ‘ক্রসবাঁধ’ নির্মাণ করা হতো। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের মাধ্যমে ২০০৭ সাল পর্যন্ত এই পদ্ধতি বজায় রেখে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার চাষাবাদ নিশ্চিত করে আসছিল।

আরও পড়ুন, মহেশপুরে মোটর সাইকেলের চাকায় ওড়না পেচিয়ে নারীর মৃত্যু

পরবর্তীতে অস্থায়ী বাঁধের নানা জটিলতা নিরসনে ২০০৯ সালে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ‘মাতামুহুরী সেচ প্রকল্পের (২য় পর্যায়)’ আওতায় প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ীভাবে দুটি রাবার ড্যাম নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করে। এরপর থেকে প্রতি বছর যান্ত্রিক এই ড্যাম ফুলিয়ে চাষাবাদের জন্য পানি ধরে রাখা হয়। এবারের ড্যাম সচল করার প্রক্রিয়াটি বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। পাউবোর চকরিয়া উপজেলার শাখা কর্মকর্তা ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আতিকুর রহমান জানান, গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে পালাকাটা-রামপুর পয়েন্টের রাবার ড্যামটি ফুলানোর কাজ শুরু হয় এবং ২২ ডিসেম্বর তা সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে, পলিমাটি চাপা পড়ে প্রায় অচল হয়ে পড়া বাঘগুজারা পয়েন্টের রাবার ড্যামটি ১৮ ডিসেম্বর থেকে সচল করার কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সর্বশেষ ২৪ ডিসেম্বর এটি সফলভাবে ফুলিয়ে তোলা সম্ভব হয়। বর্তমানে ড্যাম দুটি সচল থাকায় মাতামুহুরীর প্রধান শাখাগুলোতেও মিঠাপানির প্রবাহ পৌঁছেছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ শাহীন দেলোয়ার নিজেই মাঠ পর্যায়ে রাবার ড্যাম দুটির তদারকি করেছেন। তিনি জানান, পলিমাটি জমে বাঘগুজারা রাবার ড্যামটি অচল হয়ে পড়ায় কৃষকরা শঙ্কিত ছিলেন। খবর পেয়ে আমি দ্রুত পরিদর্শনে যাই এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করি। পাউবো কর্মকর্তারা জরুরি ভিত্তিতে কাজ শেষ করায় এখন কৃষকদের মাঝে তৈরি হওয়া বিপদ কেটে গেছে।

আরও পড়ুন, চকরিয়ায় এমপি প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল আব্দুল আল ফারুকের

​চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ ফেরদৌসী বলেন, যথাসময়ে রাবার ড্যাম দুটি সচল হওয়ায় সেচ পাম্পের (স্কিম) মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত হবে। এতে শুধু বোরো ধান নয়, বিভিন্ন শীতকালীন সবজি চাষেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। কক্সবাজার পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নুরুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, কৃষকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুততম সময়ে রাবার ড্যাম দুটি সচল করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে এখন নদীতে মিঠাপানির পর্যাপ্ত প্রবাহ বজায় রয়েছে যা পুরো মৌসুম জুড়েই কৃষকদের সহায়তা করবে।

বিষয় : চকরিয়া মাতামুহুরী

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬


মাতামুহুরীর দুই রাবার ড্যাম সচল: চকরিয়া - পেকুয়ায় বোরো চাষে নতুন আশা

প্রকাশের তারিখ : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার কয়েক লাখ  কৃষকের মুখে এখন চওড়া হাসি। অবশেষে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী নদীতে স্থাপিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দুটি রাবার ড্যামই সফলভাবে ফুলিয়ে সচল করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে চিরিঙ্গা ইউনিয়নের পালাকাটা-রামপুর এবং কোনাখালী ইউনিয়নের বাঘগুজারা পয়েন্টের ড্যাম দুটি সচল হওয়ায় নদীতে মিঠাপানির প্রবাহ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার প্রায় ৬০ হাজার একর জমিতে চলতি মৌসুমের বোরো ধান ও রকমারি সবজি চাষ নিয়ে কৃষকদের দীর্ঘদিনের শঙ্কা ও আতঙ্ক কেটে গেছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের গোড়াপত্তন হয়েছিল স্বাধীনতার পরপরই। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চকরিয়া উপজেলাকে ‘সবুজ বিপ্লবের’ আওতায় আনতে এবং কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে মাতামুহুরী নদীর মিঠাপানি ধরে রাখার উদ্যোগ নেন। তখন থেকেই প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে নদীর বাঘগুজারা ও রামপুর-পালাকাটা পয়েন্টে অস্থায়ী মাটির ‘ক্রসবাঁধ’ নির্মাণ করা হতো। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের মাধ্যমে ২০০৭ সাল পর্যন্ত এই পদ্ধতি বজায় রেখে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার চাষাবাদ নিশ্চিত করে আসছিল।

আরও পড়ুন, মহেশপুরে মোটর সাইকেলের চাকায় ওড়না পেচিয়ে নারীর মৃত্যু

পরবর্তীতে অস্থায়ী বাঁধের নানা জটিলতা নিরসনে ২০০৯ সালে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ‘মাতামুহুরী সেচ প্রকল্পের (২য় পর্যায়)’ আওতায় প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ীভাবে দুটি রাবার ড্যাম নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করে। এরপর থেকে প্রতি বছর যান্ত্রিক এই ড্যাম ফুলিয়ে চাষাবাদের জন্য পানি ধরে রাখা হয়। এবারের ড্যাম সচল করার প্রক্রিয়াটি বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। পাউবোর চকরিয়া উপজেলার শাখা কর্মকর্তা ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আতিকুর রহমান জানান, গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে পালাকাটা-রামপুর পয়েন্টের রাবার ড্যামটি ফুলানোর কাজ শুরু হয় এবং ২২ ডিসেম্বর তা সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে, পলিমাটি চাপা পড়ে প্রায় অচল হয়ে পড়া বাঘগুজারা পয়েন্টের রাবার ড্যামটি ১৮ ডিসেম্বর থেকে সচল করার কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সর্বশেষ ২৪ ডিসেম্বর এটি সফলভাবে ফুলিয়ে তোলা সম্ভব হয়। বর্তমানে ড্যাম দুটি সচল থাকায় মাতামুহুরীর প্রধান শাখাগুলোতেও মিঠাপানির প্রবাহ পৌঁছেছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ শাহীন দেলোয়ার নিজেই মাঠ পর্যায়ে রাবার ড্যাম দুটির তদারকি করেছেন। তিনি জানান, পলিমাটি জমে বাঘগুজারা রাবার ড্যামটি অচল হয়ে পড়ায় কৃষকরা শঙ্কিত ছিলেন। খবর পেয়ে আমি দ্রুত পরিদর্শনে যাই এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করি। পাউবো কর্মকর্তারা জরুরি ভিত্তিতে কাজ শেষ করায় এখন কৃষকদের মাঝে তৈরি হওয়া বিপদ কেটে গেছে।

আরও পড়ুন, চকরিয়ায় এমপি প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল আব্দুল আল ফারুকের

​চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ ফেরদৌসী বলেন, যথাসময়ে রাবার ড্যাম দুটি সচল হওয়ায় সেচ পাম্পের (স্কিম) মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত হবে। এতে শুধু বোরো ধান নয়, বিভিন্ন শীতকালীন সবজি চাষেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। কক্সবাজার পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নুরুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, কৃষকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুততম সময়ে রাবার ড্যাম দুটি সচল করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে এখন নদীতে মিঠাপানির পর্যাপ্ত প্রবাহ বজায় রয়েছে যা পুরো মৌসুম জুড়েই কৃষকদের সহায়তা করবে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত